এবারের নির্বাচনে বিএনপির সাথে জামায়াতের হেরে যাওয়া অনেক আসনে ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই সামান্য। বিএনপি জোট পেয়েছে ৪৯.৬ শতাংশ ভোট। আর জামায়াত জোট পেয়েছে ৩৭.৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানে দেখা যায় দুই জোটের ভোটের পার্থক্য ১২ শতাংশ। অথচ আসনের পার্থক্য ২১২-৭৭ = ১৩৫ আসন বেশি পেয়েছে বিএনপি। বেশকিছু আসনে ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত। সরকারি দলকে মনে রাখতে হবে, জামায়াত জোটকে প্রায় অর্ধেক মানুষ সমর্থন দিয়েছে। জামায়াত জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সরকারের ঠিকঠাক সমালোচনা করতে পারবেন বলেই আশা করা যায়।
তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তার দল বিএনপি এর আগে বেশ কয়েকবার দেশ চালিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে তারেক রহমান দেশ চালাবেন বলেই মানুষের প্রত্যাশা। যোগ্য বাবা এবং যোগ্য মায়ের যোগ্য সন্তান তারেক রহমান। তার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতির চাকা সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা। সমাজে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশাকে মূল্যায়ন করতে না পারলে বিএনপির এই বিপুল অর্জন বৃথা যেতে পারে। জুলাই জাতীয় সনদ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বিএনপিকে। তাদেরকে মনে রাখতে হবে, জুলাই বিপ্লব না হলে খালেদা জিয়া মুক্তি পেতেন না। তারেক রহমানও লন্ডন থেকে ফিরে আসতে পারতেন না। এমনকি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনও হতো না। গণতন্ত্র মুক্তি পেত না। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী সরকার ২০৪১ সাল পর্যন্ত থেকে যেত। সুতরাং সংস্কারকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। সেই সাথে জুলাইযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করতে হবে। যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, তাদের ভাতা দিতে হবে। চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিরোধী দলগুলোর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে সরকারকে। মনে করতে হবে সংসদে বৃহত্তম বিরোধী দল হলো ছায়া সরকার। তাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিয়মিত আলাপ চালিয়ে যেতে হবে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার তারেক রহমান আমিরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমান এবং এনসিপি নেতা নাহিদের বাসায় গিয়ে দেখা করেন। এটা সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির ইতিবাচক দিক। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। সব মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। বিপদের সময় তারাই এগিয়ে আসবেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই কাজটি করেছিলেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার আট রাষ্ট্র নিয়ে আঞ্চলিক সংস্থা ‘সার্ক’ গড়ে তোলেন। সার্ককে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে হবে তারেক রহমানকে।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক



