অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির ব্যর্থতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ। সেই আন্দোলনের ফলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। অনেক নেতা দেশে ফিরেছেন। অনেকের মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। ক্ষমতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এ ইতিহাস অস্বীকারের সুযোগ নেই। এখন সেই আন্দোলনের মূল প্রতীক-গণভোট বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে তরুণসমাজ মনে করছে, তাদের ভূমিকা অস্বীকার করা হচ্ছে। এ উপলব্ধি রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক। সবাই জানে, ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ বিচ্ছিন্ন হলে ক্ষমতা দুর্বল হয়। তরুণসমাজ বিচ্ছিন্ন হলে সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তি নড়বড়ে হতে পারে

রাজনীতিতে আবারো একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে— গণভোট, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন-রাষ্ট্রের জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকার রক্ষার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত আইন। এগুলো সংসদে তোলা হচ্ছে না। ফলে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এটি কেবল আইনি প্রক্রিয়া নয়; রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। স্পষ্ট করে বললে— ক্ষমতার রাজনৈতিক ভাষ্য।

জুলাই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও গণ-অংশগ্রহণ। সেই লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। নতুন সংসদের বিশেষ কমিটি তার মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রেখে পাসের সুপারিশ করেছে। ১৫টি সংশোধন করে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে; কিন্তু ২০টি অধ্যাদেশ— যেগুলো মূলত ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, সেগুলো বাদ পড়ছে। এখানেই প্রশ্ন।

সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ। এ অধ্যাদেশের লক্ষ্য ছিল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জনগণের সরাসরি মতামত নেয়া। অর্থাৎ— প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাথে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র যুক্ত করা। এখন সেটি কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক তত্ত্ববিদ জাঁ-জাক রুশো বলেছিলেন, ‘জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে নয়, জনগণের সম্মতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।’ গণভোট সেই সম্মতির সবচেয়ে সরাসরি পদ্ধতি। সেটি বাতিল করা মানে জনগণের কণ্ঠস্বর দুর্বল করা।

অভিযোগ উঠছে— ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করে গণভোট অধ্যাদেশ বাদ দেয়ার উদ্যোগকে অনেকে রাজনৈতিক পশ্চাৎপসরণ হিসেবে দেখছেন।

শুধু গণভোট নয়; কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ। এতে গুমকে চলমান অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের বিধান ছিল। ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুযোগ ছিল। ব্যক্তিগত আইনজীবী নিয়োগের অধিকার ছিল। এ অধ্যাদেশ বাতিল হলে গুমবিরোধী আইনি কাঠামো দুর্বল হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হান্না আরেন্ট লিখেছেন, ‘রাষ্ট্র যখন জবাবদিহি হারায়, তখন ক্ষমতা আইনের বদলে ভয়ে দাঁড়ায়।’ গুম প্রতিরোধ আইন সেই ভয়ের সংস্কৃতি ভাঙার একটি প্রচেষ্টা ছিল।

কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ। এতে দুদকের তদন্ত ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল। বিদেশে সংঘটিত আর্থিক অপরাধও তদন্তের আওতায় আনা হয়। সরাসরি এজাহার দায়েরের সুযোগ দেয়া হয়। কমিশনের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়। এ অধ্যাদেশ বাদ গেলে দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো আবার দুর্বল হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট ডাল বলেছেন, ‘গণতন্ত্র টিকে থাকে তখনই, যখন ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হয়।’ দুদক সংশোধন সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অংশ ছিল।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশও কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। এতে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল। সুপারিশ বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছিল। তদন্ত প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা হয়েছিল।

মোটকথা বাদ পড়ছে— গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশসহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারাবে।

আর সরাসরি রহিত করা হচ্ছে চারটি অধ্যাদেশ— সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ-২০২৪। এ চারটি অধ্যাদেশ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। বিচারক নিয়োগে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের বিধান ছিল। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল। আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকের মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, এসব অধ্যাদেশ সংশোধন করে নতুন আইন করা যেতে পারে। কিন্তু যদি দীর্ঘ সময় নেয়া হয়, তাহলে বুঝতে হবে, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায় না।

এখানেই রাজনৈতিক প্রশ্ন। সরকার কি সত্যি আইনগুলো শক্তিশালী করতে চায়? নাকি বাতিল করে নতুন করে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি করছে? রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জুয়ান লিনজ বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সঙ্কট আসে তখন, যখন নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করতে শুরু করে।’ অধ্যাদেশ বাতিলের এ প্রবণতা সেই আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে। অন্য দিকে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের বিধান। এ আইনের অধীনে জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক নিয়োগ হয়েছে। অর্থাৎ— ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার বিধান রাখা হয়েছে; কিন্তু জবাবদিহির আইন বাদ যাচ্ছে।

এখানে দ্বৈততা স্পষ্ট। ক্ষমতা বাড়ানোর আইন রাখা হচ্ছে। ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণের আইন বাদ যাচ্ছে। এটি রাজনৈতিক বার্তা। জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল রাষ্ট্রকে জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে আনা। গণভোট ছিল সেই চেতনার কেন্দ্র। গুমবিরোধী আইন ছিল নিরাপত্তাকাঠামোর সংস্কার। দুদক শক্তিশালী করা ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ। বিচার বিভাগ স্বাধীন করা ছিল আইনের শাসনের ভিত্তি। এই চারটি ক্ষেত্রে এখন পশ্চাৎপসরণ দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল পি হান্টিংটন বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা শক্তিশালী তার ওপর। প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে গণতন্ত্র কাগজে থাকে, বাস্তবে নয়।’ অধ্যাদেশ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত তাই কেবল আইনি বিষয় নয়। এটি রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা। সরকার কোন পথে হাঁটতে চায়— তার ইঙ্গিত।

প্রশ্ন হচ্ছে— গণভোট কেন বাদ? গুমবিরোধী আইন কেন স্থগিত? দুদকের ক্ষমতা বাড়ানো আইন কেন বাতিল? মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করার উদ্যোগ কেন বন্ধ? বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কাঠামো কেন সরানো হচ্ছে? এ প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর এখনো নেই। যদি যুক্তি হয়— আরো শক্তিশালী করা হবে, তাহলে সময়সীমা কোথায়? কখন নতুন আইন আসবে? কী পরিবর্তন আনা হবে? তা-ও পরিষ্কার নয়।

এতে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জুলাই আন্দোলন ছিল জনগণের ক্ষমতায়নের দাবি। অধ্যাদেশ বাতিলের এ প্রবণতা সেই দাবির বিপরীত।

গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন নয়। গণতন্ত্র মানে অংশগ্রহণ, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা। এ তিনটি ক্ষেত্রে যেসব আইন প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেগুলো এখন কার্যকারিতা হারাচ্ছে। এটি কাকতালীয় নয়। এটি রাজনৈতিক পছন্দ। এই পছন্দই নির্ধারণ করবে— জুলাই আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি বাস্তব হবে, নাকি ইতিহাসে হারিয়ে যাবে।

তরুণদের ক্ষোভ, সরকারের ঝুঁকিপূর্ণ পথচলা
গণভোট অধ্যাদেশসহ ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত এখন শুধু সংসদের বিতর্ক নয়। এটি রাস্তায় নামার ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দল জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এই তরুণরাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চালিকাশক্তি ছিলেন। সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

জুলাই আন্দোলন ছিল প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির বাইরে এক বিস্ফোরণ। নেতৃত্বে ছিল তরুণ সমাজ। তারা রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন চেয়েছিল। গণভোট অধ্যাদেশ সেই দাবির প্রতিফলন। এখন সেটি বাতিলের উদ্যোগকে তারা ভালোভাবে নেবে না।

রাজনৈতিক ইতিহাস বলে— যে শক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার পথ তৈরি করে, সেই শক্তিকে উপেক্ষা করলে শাসকগোষ্ঠী দ্রুত সঙ্কটে পড়ে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল পি হান্টিংটন লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়লে প্রতিষ্ঠান যদি তা ধারণ করতে না পারে, তা হলে অস্থিরতা তৈরি হয়।’ জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বেড়েছে; কিন্তু সিদ্ধান্তগুলো সেই অংশগ্রহণকে সঙ্কুচিত করছে।

আরেকটি বাস্তবতা আছে। দীর্ঘ দেড় যুগ রাজনৈতিক অচলাবস্থা ছিল। বিরোধী রাজনীতির দুর্বলতা ছিল। সেই দুর্বলতার সুযোগে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে— এমন অভিযোগ বহুবার উঠেছে। এই ইতিহাস এখনো তাজা। রাজনৈতিক ব্যর্থতা বাংলাদেশের ইতিহাসে বারবার বিপর্যয় ডেকে এনেছে। সামরিক শাসন এসেছে। গণতন্ত্র ভেঙেছে। ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। তাই বর্তমান সিদ্ধান্তকে অনেকে আত্মঘাতী বলছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জুয়ান লিনজ বলেছেন, ‘গণতন্ত্র মানে আস্থা এক দিনে ভাঙে না। ভাঙে ধাপে ধাপে।’ গণভোট বাতিল, গুমবিরোধী আইন স্থগিত, দুদক দুর্বল করা— এসব সিদ্ধান্ত সেই আস্থা ক্ষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরকারের যুক্তি— অধ্যাদেশগুলো আরো যাচাই করা হবে; কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা অন্য কথা বলছে। সংসদে তোলা না হলে অধ্যাদেশ বাতিল হবে। নতুন আইন কবে আসবে— তার নিশ্চয়তা নেই। এ অনিশ্চয়তা সন্দেহ বাড়াচ্ছে। তরুণদের প্রশ্ন সোজাসাপটা— জুলাই আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি কোথায়? জনগণের সরাসরি মতামতের পথ কেন বন্ধ? এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই।

অর্থনৈতিক বাস্তবতাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বৈশ্বিক উত্তেজনা। জ্বালানি বাজার অস্থির। ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে। এমন সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতিকে আরো চাপে ফেলবে। আসলে গণতন্ত্র টিকে থাকে সমঝোতায়, সংঘর্ষে নয়। এখন যে রাজনৈতিক আবহ তৈরি হচ্ছে, তা সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির ব্যর্থতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ। সেই আন্দোলনের ফলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। অনেক নেতা দেশে ফিরেছেন। অনেকের মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। ক্ষমতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এ ইতিহাস অস্বীকারের সুযোগ নেই। এখন সেই আন্দোলনের মূল প্রতীক-গণভোট বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে তরুণসমাজ মনে করছে, তাদের ভূমিকা অস্বীকার করা হচ্ছে। এ উপলব্ধি রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক। সবাই জানে, ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ বিচ্ছিন্ন হলে ক্ষমতা দুর্বল হয়। তরুণসমাজ বিচ্ছিন্ন হলে সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তি নড়বড়ে হতে পারে।

সরকার কি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চাইছে? নাকি অপ্রয়োজনীয় সঙ্ঘাতের দিকে এগোচ্ছে? ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত শুধু আইনগত বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক বার্তা। এ বার্তা তরুণদের কাছে নেতিবাচক। জুলাই আন্দোলনের শক্তি ছিল রাস্তায়। সেই শক্তি আবার সংগঠিত হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। ইতিহাস বলে— তরুণদের ক্ষোভ অবমূল্যায়ন করলে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়। হ

লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন