বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের পথচলার নব-অধ্যায় সূচিত হয়েছে। দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দু-তিন দফায় শপথ নিয়েছেন নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা। প্রথম শপথ গ্রহণ করেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা। দ্বিতীয় পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা, তৃতীয় পর্যায়ে এনসিপি। একই সংসদের এই তিন-তিনবার শপথ গ্রহণ ছিল ব্যতিক্রমী ঘটনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের দুটো শপথের কথা বলছিলেন। প্রথমটি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে। দ্বিতীয়টি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহণে কোনো দ্বিমত বা জটিলতা থাকার প্রশ্নই আসে না। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ পাঠ নিয়ে দ্বৈধতা সৃষ্টি হয়েছে। এটি সরকারি বেসরকারি বা স্বতন্ত্র—সব সদস্যের জন্য বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। তিন তিনবার পৃথকভাবে শপথ অনুষ্ঠান জাতীয় ঐক্যের জানান দেয় না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী শেষ গন্তব্য ছিল এই জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ জটিলতার পর দেশে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। সেই শুভসূচনায় ব্যতিক্রম অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ নিয়ে শুরুতেই জটিলতা দেখা দেয়। বিএনপি অবশ্য আগে থেকেই বলে আসছিল, সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে এ ধরনের শপথের উল্লেখ নেই। শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়ে দেন যে, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। কারণ, এর কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। বিএনপির এই অবস্থান রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তথা বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে। শপথ অনুষ্ঠানের প্রথম দিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জানায় যে, এ অবস্থায় আদৌ তারা শপথ নেবেন কি না তা ভেবে দেখার বিষয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচন-পরবর্তী শপথ অনুষ্ঠানে এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় নাগরিক সাধারণ হতাশ হন। শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুটো শপথই নেন। তবে তারা বিকেলে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। নিঃসন্দেহে এটি রাজনৈতিক সু-সংস্কৃতির ব্যতিক্রম। রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা প্রাথমিক বিরোধের মাঝে দীর্ঘ দূরত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের মাধ্যমে ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই রায় কার্যকর করার জন্যই সংবিধান সংস্কার পরিষদের পক্ষে শপথ নেয়ার কথা। আদেশ অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একই অনুষ্ঠানে পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেয়ার বিধান ছিল। উল্লেখ্য, ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার বিধি-বিধান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় এর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, এটি কেবল সরকার পরিবর্তন বা নতুন সরকার গঠন নয়, এটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশার নির্বাচন। ২৪’র গণ-অভ্যুত্থানের রক্তঝরা পটভূমিতে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিটি মৌলিক ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিনটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে— সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংলাপে প্রায় সব রাজনৈতিক দল সমঝোতা ও সহযোগিতার এক বিরাট ক্যানভাস নির্মাণ করেছে। বিএনপি সব সময়ই জাতীয় ঐক্য, সমঝোতা ও সম্প্রীতির কথা বলে এসেছে। শপথ গ্রহণ না করা তাদের অনুসৃত নীতির ব্যতিক্রম কিনা তা যৌক্তিকভাবেই জিজ্ঞাসা করা যায়। অবশ্য বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জুলাই সনদ তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও মতদ্বৈধতা রয়েছে। বিএনপির অবস্থান যৌক্তিক ব্যাখ্যা করে একদল বিশ্লেষক বলছেন: ‘কোনো এক প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মকে সাংবিধানিকভাবে সম্পূর্ণভাবে বেঁধে রাখতে পারে না। সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারে কিন্তু ভবিষ্যৎ সংসদের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই যুক্তি থেকেই বিএনপির নোট অব ডিসেন্টকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।’ এর বিপরীতে যুক্তি দিয়ে বলা হয়, ‘গণভোট ও নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া বিলম্বিত করার মাধ্যমে বিএনপি শুরুতেই অভ্যুত্থান এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষা পরিপন্থী অবস্থান নিলো— এটি দুঃখজনক। বিএনপি এখন বলছে, তারা তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী এগোবে। কিন্তু এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন আছে, ‘জনগণ একইসাথে তাদের প্রতিনিধিত্বশীল ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং গণভোটের মাধ্যমে সরাসরি মতামতও জানিয়েছে।
গণভোট সরাসরি জনগণের অভিব্যক্তি। গণতান্ত্রিক তত্ত্ব অনুযায়ী সরাসরি অভিব্যক্তির গুরুত্ব কম নয়। অতএব নোট অব ডিসেন্টের যেসব আপত্তি নীতিগত নয়, বরং পদ্ধতিগত বা তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর পুনর্বিবেচনা করা উচিত।’
শপথ নেয়া, না নেয়ার বিষয়ে নাগরিক প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। একজন জ্যেষ্ঠ আইনবিদ যুক্তি দেখাচ্ছেন যে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপি প্রতিনিধিদের শপথ না নেয়ার ফলে দলটির ও দেশের জন্য নতুন সূচনা যথার্থ হলো না। এর মাধ্যমে বিএনপি দু’ভাবে জনগণের রায় উপেক্ষা করল। প্রথমত, গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি নাগরিক হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। যেহেতু হ্যাঁ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করেছে, সেহেতু সংবিধান সংস্কার আদেশ জনগণের সম্মতিপ্রাপ্ত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং এর কার্যাবলি সংবিধান সংস্কার আদেশের উল্লেখযোগ্য বিষয়। এমনকি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার বিষয়টিও এই আদেশে অন্তর্ভুক্ত। পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের ফরমও এই আদেশে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। যেহেতু আদেশটি গণভোটে জনগণের সম্মতি লাভ করেছে, তাই এসব বিষয়ও জনগণের সম্মতিপ্রাপ্ত। কাজেই বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়া অবশ্যই জনগণের রায় অগ্রাহ্য করা। দ্বিতীয়ত, এই আইনজীবী দৃঢ়ভাবে যুক্তি দেখান যে, বিএনপি প্রধান তারেক রহমান সুস্পষ্টভাবে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাই এই প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় যে, বিএনপি যদি হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান না নিয়ে না এর পক্ষে অবস্থান নিতো, তাহলে নির্বাচনে তারা যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা করতে পারত কি না? না এর পক্ষে অবস্থান নিলে এমনো হতে পারত যে, বিএনপি নির্বাচনে খারাপ ফল করত। কাজেই বিএনপি গণভোটের ফলাফল উপেক্ষা করে এবং তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে জনরায় উপেক্ষা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করেন, শপথ নিয়ে এই বিতর্কের ফলে রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। এদিকে গণভোট পরিচালনা ও ফলাফলের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন হয়েছে। এতে গণভোট-২০২৬ এর ফলাফল বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। রিটে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ নয়। এটি একটি সাংবিধানিক ট্রাস্টি, যা কঠোরভাবে সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকতে বাধ্য। উল্লেখ্য যে, এ রিটটি পরাজিত স্বৈরাচারের প্রতিনিধিত্ব করে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে অস্বীকার করে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে না-এর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট এসেছে। পরাজিত পক্ষ তাদের নানাবিধ আইনি ও বেআইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। নির্বাচনের পর ওইসব এলাকায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর ঘটনা জুলাই সনদের বিপরীত সাক্ষ্য দেয়।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের মধ্য দিয়ে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন খাত, বিশেষ করে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছিল তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এটি নিয়ে সামনে রাজনৈতিক সঙ্কট ঘনীভূত হতে পারে। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা। এই আদেশেও জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে গণরায় এসেছে। সুতরাং সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন করার কথা সংবিধান সংস্কার পরিষদের। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা আছে, এবারের সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর একই শপথ অনুষ্ঠানে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। তারা একই সঙ্গে সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ঘোষিত বিধি-বিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্য দিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবেন। অবস্থা দৃশ্যে মনে হচ্ছে, বিএনপি রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং অন্যেরা আইনি বৈধতা অর্জনকে সমধিক তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় সংস্কার প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে তাদের মতামতই শেষ কথা— এরকম ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রচিন্তকরা এই দুই তত্ত্বকথার মাঝে এক সাগর ব্যবধান রয়েছে— এরকম মনে করেন না। এটিকে তারা প্রায়োগিক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ভিন্নমত মনে করেন। যেহেতু বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেহেতু আশা করা যায় যে, প্রতিশ্রুত ১৮০ দিনের মধ্যে জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। দৃশ্যমান বিতর্কটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে অসম্ভব নয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে মতদ্বৈধতা ও বিতর্ক স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের সন্তানদের রক্তের বিনিময়ে যে দ্বিতীয় আজাদি অর্জিত হয়েছে তা বৃথা যেতে পারে না। এটি কেবল একটি বিতর্ক বা বিবাদ নয়। এটি আমাদের গণতান্ত্রিক বিশ্বাসের ভিত্তি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণঐক্য অর্জিত হয়েছে, সেই গণঐক্যই আমাদের দিকনির্দেশনা দেবে। নির্বাচনের মাধ্যমে যেই প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দায় ও দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। গরিষ্ঠ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের যে ভিত্তিভূমি অর্জিত হয়েছে, তা ব্যর্থ হতে পারে না। জাতির ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের প্রশ্নে আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে, সরকারি ও বিরোধী দল জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করে গোটা জাতিকে আশ্বস্ত করবে।
লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়



