পয়লা বৈশাখের সাংস্কৃতিক রাজনীতি

মঙ্গল শোভাযাত্রা মূলত এ দেশের সেক্যুলারপন্থীদের বাংলা নববর্ষের একটি প্রতীকী সাংস্কৃতিক উপাদান। এর দৃশ্যমান রূপ, প্রতীক ও শৈল্পিক উপাদানের সবকিছু হিন্দু পুরাণ থেকে গৃহীত। মঙ্গল শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত প্রতীক, যেমন পেঁচা, বাঘ, হাতি, ময়ূর, সূর্য, শঙ্খ বা বিভিন্ন মুখোশ, এসব উপাদান হিন্দু পুরাণে ব্যবহৃত প্রতীকগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, পেঁচা হিন্দুদের লক্ষ্মী দেবীর বাহন হিসেবে পরিচিত, বাঘ বা সিংহ শক্তির প্রতীক হিসেবে দেবী দুর্গার সাথে যুক্ত, এসব প্রতীক হিন্দু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়। আর অর্থের দিক থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি শুভ, কল্যাণ বা পবিত্রতার ধারণার সাথে যুক্ত, যা হিন্দু ধর্মীয় আচারে ব্যবহৃত হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্দেশ্যও প্রতীকীভাবে অশুভ শক্তি দূর করে শুভ শক্তির আহ্বান করা, ধারণাটি হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সদৃশ।

বাংলা নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখের প্রচলনের ইতিহাস বহুস্তরীয়। এটি মূলত প্রশাসনিক ও কৃষিভিত্তিক প্রয়োজনের সমন্বয়ে ঘটলেও পরে সাংস্কৃতিক রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে এ দেশে সেক্যুলার আদর্শভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটে। আমরা আজ পয়লা বৈশাখকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক রাজনীতির দিক নিয়ে আলোচনা করতে চাই।

শুরুতে দেখে নেয়া যাক বাংলা সন প্রচলনের ইতিহাস। বাংলা সনের সূচনা মুঘল সম্রাট আকবরের সময়ে। ষোড়শ শতকে মুঘল শাসনামলে কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করা হতো হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী; কিন্তু চান্দ্র বছর কৃষি মৌসুমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ফলে ফসল তোলার মৌসুম ও কর আদায়ের সময়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা দিত। এই সমস্যার সমাধানে ফতেহউল্লাহ সিরাজিকে দায়িত্ব দেয়া হয় একটি নুন পঞ্জিকা প্রণয়নের। তিনি হিজরি চান্দ্র বর্ষ ও সৌর বছরের সমন্বয়ে একটি নতুন সন প্রবর্তন করেন, যা ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত হয়। পরে এই সনই ধীরে ধীরে ‘বাংলা সন’ বা ‘বঙ্গাব্দ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

সময়ের সাথে সাথে বাংলা সনের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখ শুধু অর্থনৈতিক বা প্রশাসনিক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মুঘল আমলে কৃষকের কাছ থেকে খাজনা আদায় ছিল বাংলা বর্ষ প্রচলনের মূল উদ্দেশ্য। আর ব্যবসায়ী সম্প্রদায় তাদের পুরনো লেনদেন চুকিয়ে নতুন করে হিসাব খুলতে বাঁধা ক্রেতাদের দাওয়াত করে মিষ্টিমুখ করাতেন। এটিকে বলা হয় ‘হালখাতা’। হালখাতা শব্দটি এসেছে ‘হাল’ (নতুন/বর্তমান) এবং ‘খাতা’ (হিসাবের বই) থেকে। অর্থাৎ, পুরনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলার প্রথাই হালখাতা। এই প্রথার সাথে পয়লা বৈশাখের সম্পর্ক শুরু হয় সম্রাট আকবরের বাংলা সন চালুর পর। তখন কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে খাজনা আদায় ও হিসাব-নিকাশ করার প্রয়োজন ছিল। নতুন বছরের প্রথম দিন, পয়লা বৈশাখ, এ হিসাব নবায়নে উপযুক্ত সময় হিসেবে নির্ধারিত হয়।

পয়লা বৈশাখ ধীরে ধীরে একটি সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়। গ্রামীণ মেলা, লোকসঙ্গীত এবং নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি বাংলাদেশে জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। শহরাঞ্চলে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দিনটি ঘিরে বিভিন্ন আয়োজন শুরু করে, যা পরবর্তী সময়ে জনপ্রিয় করে তুলতে ঠান্ডামাথায় ছড়িয়ে দেয়া হয়। শুরুতে বাংলা নববর্ষের প্রচলন অর্থনীতি, কৃষি ও লোকসমাজে থাকলেও তা পাকিস্তান আমলে সাংস্কৃতিক রাজনীতির প্রধান উপজীব্য হয়ে ওঠে। পাকিস্তান আমলে পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু করে সেক্যুলার সংস্কৃতিকর্মীরা। তবে এটি শুধু সাংস্কৃতিক উৎসব নয়; বরং সেক্যুলার রাজনীতির আদর্শিক কর্মসূচিতে রূপ নেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পয়লা বৈশাখকে মুসলিম জাতিসত্তার বিরুদ্ধে প্রতীক হিসেবে দাঁড় করানো হয়। অথচ এ দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ ইসলামে বিশ্বাসী।

পয়লা বৈশাখ সেক্যুলার চেতনা, বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়, যা মূলত কলকাতাকেন্দ্রিক বাঙালি সংস্কৃতির বর্ধিত সংস্করণ। এর মাধ্যমে চলে পূর্ব বাংলা অর্থাৎ আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসন।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনের দিন, যা দীর্ঘ দিন ধরে একটি সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল; কিন্তু পাকিস্তান আমলে ১৯৬৭ সালে ছায়ানট ঢাকার রমনা বটমূলে সেক্যুলার বাঙালি জাতীয়তাবাদের শেকড় গাড়তে বাংলা বর্ষবরণ কর্মসূচি পালন করে। সেই থেকে ঢাকায় সেকুল্যার মধ্যবিত্ত শ্রেণী পয়লা বৈশাখকে সাংস্কৃতিক রাজনীতির একটি মোক্ষম উপায় হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। অথচ এটি ছিল নির্ভেজাল লোকজ ও কৃষিনির্ভর ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। সময়ের সাথে সাথে উৎসবটি শুধু সাংস্কৃতিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক অর্থবোধ ও মতাদর্শিক সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী অবস্থান তৈরি করতে পয়লা বৈশাখকে সাংস্কৃতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ছায়ানটের সাথে সাথে ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা আনন্দ শোভাযাত্রার প্রচলন করেন। সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখোশে মূলত সেক্যুলার বাঙালি জাতীয়তাবাদের পালে প্রবল হাওয়া দিতেই এই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সেই আনন্দ শোভাযাত্রা নাম পাল্টে হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এটি দ্রুত পয়লা বৈশাখের একটি কেন্দ্রীয় আকর্ষণে পরিণত হয়। এর পর থেকে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বর্ণাঢ্য এবং ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক উৎসবে রূপ নেয়, রমনা বটমূল, চারুকলা প্রাঙ্গণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজন হতে থাকে।

মঙ্গল শোভাযাত্রার বয়স প্রায় ৪০ বছর। এটা স্থায়ী কোনো বিষয় না হলেও সেক্যুলারদের এ নিয়ে মায়াকান্নার শেষ নেই। অথচ দেশে দেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় জেঁকে বসা ক্ষমতাধররা যে জনসাধারণকে মোহগ্রস্ত করতে উৎসবকে ব্যবহার করে, সে কথা কথিত এই প্রগতিশীলরা ভুলে গেছে। এখানে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ তেমন একটি সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ। এর সাথে পয়লা বৈশাখের সম্পর্ক অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যদিও বহুকাল আগে থেকে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়ে আসছে। এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। গ্রাম থেকে শহরে সেটি পালিত হতো অন্যমাত্রায়, অন্যভাবে। সেটি এখন বিলুপ্ত হয়ে এসব শহুরে জায়গা দখল করেছে।

মঙ্গল শোভাযাত্রার শৈল্পিক রূপ হিন্দু ধর্ম, লোকজ ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যের উপাদান দিয়ে নতুন করে পুনর্গঠন করা হয়। বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিচয় জোরদার করতে বিভিন্ন সংগঠন নববর্ষ উদযাপন শুরু করে। এর সাথে পয়লা বৈশাখ ঘিরে মেলা ও অর্থনীতিতে যা প্রভাব পড়ে তা নতুন বাজার চাঙ্গা করে। এই বাজার ভারতের ব্যবসায়িক স্বার্থে একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী পয়লা বৈশাখের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে দেদার পয়সা খরচ করে। এসব চাকচিক্যের আড়ালে থাকে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ।

পয়লা বৈশাখকে একটি ‘বিশুদ্ধ বাঙালি পরিচয়ের’ প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে মুসলিম পরিচয়ের বিপরীতে দাঁড় করানো হয়েছে। সেক্যুলার ও বামপন্থী ধারার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী এই উৎসবকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যেন এটি মুসলিম পরিচয়ের সাথে সাংঘর্ষিক। এই কৃত্রিম দ্ব›দ্ব এ দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে জনগোষ্ঠীকে তীক্ষèভাবে বিভক্ত করে দিয়েছে, যা জাতীয় ঐক্য বিনষ্টে ভূমিকা রেখেছে। এখনো রাখছে।

ঢাকায় পয়লা বৈশাখের উদযাপনে মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ মুখোশ এবং নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এমনভাবে প্রচার করা হয়, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমান নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিষয়টি ঘিরে এক দিকে যেমন বিশ্বাসী মানুষ সমালোচনা করেছেন, অন্য দিকে কিছু রাজনৈতিক শক্তি সেই সমালোচনাকে ‘অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান’ বলে চিহ্নিত করার অপপ্রয়াস চালায়। ফলে একটি সাংস্কৃতিক উৎসব রাজনৈতিক মেরুকরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পয়লা বৈশাখ উদযাপন এমনভাবে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে একটি সেক্যুলার জাতীয়তাবাদী অর্থাৎ বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। এতে বহুত্ববাদী সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সহাবস্থানের পরিবর্তে একমাত্রিক সংস্কৃতির প্রচার ঘটানো হয়েছে। ফলে মুসলিম জাতীয়তাবাদ বা ধর্মীয় পরিচয়কে অবমূল্যায়নের প্রবণতা দিন দিন তীব্রতর হয়েছে। অথচ পয়লা বৈশাখ সব শ্রেণী-পেশা, ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের সেতুবন্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা পেতে পারত। যেমন, ইরানের নওরোজ উৎসব। কিন্তু প্যাগান কালচারের সমর্থক এদেশীয় কবি-সাহিত্যিক ও শিল্পীগোষ্ঠী একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় পয়লা বৈশাখের অন্তর্নিহিত সারবত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পয়লা বৈশাখ নিয়ে এই যে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও ব্যবহারের প্রবণতা, তা একটি বৃহত্তর মতাদর্শিক সঙ্ঘাতের প্রতিফলন। মুসলিম জাতীয়তাবাদ বনাম বাঙালি জাতীয়তাবাদের এ বিতর্কে সেক্যুলাররা পয়লা বৈশাখকে একটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছে। দেশে আদর্শিক বিভাজন উসকে দিয়েছে। পয়লা বৈশাখের কিছু উপাদান যেমন, মঙ্গল শোভাযাত্রা, শঙ্খ, আলপনা বা নির্দিষ্ট প্রতীকী চিত্র, ঢোল-করতাল হিন্দু লোকাচার বা ধর্মীয় সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত। যখন এসব উপাদান উৎসবের কেন্দ্রীয় ও ‘আবশ্যিক’ পরিচয় হিসেবে তুলে ধরা হয়, তখন তা ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় ঐতিহ্যের আধিপত্য তৈরি করে। পয়লা বৈশাখের বেলায় বাংলাদেশে তাই ঘটেছে। কিছু গোষ্ঠীর বক্তব্যে পয়লা বৈশাখকে ব্যবহার করে একটি ‘শুদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচয়’ গঠনের প্রচেষ্টা দেখা যায়। যেখানে ধর্মীয় বৈচিত্র্যের জায়গা সঙ্কুচিত হয়। এই প্রবণতা দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদী চিন্তার প্রভাবের অংশ হিসেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।

মঙ্গল শোভাযাত্রা মূলত এ দেশের সেক্যুলারপন্থীদের বাংলা নববর্ষের একটি প্রতীকী সাংস্কৃতিক উপাদান। এর দৃশ্যমান রূপ, প্রতীক ও শৈল্পিক উপাদানের সবকিছু হিন্দু পুরাণ থেকে গৃহীত। মঙ্গল শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত প্রতীক, যেমন পেঁচা, বাঘ, হাতি, ময়ূর, সূর্য, শঙ্খ বা বিভিন্ন মুখোশ, এসব উপাদান হিন্দু পুরাণে ব্যবহৃত প্রতীকগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, পেঁচা হিন্দুদের লক্ষ্মী দেবীর বাহন হিসেবে পরিচিত, বাঘ বা সিংহ শক্তির প্রতীক হিসেবে দেবী দুর্গার সাথে যুক্ত, এসব প্রতীক হিন্দু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়। আর অর্থের দিক থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি শুভ, কল্যাণ বা পবিত্রতার ধারণার সাথে যুক্ত, যা হিন্দু ধর্মীয় আচারে ব্যবহৃত হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্দেশ্যও প্রতীকীভাবে অশুভ শক্তি দূর করে শুভ শক্তির আহ্বান করা, ধারণাটি হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সদৃশ।

বিগত আওয়ামী লীগ আমলে মঙ্গল শোভাযাত্রার সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুখের আদলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রতিকৃতি দেখা গিয়েছিল। আবার টুপি-দাড়ি পরিহিত মুসলিমের মুখাবয়ব হাজির করা হয়েছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মূলত এই দু’টি প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়। ভিন্ন মত হেয় প্রতিপন্ন করাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। শোভাযাত্রায় যেসব প্রতীক থাকে, তাতে আপামর বাংলার সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে না। এটা আসলে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। ফ্যাসিবাদী জমানায় বিগত দেড় দশকে এ সাংস্কৃতিক আগ্রাসন শক্তভাবে শিকড় গেড়ে চার পাশে ডালপালা ছড়িয়েছে। প্রকৃত বাস্তবতায় পয়লা বৈশাখের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রতিবেশী ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তার করতে মুখ্য ভূমি পালন করেছে সেক্যুলাররা।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

[email protected]