পরিবর্তনের পক্ষ-বিপক্ষ

কেন পরিবর্তন চাওয়া, যে প্রত্যাশা তা তো রক্তেভেজা আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েই গেছে। এখন সেই সংস্কার বাস্তবায়নের পালা। সেখানে সবার সম্মতি লাগবে। এখন এখানে অসম্মতি প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ানোর অবকাশ নেই। তবুও ‘পক্ষ’কে শক্তিশালী করার জন্য ‘বিপক্ষ’কে দাঁড়াতে দিতে হয়। তাকে দাঁড়াতে দিতে হয় এ জন্য যে, তাতে ‘পক্ষ’র পক্ষের কণ্ঠ জোরালো হবে। এখানে পক্ষ আর বিপক্ষ নিয়ে টানাটানি বা রাজনীতি করার সুযোগ নেই। ‘পক্ষে’ কত বেশিজন জোরালো সমর্থন জানাবে সেটি শুধু হিসাবের ব্যাপার।

মানবালয়ে দিন দিন অধরা সমস্যার ডালপালা এমনভাবে গজাচ্ছে যে, সুন্দরবনের প্রাণিসম্পদের সংগঠন বাবাহকু (বাঘ, বানর, হরিণ, কুমির) প্রেসিডিয়াম প্রধান, বাঘ সম্প্রদায়ের বর্ষীয়ান নেতা সুন্দর মিয়া বেশ বিচলিত বোধ করছেন।

কেননা, মানবালয়ে যেকোনো বিবাদ বিসংবাদে সেখানকার সমাজ, অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে কোনো ধরনের বিপর্যয় দেখা দিলে তা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এমনকি খোদ সুন্দরবনের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। শুধু দুর্যোগের সময় স্মরণ সহানুভূতি প্রকাশে সীমিত সময়ের কার্যক্রমের দ্বারা মানবালয়ের প্রাকৃতিক রক্ষার ঢাল সুন্দরবনকে সুরক্ষা দেয়ার বিকল্প হতে পারে না।

তাছাড়া প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধনের যে প্রথা প্রচলিত রয়েছে তারও অবনতি ঘটতে দেখা সুন্দর মিয়ার জন্য দারুণ দুঃখজনক, তার পৌরুষে বাধে, তার মধ্যে নানান প্রতিক্রিয়ার উদ্রেক হয়। সুন্দরবন সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি পুনরুদ্ধারের জন্য বিদেশ থেকে যে অর্থ মানবালয়ে এসে থাকে তা সুন্দরবন তথা জীববৈচিত্র্য বিপর্যয় ঠেকানোতে ব্যবহার করা হয় না। সুন্দর মিয়া এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি দেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন গত সন্ধ্যায় সুতারখালির অদূরে আধারমানিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত অতি উঁচু পর্যায়ের এক পর্যালোচনা সভায়। সুন্দর মিয়ার সচিবালয় সূত্রে বাবাহকুর ঘরে পালা সংবাদ সংস্থা উবিসস (উড়ো বিভ্রান্তিকর সংশয় ও সন্দেহ) জানিয়েছে, বিবৃতি রচনার কাজ চলছে; আজ সন্ধ্যা নাগাদ এটি পর্ষদ সভায় অনুমোদিত হলে সম্প্রচার করা হবে।

সুন্দর মিয়া নিজেই বিবৃতিটিকে অতিমাত্রায় সময়োপযোগী মনে করছেন। কেননা, মাত্র সিকি সপ্তাহের মধ্যে মানবালয়ে নির্বাচন নামক উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে ‘পরিবর্তনে’র ওরফে সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষের জনমত যাচাইয়ের ব্যবস্থাও আছে। ঠিক এ সময়ে মানবালয়ের সব পক্ষকে বেশ ভেবেচিন্তে, সক্রিয় সজাগ থেকে তাদের মতামত দিতে হবে। সুন্দর মিয়া মনে করেন, একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে উপনীত হয়েছে মানবালয়ের সবাই। তাদের নিজেদের চিন্তাভাবনা পছন্দ-অপছন্দ যাচাই হবে আর বৈষম্যবিহীন সমাজ দেশ গড়ার জন্য সেখানে সবাই দীর্ঘদিন আন্দোলন করে সম্প্রতি স্বৈরাচারী সময় থেকে নিষ্কৃতি লাভ করেছে। সে সূত্রে পরিবর্তনের প্রত্যাশার সপক্ষে জনমত যাচাইয়েও অংশ নিতে হবে। ঠিক এই সময়ে মতামত প্রকাশে দোদুল্যমানতার পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া সমীচীন মনে করছেন না সুন্দর মিয়া। নতুন কায়দায় পুরাতন খাসলত (যার বিরুদ্ধে হাজার হাজার তাজা তরুণের রক্ত ঝরেছে) যাতে ফিরে না আসে সে জন্য ঐক্যবদ্ধ সবাইকে সজাগ করতে গিয়ে অনেকেই পারস্পরিক দোষারোপে সেই ঐক্য বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম যাতে না হয়, তা দেখা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবালয়ের অধিকাংশ জন এই পরিবর্তনের প্রত্যাশাকে যদি উচ্চকণ্ঠে তুলতে না আসে অথবা না পারেন তাহলে ভবিষ্যৎ সেই লাউ সেই কদুতে পরিণত হবে। পরিবর্তন বা সংস্কারে সম্মত সব পক্ষকে এটি নিশ্চিত করতে হবে, এটিই যারা আত্মত্যাগ করেছে তাদের প্রতি দেয়া অঙ্গীকার পূরণ। বাবাহকুর উচ্চকক্ষে সুন্দর মিয়ার প্রধান পরামর্শক কমিটি মানবালয়ের সবাইকে এ ব্যাপারে অবশ্যই ইতিবাচক থাকার আহ্বান জানানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নেতিবাচককে ইতিবাচক দ্বারা পরাভূত করার এটিই মোক্ষম সুযোগ ও সময়। পরিবর্তনের জন্য সবার প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার কোনো বিকল্প থাকতে নেই। নড়বড়ে অর্থনীতিতে জনমত যাচাইয়ে নেমে কাদা ছোড়াছুড়িতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের মহড়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ব্যাপারে সবাইকে সংশয় সন্দিহান হওয়ার পথ থেকে সরে এসে বাস্তবতার চিন্তাচেতনায় ফিরতে হবে।

বাবাহকুর উচ্চকক্ষের অধ্যক্ষ শিয়ালেন্দু মামাইয়া তার দফতরের প্রেস উইং কর্তৃক মানবালয়ের পত্রিকা থেকে সঙ্কলিত একটি সারসংক্ষেপ সুন্দর মিয়ার বিবৃতি রচনা অধিশাখাকে দিয়েছে যেখানে মানবালয়ের বর্তমান সমস্যার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে, ‘মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা; সিন্ডিকেটের কবল থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ব্যবসায়-বাণিজ্য অবকাঠামো নির্মাণ— সবই উদ্ধারকল্পে অন্তর্বর্তী সরকারকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সংস্কার প্রস্তাব প্রেসক্রাইবের দায়িত্ব সর্বাগ্রে করণীয় হিসেবে অর্পিত হয়েছে। কেননা, বিগত ১৫ বছর কিংবা তার আগে রাষ্ট্র এবং সরকারের মধ্যে আনুভূমিক ও ঊর্ধ্বমুখী সম্পর্ক ও শৃঙ্খলা ব্যাপকভাবে বিনষ্ট হয়েছে; একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার পণে দলীয়করণের ফলে রাষ্ট্রীয় সংস্থার দায়িত্ব পালন বিপথগামী বা বিপর্যস্ত, জনপ্রশাসন ও বাহিনীর পেছনে রাজনৈতিক উৎকোচে ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানান ধরনের বশংবদ বৈকল্য সৃষ্টি হয়। পক্ষপাতদুষ্ট আইনের শাসন, জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অবজ্ঞা-অমনোযোগ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনাকে দলীয় নির্বাচনের দ্বারা সর্বত্র দায়িত্বশীলতায় ঘুণে ধরে, সর্বত্র দুর্নীতি পরিব্যাপ্ত হওয়ায় ভূমি প্রশাসন, জনসেবা পরিষেবা সমাজসেবা শোষণ ও শাসনের পর্যায়ে চলে গিয়েছিল; মিডিয়া থেকে শুরু করে প্রায় সর্বত্র এমন এক সেলফ সেন্সরড পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে জন আস্থায় চিড় ধরিয়েছে। সিন্ডিকেটেড শক্তি ও সমস্যা বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে অর্থনীতি, রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগতকরণের পর্যায়ে পৌঁছায়। পররাষ্ট্রনীতি চলে যায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নতজানুকরণের পথে। ‘আয়নাঘরে’র মতো নারকীয় যন্ত্রণা, গুম, হত্যা ও অমানবিক কর্মকাণ্ড, ব্যাংক লুটসহ অর্থপাচার সর্বোচ্চ পর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে দানবীয় যন্ত্রে পরিণত হয়। সংবিধানকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবাদর্শের গঠনতন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ পদধারীর দ্বারা সংখ্যালঘুদের জমি দখল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন নিবর্তন ও গণহত্যার চক্রান্তকারীরাই এনাম হিসেবে রাষ্ট্রের বড় বড় পদ দখল করে। তারা এমন সব কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে জনমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমর্যাদা মারাত্মকভাবে নিন্দিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশন খাওয়া কর্মকর্তাকে প্রশ্রয় দেয়ার প্রয়াসে দেশ ও জাতির মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এসব অবস্থা থেকে প্রশাসন, বিভিন্ন বাহিনী, বিচারব্যবস্থাসহ সব নির্বাহী বিভাগকে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বকীয়তা উদ্ধার, সংবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর, আইনের শাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতির দুর্গতি দূর, সুশাসন, সদাচার ও জবাবদিহি ব্যবস্থার পুনর্বাসনকল্পে সংস্কার প্রস্তাব করে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ কথা অবশ্যই ঠিক, সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের ওপর। সুতরাং সেই নির্বাচনের আগে সংস্কার প্রস্তাব এমনভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা বাঞ্ছনীয় হবে, যা বাস্তবায়নের জন্য জনগণ ভোটের মাধ্যমেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার নির্বাচন করে তাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করতে পারে।

অতীতে, বিশেষ করে ১৯৯১ সালে এবং ২০০৯ সালে তদানীন্তন নির্বাচিত সরকারের কাছে তদপূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে রচিত সংস্কার প্রস্তাব ধোপে টেকেনি; বরং লক্ষণীয় হয়ে ওঠে, ২০০৮ সালের শেষে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি পালন বা পূরণের ব্যাপারে উপেক্ষার পথ বেছে নিয়েছিল; বরং যেসব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ইশতেহারে উল্লেখ না করেও একতরফাভাবে বাস্তবায়নে সচেষ্ট ছিল। ২০০৯ সালের সরকার বিজনেস কাউন্সিলের সুপারিশ চোখেও দেখেনি; বরং রেগুলেটরি রিফর্ম কমিশনের প্রয়াস-প্রচেষ্টা প্রতিবেদন বাতিল করে।

এসব কারণে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সামনে সংস্কার প্রস্তাব ও সুপারিশগুলো উপেক্ষার সুযোগ না রাখাটাই হবে জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন। সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করে নতুন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলকে জনগণের সামনে প্রতিশ্রুতি আদায়ে সচেতন থাকা বাঞ্ছনীয় হবে। ভাবি সরকার গঠনে ইচ্ছুক সবাইকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বা জবাবদিহীকরণের এটিই হবে সম্ভাব্য সর্বোত্তম উপায়। এ সময় ও সুযোগকে কেউ যেন ভিন্ন খাতে নিয়ে যেতে না পারে সেদিকে সবারই নিজ নিজ স্বার্থেই রাখতে হবে সজাগ দৃষ্টি।

কেন পরিবর্তন চাওয়া, যে প্রত্যাশা তা তো রক্তেভেজা আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েই গেছে। এখন সেই সংস্কার বাস্তবায়নের পালা। সেখানে সবার সম্মতি লাগবে। এখন এখানে অসম্মতি প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ানোর অবকাশ নেই। তবুও ‘পক্ষ’কে শক্তিশালী করার জন্য ‘বিপক্ষ’কে দাঁড়াতে দিতে হয়। তাকে দাঁড়াতে দিতে হয় এ জন্য যে, তাতে ‘পক্ষ’র পক্ষের কণ্ঠ জোরালো হবে। এখানে পক্ষ আর বিপক্ষ নিয়ে টানাটানি বা রাজনীতি করার সুযোগ নেই। ‘পক্ষে’ কত বেশিজন জোরালো সমর্থন জানাবে সেটি শুধু হিসাবের ব্যাপার।

সুন্দরবন ইনস্টিটিউট অব ইমপারসোনাল আইডিওলজির (আই-থ্রি) মুখ্য প্রতিবেদক সুনীল সুখারান গতকাল বটবুনিয়ায় সংবাদকর্মীদের সম্মেলনে বলেন, ‘পরিবর্তন প্রত্যাশা করে আত্মোৎসর্গ করে গেছেন যারা, তাদের স্বপ্ন পূরণে দৃঢ়চিত্ত হতে হবে। সবাইকে সমস্বরে পরিবর্তন চাইতে হবে; এখানে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকার অবকাশ নেই। দৈনিক হতাশা পত্রিকার প্রকাশক প্রভাশন পরিধা আই-থ্রি প্রধানের কাছে জানতে চান, তাহলে প্রতিপক্ষতা নিয়ে কেন কানাঘুষা চলছে বা চলবে?’ সুনীল সুখারান নিজে প্রকৃতি বিজ্ঞানের ডক্টরেট, তিনি বলেন, ‘আঁধার’ আছে বলেই তো ‘আলো’র কদর বেশি। যদি আঁধার আলোকে টেক্কা দিতে চায় তাহলে আলোকে সঙ্গত কারণে আরো সপ্রতিভ, সক্রিয় হতে হবে। আলোকে জয়ী হতে হবে। মুচকি হেসে সুনীল সুখারান আরো বলেন, কাজের চাইতে অকাজ নিয়ে মেতে থাকতে যারা ভালোবাসে তাদের মাথায় এসব ধান্ধা আসে। এসব ধান্ধায় ভোগা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যও ‘পরিবর্তন’ চাওয়া দরকার।

সুন্দর মিয়া তার বিবৃতি রচনার আগে গত রাতে তার চার শ’ বছর আগের এক পূর্বপুরুষের (যার আমলে তারা বিলেতিদের কাছ থেকে রয়্যাল বেঙ্গল উপাধি পেয়েছিলেন) সাথে চ্যাট জিপিটির মাধ্যমে জানতে পারেন, ‘ভয়-ভীতি সংশয় সন্দেহ সৃষ্টির সব উদ্যোগ ঐক্যবদ্ধ সবার সমন্বিত প্রত্যাশার কাছে হেরে যাবেই। এ দৃঢ়বিশ্বাসে বলীয়ান জাতির সামনে ভয়ের কিছু নেই। অনেকে অনেক কথা বলবে, তির্যক মন্তব্য ছুড়তে ছাড়বে না। এটিও পুরনো খাসলত। সুন্দর মিয়ার মেন্টর-মুরুব্বি অবিশ্বাস্যভাবে মন্তব্য রাখলেন, ‘এটি মনে রাখতে হবে, মানবালয়ে মিডিয়ায় এবং অন্যান্য অনেক জায়গায়, অর্থাৎ— ভেতরেই অতীতের ভূতপত্নীরা ভোল পাল্টিয়ে আছে। তারা কিভাবে পানি ঘোলা করা যায় এ চেষ্টা তা করবেই। কিন্তু প্রত্যেককেই তার নিজের ভালো নিজেকেই বুঝতে হবে। অতীতে বহুবার বহুভাবে মানবালয়ের জনগণকে ঠকানো হয়েছে, জুজুর ভয় দেখানো হয়েছে। ঠকানোর বিরুদ্ধে কড়া প্রতিরোধ গড়ে ওঠা দরকার।’ পূর্বপুরুষ সুন্দর মিয়াকে অভয় বাণী শোনালেন— ‘পরিবর্তন প্রত্যাশার জয় হবেই। হতেই হবে।’

লেখক : সাবেক সচিব, কলাম লেখক