(প্রথম কিস্তি)
আওয়ামী লীগ যখন একের পর এক নির্বাচনের নামে জাতির সাথে প্রহসন করে যাচ্ছিল। তারা যখন বারবার সংবিধানের দোহাই দিচ্ছিল। তখন তদানীন্তন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন ‘এই সংবিধান হলো আওয়ামী লীগের ইশতেহার। ---- যেদিন জনগণের সরকার আসবে, সেদিন এই সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেয়া হবে। এই সংবিধান কোনো সংবিধান নয়।’ বেগম জিয়া তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার মতো এক সাথে পাঁচটি আসনে বিপুল ভোটে বারবার নির্বাচিত হওয়ার দ্বিতীয় কোনো দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে নেই। তিনি ছিলেন কয়েক দশক ধরে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী। এর বড় প্রমাণ তার ইন্তেকালের পর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি। তিনি একটি দলের নেতা ছাপিয়ে জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। তিনি যখন সংবিধান নিয়ে এমন কথা বলেছিলেন, তখন তা ভালোভাবে বুঝেশুনে বলেছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছিলেন। আজ আমরা আলোচনা করে দেখব যে, বিদ্যমান সংবিধান সম্পর্কে বেগম জিয়ার কথাগুলো কতটা বাস্তবসম্মত ছিল।
১৯৭১ সালে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর সরকারের প্রথম দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করা। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শেখ মুজিব ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন। এতে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থার কথা বলা হয়। রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিক প্রধান হন। ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
বাংলাদেশের সংবিধান রচনার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে গণপরিষদ আদেশ জারি। আদেশ জারি করা হয় ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ এবং ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে কার্যকর বলে ধরা হয়। এ আদেশ অনুযায়ী, ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের আসনসমূহে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত সব প্রতিনিধিকে নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়। ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ সংবিধান রচনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ ১৯৭২ সালে জারি করা হয়। ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের যারা সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা গণপরিষদের সদস্য (৪৩০ জন সদস্য) হন। গণপরিষদ শুধু সংবিধান রচনার অধিকার পায়। অন্যান্য আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতা ছিল না। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়। এতে ৩৪ সদস্য (৩৩ আওয়ামী লীগ+১ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত) ছিল। এই কমিটি ৭৪টি বৈঠকে বসে। সেই সাথে ৩০০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে। ছয় মাসের মধ্যে কমিটি কাজ শেষ করে। কমিটি বিভিন্ন মহল থেকে মাত্র ৯৮টি সুপারিশ পায়। ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান বিল গণপরিষদে পেশ করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দল পাঁচ দিন বৈঠকে বসে।
সংবিধান প্রণয়নে বিতর্ক
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও তার দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলা ছাত্র ইউনিয়ন যুক্তি উপস্থাপন করে, এ গণপরিষদের সংবিধান প্রণয়নের কোনো বৈধতা নেই। কারণ গণপরিষদ সদস্যদের স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সংবিধান প্রণয়নের কোনো ম্যান্ডেট জনগণ দেয়নি। বরং ইয়াহিয়া খানের দেয়া শর্তানুযায়ী ‘লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডারের’-ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের জন্য সংবিধান প্রণয়নের ব্যাপারে তারা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মেনিফেস্টো বা তাদের নির্বাচনী বক্তৃতায় কোথাও স্বাধীন বাংলাদেশের কোনো ধারণা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণকে দেয়া হয়নি। সুতরাং পাকিস্তানের জন্য নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্যরা স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান তৈরির কোনো অধিকার রাখেন না। তারা দাবি করেন, সংবিধান প্রণয়ন ও গণভোটে তা অনুমোদিত হতে হবে।
মওলানা ভাসানী ছয়টি দলকে একত্রিত করে ‘সর্বদলীয় অ্যাকশন কমিটি’ গঠন করেন। সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর ভাসানী বলেন, ‘একটা বাজে গণপরিষদ কর্তৃক জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া সংবিধান বাতিল করে সরকারের ভেতরের ও বাইরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নতুন খসড়া সংবিধান তৈরির জন্য সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিত।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এবং কৃষক-শ্রমিক সমাজবাদী দল অভিমত প্রকাশ করে, এ সংবিধানে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়নি। বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগ দাবি করে, প্রণীত সংবিধান একটি উত্তম সংবিধান। একইসাথে গণপরিষদও বৈধ। তাদের মতে, পরাজিত দল নিয়ে সংবিধান প্রণয়নের প্রশ্নই ওঠে না। লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিরোধী দলগুলোর আপত্তি ও সমালোচনা ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং তা মূলত পত্রিকার পাতায় সীমাবদ্ধ। বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মধ্য থেকে স্বল্পসংখ্যক সাংবিধানিক বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী দলগুলোর অনুপস্থিতির ফলে সংবিধান সম্পর্কে তাদের কোনো অভিমত প্রকাশিত হয়নি। খসড়া সংবিধানের ওপর জনমত গ্রহণ বা যাচাইয়ের তেমন কোনো সময় ও সুযোগ দেয়া হয়নি। সংবিধান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের ওপর পরামর্শ আহ্বান করেছিল। কিন্তু জনগণ তাতে তেমন সাড়া দেয়নি। কমিটি জনমত যাচাইয়ে কোনো প্রশ্নমালা জারি করেনি। সময়ও দিয়েছিল মাত্র তিন সপ্তাহ। আবার গণপরিষদে আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্যদেরও সংবিধানের ওপর আলোচনার তেমন সুযোগ দেয়া হয়নি। মোট ৪০৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৭৫ জন আলোচনার জন্য নাম দিয়েছিলেন। ৪৮ জনকে সুযোগ দেয়া হয়। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ছিলেন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য। আবার ৪৫ জন ছিল আওয়ামী লীগের।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি নির্ধারণের নেপথ্যে
১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সব আদর্শ এ সংবিধানের মূলনীতি হবে। ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রণীত সংবিধানে যে বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র প্রতিফলিত হয়েছে, তা তাদের দলীয় নীতি ও কৌশলের বহিঃপ্রকাশ ছিল। শেখ মুজিব যেভাবে চেয়েছিলেন, ঠিক সেভাবে সংবিধান তৈরি হয়েছিল। অবশ্য মুজিবের চিন্তাধারায় যেসব অসঙ্গতি ছিল তার প্রভাব সংবিধানেও পড়ে। আওয়ামী লীগের সূচনা থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত দলটির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে তাদের নীতি বিচ্যুতিগুলো সহজে ধরা পড়বে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঘোষণা করেছিল, ‘কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না।’ নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ১৬৭ এবং প্রাদেশিক পরিষদের ২৮৮ মোট ৪৫৫ জন নির্বাচিত সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শেখ মুজিব তাদের ‘করুণাময় ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার’ নামে শপথ বাক্যপাঠ করান। সবশেষ বাক্যটি ছিল ‘আল্লাহ আমাদের প্রচেষ্টায় সহায় হোন’।
আওয়ামী লীগ ৬ জুন ১৯৭০-এ কাউন্সিল অধিবেশনে ঘোষণা করে, কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে যাতে কোনো আইন পাস হতে না পারে, তজ্জন্য আওয়ামী লীগ শাসনতান্ত্রিক বিধান রাখবে। এতে আরো বলা হয়, শাসনতন্ত্রের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের পবিত্রতা রক্ষার গ্যারান্টি দেয়া হবে এবং সব পর্যায়ে ধর্মীয় শিক্ষাদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। আইনের দৃষ্টিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সমমর্যাদার অধিকারী বিবেচিত হবে এবং আইনের দ্বারা সমানভাবে তাদের নিরাপত্তা বিধান করা হবে। সংখ্যালঘুদের নিজ নিজ ধর্ম আচরণ, প্রচার ও ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। (মওদুদ আহমেদ, বাংলাদেশ শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল, ২০১৬)
১৯৭০ সালে নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগের সংবিধান প্রণয়ন কমিটি কর্তৃক পাকিস্তানের জন্য যে খসড়া সংবিধান তৈরি করা হয় তাতে উল্লেখ ছিল, ‘পাকিস্তানের মুসলমানদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গড়ে তোলা হবে।’ ওই খসড়া সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে বলা হয়েছিল যে, (১) কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না; (২) মুসলমানদের মধ্যে ইসলামী নৈতিকতা উন্নয়নের পদক্ষেপ নেয়া হবে। অবশ্য ওই খসড়ায় পাকিস্তানে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করার কথা বলা হয় : With a view to achieving a just and egalitarian society, free from exploitation of man by man, and of region by region, a socialistic economic system shall be established. (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, তথ্য মন্ত্রণালয়, ১৯৮২, ৩য় খণ্ড)
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ভাষণে ‘সেক্যুলারিজম’ বা ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’-র কোনো কথা বলেননি। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ‘সেক্যুলারিজম’ বা ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’-র কোনো কথা বলা হয়নি। বরং তাতে মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছিল : ‘বাংলাদেশের জনগণ (১৯৭০-এর নির্বাচনে) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যেই ম্যান্ডেট প্রদান করিয়াছে সেই ম্যান্ডেট অনুযায়ী আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ আমাদের সমন্বয়ে গণপরিষদ গঠন করিয়া পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য ‘সাম্য’, ‘মানবিক মর্যাদা’ ও ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ-এ রূপান্তরিত করার ঘোষণা প্রদান করিতেছি।(প্রাগুক্ত)
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন জনগণের উদ্দেশে যে বেতার ভাষণ দেন তাতে বলেন: ‘বাংলাদেশের নিরন্ন দুঃখী মানুষের জন্য রচিত হোক এক নতুন পৃথিবী যেখানে মানুষ মানুষকে শোষণ করবে না। আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক ক্ষুধা, রোগ, বেকারত্ব আর অজ্ঞতার অভিশাপ থেকে মুক্তি। গড়ে উঠুক নতুন গণশক্তিকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা, গণমানুষের কল্যাণে সাম্য আর সুবিচারের ভিত্তিপ্রস্তরে লেখা হোক জয় বাংলা, জয় স্বাধীন বাংলাদেশ।’ (প্রাগুক্ত)
১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল প্রবাসী সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারকে চিঠি দেয়া হয় বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে। ওই চিঠিতে স্বাধীনতা ঘোষণা, সরকার গঠন ইত্যাদির কথা উল্লেখ থাকলেও কোনো রাষ্ট্রীয় মূলনীতির কথা ছিল না। ভারত এতে কোনো সাড়া দেয়নি। ১৯৭১ সালের ১৫ অক্টোবর আবার চিঠি দেয়া হয়। সে চিঠিতে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বিশেষভাবে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর জুলুম-নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়; যাতে ভারতকে প্রভাবিত করা যায়। ভারত দ্বিতীয় চিঠিরও জবাব দেয়নি। এরপর কোনো এক ইশারায় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সালের ২৩ নভেম্বর প্রথমবারের মতো ভিন্নতর রাষ্ট্রীয় মূলনীতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়ে আবেদন জানায়। এ চিঠিতে ভারত স্বীকৃতি না দেয়ায় হতাশা প্রকাশ করে আশ্বাস দেয়া হয়, ভারত সরকারের নীতির সাথে নতুন বাংলাদেশের বিশেষ কোনো পার্থক্য হবে না। এতে বলা হয় : You have shown unflinching support to the principles of democracy, secularism, socialism and a non-aligned foreign policy…. We should like to reiterate here what we have already proclaimed as the basic principles of our state policy, i.e. democracy, socialism, secularism, and the establishment of an egalitarian society. Where there would be no discrimination on the basis of race, religion, sex, or creed. In our foreign relations, we are determined to follow a policy of non-allignment, peaceful co-existence and opposition to colonialism, racialism and imperialism in all its forms and manifestations. Against this background of this community of ideals and principles, we are unable to understand why the Government of India has not yet responded to our plea for recognition. (প্রাগুক্ত, পৃ: ৮৯২)
এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ ভারতের লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ঘোষণা করেন, ‘আমাদেরই মতো গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদের আদর্শে বিশ্বাসী বাংলাদেশকে স্বীকৃতি জানানোর ঘোষণা করছি।’ সেদিন পার্লামেন্টে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও দেয়া হয়। (উপেন তরফদার, বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ, জুন ২০০০, ঢাকা)
লেখক : গবেষক ও সাবেক সচিব



