সুশাসনের ধারণা একটি নবতর প্রয়াস। মূলত শাসন মানেই সুশাসন হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শাসন মানেই এখন আর সুশাসন নয়। বাস্তবে সুশাসনের ধারণা ও প্রয়োগে অনেক জঞ্জাল জমা হয়েছে। ১৯৯১ সালে বিশ্বব্যাংক আফ্রিকার অর্থনীতির ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সমীক্ষায় দেখা যায়, শাসনের ভালো দিকগুলো সেখানে উপেক্ষিত হয়েছে। বরং দুর্নীতি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরেছে। আফ্রিকায় অনুন্নয়নের উদাহরণ দিয়ে বলা হয় যে, ১৯৮০-র দশকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল দেড় থেকে ২ শতাংশের মধ্যে। এ সময় আফ্রিকায় বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ ছিল মোট জাতীয় উৎপাদন (Gross National Product-GNP) এর ৫-৭ শতাংশ। লক্ষণীয় বিষয় ছিল ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত এক দশকে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ মোট জাতীয় উৎপাদনের ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধির হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, সুশাসনের অনুপস্থিতির কারণে আফ্রিকার আর্থসামাজিক অধঃগতি হয়েছে। তাই তারা সুশাসনের তত্ত্ব ও বাস্তবতার আলোকে আফ্রিকান দেশগুলোর সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে চেয়েছে।
আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘সুশাসন’ (Good Governance) ধারণাটি কেবল প্রশাসনিক দক্ষতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক ও নৈতিক কাঠামো, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রয়োগ আইনের সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং শাসকগোষ্ঠী জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় থাকে। কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণার কেন্দ্রে এই সুশাসনই অবস্থিত, কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে একটি কার্যকর যোগসূত্র স্থাপন করে এই শাসনব্যবস্থা। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহের ক্ষেত্রে সুশাসন আরো বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, প্রশাসনিক অকার্যকারিতা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে প্রায়ই ব্যাহত করে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিশ্লেষণে সরকারকে সুশাসনের প্রধান কারিগর হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও আধুনিক গণতান্ত্রিক তত্ত্ব রাষ্ট্রক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণকে সমান গুরুত্ব দেয়। নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সক্রিয়ভাবে যুক্ত না হলে সুশাসনের প্রচেষ্টা কখনোই টেকসই হয় না। ফলে সুশাসনকে একটি একক রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নয়, বরং সমাজব্যাপী যৌথ প্রকল্প হিসেবে বোঝা অধিকতর যৌক্তিক।
সুশাসনের মৌলিক ভিত্তি হলো আইনের শাসন (Rule of Law)। এ ধারণার অন্তর্নিহিত নীতি হচ্ছে—রাষ্ট্রের সব নাগরিক, ক্ষমতার অবস্থান নির্বিশেষে, আইনের দৃষ্টিতে সমান। আইন প্রয়োগে বৈষম্য দেখা দিলে রাষ্ট্রের নৈতিক কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন হয় এবং নাগরিকদের মধ্যে ন্যায়ের ধারণা দুর্বল হয়ে পড়ে। গবেষণা নির্দেশ করে যে, যেখানে আইনের শাসন দুর্বল, সেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ক্রমে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, সামাজিক সংহতি ভেঙে পড়ে এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার আস্থার সঙ্কট গভীরতর হয়।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সুশাসনের অপরিহার্য স্তম্ভ। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি স্তর জনপর্যবেক্ষণের আওতায় না এলে দুর্নীতির ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক সম্পদের অপচয় ঘটায় না; এটি নাগরিকদের মধ্যে রাষ্ট্রবিমুখতা সৃষ্টি করে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমায়। জবাবদিহি বলতে বোঝায়, সরকার তার নীতি ও কর্মকাণ্ডের যৌক্তিক ব্যাখ্যা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে বাধ্য থাকবে। এই দায়বদ্ধতার কাঠামোই রাষ্ট্রকে নাগরিকদের দৃষ্টিতে বৈধতা দেয় এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্বকে নৈতিক ভিত্তির ওপর স্থাপন করে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সুশাসনের সহায়ক পরিবেশ নির্মাণ করে। সঙ্ঘাতমুখর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করে এবং সামাজিক নিরাপত্তা দুর্বল করে তোলে। উন্নয়ন স্থবির হলে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়, যা অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অসন্তোষ উসকে দেয়— এভাবে রাষ্ট্র একটি দুষ্টচক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। বিপরীতে, স্থিতিশীল রাজনৈতিক কাঠামো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আকর্ষণ করে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনে এবং মানব উন্নয়ন সূচকে অগ্রগতির পথ সুগম করে। এই অগ্রগতিই সুশাসনের বাস্তব রূপ।
দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ছাড়া সুশাসন কল্পনাতীত। রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে আমলাতন্ত্র, সংসদ ও বিচার বিভাগ— রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সম্পদের সুষম বণ্টন সম্ভব হয় এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদায়ন কার্যকর হয়। যেখানে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, সেখানে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জনকল্যাণের পরিবর্তে শোষণের যন্ত্রে পরিণত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তোলে।
রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়নের প্রধান বাহক হিসেবে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশাসনিক কাঠামো যদি জবাবদিহিমূলক না হয়, তবে সর্বোত্তম নীতিও কার্যকর ফল দিতে ব্যর্থ হয়। ঔপনিবেশিক শাসনামলে গড়ে ওঠা অনেক প্রশাসনিক রীতি এখনো বহাল রয়েছে, যা নাগরিককেন্দ্রিক শাসনের ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তায় আমলাতন্ত্রকে জনগণের সেবক হিসেবে পুনর্গঠনের ওপর জোর দেয়া হয় আইনি সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও পেশাগত নৈতিকতার মাধ্যমে।
গণতন্ত্রের কার্যকারিতা অনেকাংশে শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। বিরোধী দল সরকারের নীতির সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে। রাজনৈতিক বহুত্ববাদ (Pluralism) যেখানে সঙ্কুচিত হয়, সেখানে সঙ্ঘাত ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বৃদ্ধির ঝুঁকি দেখা দেয়। কার্যকর বহুদলীয় ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী— উভয়পক্ষই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে এবং জনকল্যাণমূলক নীতিনির্ধারণে সচেষ্ট হয়।
শিক্ষা সুশাসনের সামাজিক ভিত্তি নির্মাণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। শিক্ষিত নাগরিকরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কর্তব্য পালনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন। সামাজিক গবেষণায় দেখা যায়, নাগরিক সচেতনতা যত বাড়ে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ তত শক্তিশালী হয় এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের মাত্রা তত বিস্তৃত হয়।
নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর স্বাধীনতা সুশাসনের জন্য অপরিহার্য। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন রাজনৈতিক বৈধতার ভিত্তি তৈরি করে, আর স্বাধীন বিচার বিভাগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একই সাথে শক্তিশালী নিরীক্ষা ব্যবস্থা ও সংসদীয় নজরদারি রাষ্ট্রের জবাবদিহি কাঠামোকে সুদৃঢ় করে।
স্বাধীন গণমাধ্যমকে আধুনিক রাষ্ট্রে ‘সুশাসনের প্রহরী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও জনমত গঠনের মাধ্যমে এটি শাসকগোষ্ঠীকে জবাবদিহির আওতায় আনে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারব্যবস্থা জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে, স্থানীয় সমস্যার সমাধানে নেতৃত্ব গড়ে তোলে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে, তখন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা (Participatory Governance) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে আরো দৃঢ় করে এবং নীতিপ্রণয়নকে জনমুখী করে তোলে। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সুপারিশ— স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, দক্ষ প্রশাসন, চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা— সবই এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অংশ।
তবে এসব কাঠামো তখনই কার্যকর হয়, যখন রাষ্ট্র দারিদ্র্য বিমোচনে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রদর্শন করে। দারিদ্র্য সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধপ্রবণতার জন্ম দেয়, যা আইনের প্রয়োগ দুর্বল করে তোলে। ফলে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে সুশাসনের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, সুশাসন কেবল সরকারের সদিচ্ছার ফল নয়; এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক শক্তি ও নাগরিক সমাজের যৌথ প্রয়াসের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিক— এই উপাদানগুলো সমন্বিত হলেই একটি রাষ্ট্র টেকসই সুশাসনের পথে অগ্রসর হতে পারে। নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধু ভোট দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চা, আইন মেনে চলা, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে নজরদারি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমেই আমরা সুশাসনের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করতে পারি। আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের দর্শন মূলত এখানেই নিহিত।
বিশ্বব্যাংক সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ১০টি সুপারিশ পেশ করেছে- ১. স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ২. সরকারি কাজে দক্ষতা ৩. বৈধ চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন ৪. জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ৫. স্বাধীন সরকারি হিসাব নিরীক্ষক ৬. প্রতিনিধিত্বমূলক আইন সভার নিকট দায়বদ্ধতা ৭. আইন ও মানবাধিকার সংরক্ষণ ৮. সাংগঠনিক কাঠামোর বহুমুখীকরণ ৯. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ১০. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। এ ১০টি সুপারিশ যদি একত্রিত করা হয়, তাহলে দেখা যাবে এগুলো দেশে গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থার বিষয়-বৈশিষ্ট্য।
বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র গতকাল দীর্ঘকাল পরে একটি নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু জাতীয় সনদের মাধ্যমে মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়েছে তা ওইসব সুপারিশের পরিপূরক। মানুষ চায় যে দলই সরকার গঠন করুক, তারা আমাদের বিচারব্যবস্থাকে দলতন্ত্রে পরিণত না করুক। সরকারি কাজে যে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি ও অনিয়ম দৃশ্যমান— তার যেন অবসান হয়। সরকারের সাথে অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়নকার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে যে চুক্তি বা ব্যয় বরাদ্দ হয়, তা যেন স্বচ্ছ ও ন্যায়ানুগ হয়। যেকোনো ব্যক্তি বা ব্যবস্থায় জবাবদিহির ব্যবস্থা না থাকলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রচলিত কথাটি এরকম যে, Absolute power corrupts absolutely. সার্বিক ক্ষমতা সার্বিকভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত করে। সুতরাং নেতৃত্বকে, প্রশাসনকে ও উন্নয়নের ধারকদের পদে পদে জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় বা কেন্দ্রীয়ভাবে হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা অবশ্যই স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নৈর্ব্যত্তিক হবে। আর সব কার্যক্রমের জন্য জাতীয় সংসদের কাছে নির্বাহী কর্তৃত্ব দায়বদ্ধ থাকবে। শাসকগোষ্ঠী অবশ্যই আইন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করবে। কোনো ব্যবস্থাই একক বা Sole Agency ধরনের হবে না। গণতন্ত্রে যেমন আমরা বলি ‘শতফুল’ ফুটতে দিতে হবে, তেমনই সব কার্যক্রমে বহু ব্যক্তি ও বহুমুখী ব্যবস্থা থাকতে হবে। আর সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের আয়না, গণ-অধিকারের রক্ষাকবচ। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। আজকের প্রযুক্তি বিপ্লবের যুগে মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা করার মেকানিজম দৃশ্যমান। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা থেকেও আমরা এটি লক্ষ করেছি। সুতরাং সুশাসন নিশ্চিতকরণে জনগণ যেমন বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়ে এই নির্বাচনকে সার্থক করেছে, তেমনি সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য নাগরিক সাধারণকে সদা সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। অবশেষে Thomas Jefferson-এর সেই চিরায়ত উক্তিটি দিয়ে শেষ করি : Eternal vigilance is the price of liberty. স্বাধীনতার চিরন্তন মূল্য হলো সতর্কতা।
লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়



