ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ

পানি ঘোলা করে লাভ নেই

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা জেরিম্যান্ডারিংয়ের (জেরিম্যান্ডারিং হলো নির্বাচনী সীমানা এমনভাবে পুনর্বিন্যাস করা, যাতে রাজনৈতিক সুবিধা একটি বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর জন্য নিশ্চিত করা যায়)। ২০০৮ সালের এমন নির্বাচনের মাধ্যমে সাড়ে ১৫ বছর জাতির ঘাড়ে চেপে বসে আওয়ামী অপশাসন। শেখ হাসিনা কায়েম করেন ফ্যাসিবাদী শাসন। পরপর তিনটি নির্বাচন তামাশায় পরিণত করা হয়। একতরফা ইলেকশন, দিনের ভোট রাতে এবং আমি-ডামির নির্বাচন জাতি প্রত্যক্ষ করে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে চব্বিশের জুলাইয়ে বর্ষা বিপ্লবের মাধ্যমে জাতি মুক্তির স্বাদ পায়

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চ্যানেল ওয়ানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন কথা বলেছেন, যা নিয়ে দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। জামায়াত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছে, রিজওয়ানার কথায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে রিজওয়ানা পরে দাবি করেন তার বক্তব্য মিডিয়ায় বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাতে রিজওয়ানার বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক থামছে না। কী এমন কথা বলে রিজওয়ানা বিতর্কের ঝড় তুলেছেন! তিনি বলেছেন, ধর্মীয় উগ্রবাদীদের মেইন স্ট্রিমে আসা ঠেকিয়েছে। উপস্থাপক পাল্টা প্রশ্ন করেন, তাদের একটি অংশ তো এখন বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাদের ব্যাপারেও উষ্মা প্রকাশ করেছেন রিজওয়ানা।

রিজওয়ানা কেন এমন কথা বললেন? তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, নারীকে নিয়ে বিরূপ মনোভাব পোষণকারীদের বিষয়ে বলতে গিয়ে ওই মন্তব্য করেন। মূলত পশ্চিমা নারীবাদী ভাবনায় আচ্ছন্ন এদেশের শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নারীসমাজের একাংশের প্রতিনিধিত্ব করেন রিজওয়ানা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়ালেখা করে পরিবেশ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই সুবাদে বাংলাদেশের সুশীলসমাজের একজন হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে যথেষ্ট প্রভাব সৃষ্টি করেছেন।

পশ্চিমা চিন্তাকাঠামো রিজওয়ানা হাসানের মনোজগতে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। এর পেছনে আছে তার পারিবারিক শিক্ষার প্রভাব নিশ্চয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। তিনি বেড়ে উঠেছেন এমন এক পরিবারে, যে পরিবারের প্রধান মুসলিম জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করতেন। রিজওয়ানার বাবা সৈয়দ মহিবুল হাসান মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। একাত্তরে ছিলেন অখণ্ড পাকিস্তানে বিশ্বাসী। ফলে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রান্তিক হয়ে পড়েন। পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি গঠিত হলে দলটিতে মহিবুল হাসান সে দলে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসন (মাধবপুর-চুনারুঘাট) থেকে স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিপরিষদে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিপরিষদেও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরে স্বৈরশাসক এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। মনে রাখা দরকার, মুসলিম লীগ পাকিস্তান আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। দলটির ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছে। কিন্তু এ দলের নেতাকর্মীদের বেশির ভাগ ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামী বিধিবিধান চর্চায় তেমন আন্তরিক ছিলেন তা কিন্তু নয়।

সাতচল্লিশে আজাদি পেয়ে প্রথম দিন থেকে পাকিস্তান একটি আধুনিক সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাবা সৈয়দ মহিবুল হাসানও ছিলেন্ রাজনৈতিক মতাদর্শে মুসলিম লীগের সেক্যুলার ঘরানার একজন। পশ্চিমা সেক্যুলার ভাবাদর্শে গড়ে ওঠা রিজওয়ানা মনে করেন, নারীর যাবতীয় সমস্যার সমাধান আছে একমাত্র নারীবাদে। অর্থাৎ নারীর সমানাধিকারে, মানে নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায়, কাঠামোগত ক্ষমতার চর্চায়। নারীর প্রকৃত মুক্তি আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে। চ্যানেল ওয়ানে দেয়া তার বক্তব্য শুনে অন্তত তাই আমাদের মনে হয়েছে।

আমাদের দেশের নারীবাদীরা যতই অপছন্দ করুন না কেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসেও এদেশের অনেক নারী স্বামীর পরিচয়ে পরিচিত হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। রিজওয়ানার মনও খানিকটা তেমনি বলে মনে হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হয়ে সম্প্রচার মিডিয়ায় স্বামীকে সাথে নিয়ে যে বাহারি ইন্টারভিউ দিয়েছেন, তাতে তিনি তাদের প্রেমকাহিনীর বর্ণনা দিয়েছেন, নিজেকে স্বামী সোহাগী হিসেবে উপস্থাপন করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। যেমন, হলিউড-বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা স্বামী-স্ত্রী পরস্পর যুগলবন্দী অবস্থায় বগলদাবা হয়ে থাকতে আরামবোধ করেন। রিজওয়ানা অবশ্য ততটা করেননি। নিজেদের প্রেমের কথা শুধু অকপটে স্বীকার করেছেন। এটি এমন যে, জনপ্রিয় বাংলা গানের কলি, ‘কে প্রথম ভালো বেসেছি, কে প্রথম কাছে এসেছি, কিছুতে যায় না বলা।’ আমরা রিজওয়ানা-এ বি সিদ্দিক জুটির ভালোবাসার কথা গত বছর ঈদে টিভি চ্যানেলে দেখে প্রীত হয়েছি। অনেকে বলেছেন, কী চমৎকার আদর্শ সম্প্রীতি। যে পরিবারে সুখের ঝরনাধারা সদা বহমান।

প্রসঙ্গক্রমে রিজওয়ানার সুদর্শন স্বামীর ছেলেবেলার সহপাঠী, বন্ধুভাগ্যের কথা না বললে এ অংশটুকু অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এ বি সিদ্দিক, যার পুরো নাম আবু বকর সিদ্দিক। তার স্কুলজীবনের বন্ধু পতিত হাসিনা সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হাসান বিপু। বিপুদের আদি বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জ হলেও জন্ম, বেড়ে ওঠা রাজধানীর পরীবাগে। পরীবাগ পরীস্থান না হলেও এখানে অভিজাতদের বসবাস। বিপুর মা পশ্চিমা কেতায় অভ্যস্ত ছিলেন। ভদ্রমহিলা সেই পঞ্চাশের দশকে আধুনিক চলনে-বলনের কারণে ঢাকার অভিজাত মহলে সুনাম (!) কুড়িয়েছিলেন। তার ছেলে বিপুর সাথে ছিল এ বি সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। পরিণত বয়সে বন্ধুত্ব প্রগাঢ় হয়। নসরুল হামিদ বিপুর গার্মেন্টস কারখানায় শীর্ষ পদে আসীন ছিলেন এ বি সিদ্দিক। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় হররোজ খবর রটত, নসরুল হামিদ বিপুর বিপুল সম্পদ দেখাশোনায় ব্যস্ত ছিলেন এ বি সিদ্দিক। সাথে জুড়ে দেয়া হতো কপালগুণে গুণধর বউয়ের ক্ষমতার উত্তাপে এ বি সিদ্দিক না কি বিপু সাম্রাজ্যের জিম্মাদার বনে গেছেন। হাজার হোক বাল্যবন্ধু তো। আর বিপদে বন্ধুর পাশে না থাকলে বন্ধুত্বের মর্দাদা থাকে! কারো মধ্যে বিন্দু পরিমাণ মানবতা অবশিষ্ট থাকলে বিপদে বন্ধুকে ফেলে যায় কে। এই এ বি সিদ্দিক কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে ২০১৪ সালে পথিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে গুমের শিকারও হয়েছিলেন। তখন স্বামী অন্তঃপ্রাণ রিজওয়ানার কান্না মিডিয়ায় দেখে সবার হৃদয় ভারক্রান্ত হয়ে পড়েছিল।

নারীবিদ্বেষী শক্তিকে দেশের রাজনীতিতে মেইন স্ট্রিম হতে দেননি পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ সৈয়দা রিজওয়ানা। এটি তার বড় কৃতিত্ব! অবশ্য রিজওয়ানার নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কতটুকু বোঝাপড়া আছে, সেটি ভিন্ন কথা। পশ্চিমা দুনিয়ার অ্যাকাডেমিয়া মশহুর চিন্তক সাবা মাহমুদের উদ্ধৃতি দেয়া যেতে পারে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূূত, এক সময়ের বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী সাবার পলিটিক্স অব পাইটি অর্থাৎ— পুণ্যের রাজনীতি বইয়ের উল্লেখ করা যায়। সাবা তার অসাধারণ কাজটি করেন মিসরীয় সমাজব্যবস্থা নিয়ে। সাবা দেখিয়েছেন, কিভাবে মিসরের মতো রক্ষণশীল একটি সমাজে ধর্মীয় অঙ্গনে নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করেছেন নারীরা। মাঠপর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে সাবা অবাক বিস্ময়ে দেখেন, মিসরের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীরা তাদের প্রভাব বিস্তার করেছেন সুনিপুণভাবে। সাবার পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, মিসরীয় নারীরা মসজিদে অবাধে নামাজ আদায় করেন। মসজিদভিত্তিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র পাঠাগারে জ্ঞান আহরণে সময় কাটান। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিসরীয় নারীরা কিভাবে ক্ষমতায়িত হয়েছেন তার এক অনন্য নজির এটি। অথচ পাশ্চাত্যে গির্জায় নারীরা ব্রাত্য। তাই যুক্তিসঙ্গত কারণে তিনি তার বইয়ে উপসংহার টানতে বাধ্য হন যে, প্রতিটি সমাজের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি চিহ্নিত হয়ে থাকে। যেমন আমাদের সমাজে নারীরা ঘরে ক্ষমতাধর। বঙ্গীয় সমাজে ঘরে নারী সর্বেসর্বা। এখানে সরলরৈখিকভাবে শুধু পশ্চিমা নারীবাদের চশমায় নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ খাটে না। মুসলিম সমাজেও নারীরা নিজস্ব রীতি-নীতিতে ক্ষমতা উপভোগ করতে পারেন। সাবা বলতে চেয়েছেন, পশ্চিমের নারীরা রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ক্ষমতার চর্চা করলেও, ঠিক ভিন্ন আঙ্গিকে মুসলিম সমাজে নারীরাও ক্ষমতার চর্চা করেন। তাই নারীর কল্যাণে শুধু পশ্চিমা সোল এজেন্ট নয়। অন্য সমাজ ও জীবনদর্শনেও তা বলবৎ আছে। এখানেই আমাদের নারীবাদীদের দৃষ্টি সঙ্কীর্ণ। রিজওয়ানার বক্তব্যেও সেটি স্পষ্ট। তিনি পশ্চিমা কেতায় এদেশে নারীর ক্ষমতায়ন চান। তিনি তার পশ্চিমা জ্ঞানের ভিত্তিতে ধর্মীয় গোষ্ঠীর অগ্রযাত্রা রোধ করা শুধু সমীচীন নয়, ক্রুসেডের মতো পবিত্র অবশ্যকর্তব্য জ্ঞান করেন।

পরিণামে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ঘটনার কথা এসেছে। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী তার বক্তব্যের রেশ ধরে রিজওয়ানাকে রাজসাক্ষী বানিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে। তবে রিজওয়ানা নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বিএনপির বিপুল বিজয়কে অজান্তে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। সাক্ষাৎকারে সদ্য সাবেক এই উপদেষ্টা কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যে তির্যকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বিএনপির বিজয়। কারণ, তার কথায় কৌশলে বিএনপির ভূমিধস বিজয় নিয়ে এক প্রকার ষড়যন্ত্র ও কারচুপির ইঙ্গিত বলে মনে করানো হয়েছে। এতে তিনি এক ঢিলে দুই পাখি শিকারে সচেষ্ট ছিলেন বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। একদিকে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর খুশিমার্কা কথা; অন্যদিকে নাম না নিয়েও জামায়াত জোটকে উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে তার মাধ্যমে পশ্চিমা অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। এমনিতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে নতুন সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানানোয় নানাজন নানা কথা রটিয়েছেন। রিজওয়ানার বক্তব্যে নির্বাচনে কারসাজির জনসংশয় এখন আরো খানিকটা গাঢ় হয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই।

রিজওয়ানার বক্তব্যের পর ২০০৮ সালের নির্বাচন স্মরণ করেছেন অনেকে। ওই নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ বিজয়ী করে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তখন অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ২০০৮ সালে সুকৌশলে সরকার প্রথমে ভোটার লিস্ট শুদ্ধীকরণের নামে নতুন তালিকা প্রণয়ন করে। এতে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোটার পুনর্বিন্যাসের সুযোগ তৈরি হয়। সেই সাথে সংসদীয় আসনের সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। এমনভাবে সীমানা নির্ধারণ করা হয়, যাতে আওয়ামী লীগ সুবিধা পায়। এসব কারণে ২০০৮-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় পায়। ওই নির্বাচনে ভারতের প্রভাব কতটা গভীর ছিল তা দেশটির প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বইয়ের পরতে পরতে লেখা আছে।

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা জেরিম্যান্ডারিংয়ের (জেরিম্যান্ডারিং হলো নির্বাচনী সীমানা এমনভাবে পুনর্বিন্যাস করা, যাতে রাজনৈতিক সুবিধা একটি বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর জন্য নিশ্চিত করা যায়)। ২০০৮ সালের এমন নির্বাচনের মাধ্যমে সাড়ে ১৫ বছর জাতির ঘাড়ে চেপে বসে আওয়ামী অপশাসন। শেখ হাসিনা কায়েম করেন ফ্যাসিবাদী শাসন। পরপর তিনটি নির্বাচন তামাশায় পরিণত করা হয়। একতরফা ইলেকশন, দিনের ভোট রাতে এবং আমি-ডামির নির্বাচন জাতি প্রত্যক্ষ করে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে চব্বিশের জুলাইয়ে বর্ষা বিপ্লবের মাধ্যমে জাতি মুক্তির স্বাদ পায়।

এমন এক প্রেক্ষাপটে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তার বক্তব্যে ঠিক কী বুঝাতে চেয়েছেন, তা তাকেই স্পষ্ট করতে হবে। তা না হলে রাজনীতিতে ধোঁয়াশা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকবে। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, রিজওয়ানা হাসান কি ঠাণ্ডা মাথায় এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যাতে দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত হতে পারত। যাতে কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মওকা পেয়ে যায়! যেমন, রাজার বাড়িতে আগুন লাগলে অনেক সুযোগসন্ধানী আলুপোড়া খেতে লালায়িত থাকে।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

[email protected]