ঈদ শেষ হয়েছে। ঈদের ছুটিও শেষ। এই সময়টাকে বলা যায় ‘ঈদের পর’। নাড়ির টানে যারা গ্রামে গিয়েছিলেন, তাদের প্রায় সবাই কাজের ক্ষেত্রে ফিরে এসেছেন। তবে যারা গিয়েছিলেন তাদের কেউ কেউ কখনো ফিরবেন না। লাশ হয়ে চূড়ান্তভাবে ‘ফিরে’ গেছেন দেড় শতাধিক মানুষ।
গত বুধবার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ঝরে গেছে ২৭ জনের প্রাণ, তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। কুষ্টিয়া থেকে বাসে করে ঢাকায় আসছিলেন তারা। ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার কথা বাসটির। কিন্তু যাত্রী নিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাস। এ জন্য দায়ী কারা?
শেষ কয়েকটি ঈদের চেয়ে এই চিত্রটি ভয়াবহ। এই ঈদে আনন্দ ছিল। ঘরে ফেরার স্বস্তি ছিল। সেই সাথে ছিল হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও। যাত্রাব্যবস্থা ছিল অনেকটাই ভঙ্গুর।
পঁচিশ মার্চ একটি খবরে দেখা গেছে, ঈদ ছুটিতে সড়কে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। ২৩টি পরিবারে নেমে এসেছে শোক। এমনকি বিয়ের আগের দিন মারা গেছেন এক প্রকৌশলী।
এবার ঘরমুখো মানুষের চাপ একসাথে ছিল না। দীর্ঘ ছুটি থাকায় ধাপে ধাপে বাড়ি গেছে মানুষ, ফিরেও এসেছে ধাপে ধাপে। তার পরও সড়কে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর এসব খবর উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
ঈদের ছুটি শেষে পত্রিকা অফিস খোলা হয়েছে মার্চের চব্বিশ তারিখ। পত্রিকা বের হয়েছে পঁচিশ তারিখ। ওই দিনের নয়া দিগন্তে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ঈদের পূর্ণাঙ্গ চিত্র— এক দিকে আনন্দ, সম্প্রীতি আর উচ্ছ্বাস; অন্য দিকে সড়কে মৃত্যু, সংঘর্ষ, অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক সঙ্কট। ফলে এই প্রশ্নটা আসা খুব স্বাভাবিক— এবারের ঈদ কি আনন্দের, নাকি ছিল নিরানন্দের?
নয়া দিগন্তে এসেছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের খবর। এ বছর শোলাকিয়ায় লোক হয়েছে ছয় লাখ। মেঘলা আকাশ, বৃষ্টির শঙ্কা— থামাতে পারেনি মানুষের ঢল। প্রতি বছর শোলাকিয়া ঈদগাহে জায়গা না পেয়ে অনেক মুসল্লি সড়কে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজে দাঁড়িয়ে যান বাড়ির ছাদে, আশপাশের ফাঁকা জায়গায়। সে এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন। এ দৃশ্যকে আরো অর্থবহ করে তোলে সম্প্রীতির ছবি। ঈদগাহের আশপাশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার থাকে। তারা মুসল্লিদের পানি খাওয়ান, বাতাসা বিলান। এমনকি নামাজ আদায়ের জন্য পলিথিনের ব্যবস্থাও করে দেন। বিশ্ব যখন বিভাজনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই চিত্র আমাদের জন্য আশা তৈরি করে।
সম্প্রীতি দেখা গেছে. দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দানে। মুসলমান ও হিন্দুদের মিলনমেলা হয়েছে নড়াইলে। গ্রামীণ খেলাধুলা হয়েছে। কবিতা আবৃত্তি হয়েছে। দুই সম্প্রদায়ের উপহার বিনিময়ও হয়েছে সেখানে। এসবের ভেতর দিয়ে যে সামাজিক বন্ধন তৈরি হয়, সেটি জাতির বড় এক শক্তি। এই সম্প্রীতি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। কেউ কেউ বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন— বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি নেই। তাদের এই বয়ান যে মিথ্যা, সেটি এই ঈদ প্রমাণ করেছে।
ঈদের আনন্দের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভ্রমণ। ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখর সৈকতনগরী কক্সবাজার’, ‘সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে লাখো মানুষের ঢল’, ‘পর্যটকে মুখরিত সোনারগাঁও—নয়া দিগন্তে প্রকাশ হওয়া এসব শিরোনাম বলে দেয় মানুষ আনন্দ খুঁজতে বেরিয়েছে। কিন্তু এই আনন্দের মধ্যেই ধরা পড়ে গভীর অসামঞ্জস্য। যেমন কথা ছিল, অনেক কিছুই তেমনভাবে হয়নি।
ঈদে বাড়ি ফিরতে কারো ট্রেনের ছাদে ওঠার দরকার হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। কিন্তু ঈদের পর নয়া দিগন্তের তৃতীয় পৃষ্ঠায় ছাপা একটি ছবিতে দেখা গেছে ট্রেনের ছাদভর্তি মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসছে তারা। ঈদের আগেও সংবাদমাধ্যমগুলোতে এমন বহু ছবি প্রকাশ হয়েছে। এসব ছবি রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকে তুলে ধরে, দাবি ও বাস্তবতার বৈসাদৃশ্য প্রকাশ করে।
ঈদের আনন্দ, দেখা-সাক্ষাৎ, হাসি-আড্ডার ভেতর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে আরেক বাস্তবতা। উৎসবে যাওয়া-আসার ভিড়, তাড়াহুড়ো আর অব্যবস্থাপনার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে এক অদৃশ্য ঝুঁকি, যা প্রতি বছরই অনেক পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয়। আমরা যখন ঈদের গল্প করি, তখন শুধু আনন্দের নয়— এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতের কথাও অনিবার্যভাবে উঠে আসে। নয়া দিগন্তের একটি খবরের শিরোনাম ছিল ‘খুলনায় ঈদের ছুটির মধ্যেই চলেছে হানাহানি’। ভেতরে উঠে এসেছে হানাহানির কয়েকটি ঘটনা। বন্ধের প্রথম দিনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে একই পরিবারের চারজন আহত হয়। নগরীর মহেশ্বরপাশায় পুলিশের টহল টিম ও হরিণটানায় চেকপোস্টে গুলি করা হয়। শিশু নিখোঁজের পর উদ্ধার করা হয়েছে লাশ। আত্মহত্যা করেছে এক শিক্ষার্থী। চাঁদাবাজি মামলায় আটক করা হয়েছে একজনকে।
নাটোরের সিংড়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে যুবদল নেতাসহ আহত হয়েছেন আটজন। সংঘর্ষের সময় একটি প্রাইভেট কার ও কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ফেসবুকে একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বেঁধে যায় আলমডাঙ্গায়। এতে নিহত হয় এক যুবক। নাতির মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার দাদা। এ ধরনের সংঘর্ষ কেবল সামাজিক দ্বন্দ্ব নয়; ক্ষমতাসীন রাজনীতির ভেতরের অস্থিরতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতারও ইঙ্গিত দেয়।
শুধু তা-ই নয়, নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় মাথা তুলতে দেখা যাচ্ছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। ইতোমধ্যে তাদের অনেকে প্রভাব ছড়াতেও শুরু করেছেন। বাগেরহাটের চিতলমারীতে এক যুবলীগ নেতার খাল দখলের ঘটনা তারই উদাহরণ। একটি সরকারি খাল বাঁধ দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছেন তিনি। এতে ১০ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। বিষয়টি কেবল দুর্নীতি নয়, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত। যে দলটি গণহত্যার সাথে জড়িত, এভাবে তাদের পুনরুত্থানের লক্ষণ রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অশনিসঙ্কেত।
নয়া দিগন্তের একটি শিরোনাম— ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটেও স্বস্তিতে বাংলাদেশ’— এমনটিই দাবি করা হয়েছে সরকারের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে। একই দিন, একই পত্রিকায় অন্য একটা শিরোনাম— ‘দেশজুড়ে অকটেন পেট্রলের হাহাকার’। এই দ্বৈধতা মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তৈরি করে আস্থার সঙ্কট।
বাস্তবতা হলো জ্বালানি তেল নিয়ে ভুগতে হচ্ছে মানুষকে। ইরানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা যত দিন না শেষ হবে, তত দিন এই শঙ্কা কাটবে না বলেই মনে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা ব্যাখ্যা দিতে পারত সরকার। সেই সাথে পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেয়া হবে, এ নিয়েও কার্যকর পরিকল্পনা থাকলে ভালো হতো। হঠাৎ করেই জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেয়ায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ছে। ঘটে যাচ্ছে মর্মান্তিক ঘটনাও। অ্যাম্বুলেন্সে তেল না থাকায় হাসপাতালে নেয়ার পথে এক গুরুতর আহতের মৃত্যু হয়েছে। তেল সঙ্কটে দেশের সেচব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও শঙ্কা আছে।
জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো বিদেশনির্ভরতা। জ্বালানি সহযোগিতায় ভারত থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। কিন্তু বাস্তব কথা হলো— ভারত রাশিয়া থেকে তেল আনবে, সেটি পরিশোধন করে আমাদের কাছে পাঠাবে। আমাদের পরিশোধন করার ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যেও একটি কূটনৈতিক ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। যদি নিজেরা পরিশোধন সক্ষমতা গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে আমরা নির্ভরশীল হয়ে পড়ব। এটি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি।
পঁচিশ তারিখ নয়া দিগন্তের প্রধান খবরের শিরোনাম ছিল— ‘এক-এগারোর কুশীলব জে. মাসুদ গ্রেফতার’। এ খবরটি অতীতের এক কালো অধ্যায়কে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। এক-এগারোর সময়ের রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিযোগ আবার আলোচনায় উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের জন্য এক কালো অধ্যায় এক-এগারো। এই দিনে ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদের বীজ বপন হয়। পরের দেড় দশকে দেশ আবদ্ধ হয়ে যায় এ কাঠামোতে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী হয়ে ওঠে নাগরিকদের ওপর নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার। মানুষ হারায় নিরাপত্তা, সম্পদ, মর্যাদা ও ভোটাধিকার। ওই সময় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তারেক রহমানকে গোয়েন্দা হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।
চব্বিশ সালের আগস্ট মাসের পাঁচ তারিখ ছাত্র-জনতা সেই ব্যবস্থা ভেঙে দেয়। তার পরও এক-এগারোর কুশীলবদের বিচার হবে কি না, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং পরে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) শেখ মামুন খালেদের গ্রেফতার নতুন প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে এই চক্রের প্রত্যেককে চিহ্নিত করা জরুরি বলে জনগণ মনে করে।
কালো অধ্যায় এক-এগারো আমাদের সামনে সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তখনকার কুশীলবরা ছাড় পাচ্ছেন না, এটি বাংলাদেশের জন্য ভালো একটি বার্তা। সেই সাথে এ বার্তাটুকু ক্ষমতাসীনদেরও মনে রাখতে হবে। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে তাদের। এক-এগারো সরকারের অধীন যে নির্বাচন হয়েছিল, সেটি অর্থহীন ছিল। কৌশলে আওয়ামী লীগকে বসানো হয়েছিল ক্ষমতায়। এ কারণেই ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একটি কালিমামুক্ত নির্বাচন আশা করেছিল মানুষ। ড. ইউনূস কি সর্বাঙ্গে সুন্দর একটা নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছেন?
এই প্রশ্নের জবাব পাঠকরা ভালো দিতে পারবেন। নয়া দিগন্তের আরো একটা শিরোনাম- ‘ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে মামলার পাহাড়’। ইতোমধ্যে তেরোতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছেন প্রায় অর্ধশত পরাজিত প্রার্থী। একে একে জমা পড়া মামলার সংখ্যা এখন পাহাড়ের মতো হয়ে গেছে। এ খবরটি স্পষ্ট করে, নির্বাচন নিয়ে আস্থার সঙ্কট গভীর।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে। অনিয়ম থাকলেও আমরা মেনে নিয়েছি, যেন দেশ অচল না হয়। কিন্তু আপনারা যদি সঠিক ধারায় না ফেরেন, তাহলে সারা দেশের মানুষ, এই জুলাইযোদ্ধারা আপনাদের ক্ষমা করবে না।’
জনগণ যখন বঞ্চিত হয়, তখন তারা প্রতিক্রিয়া দেখায়। নয়া দিগন্তের অন্য একটি খবর থেকে জানা গেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে চলমান অচলাবস্থা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির নেতারা বলছেন, সংসদের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে তারা রাজপথে আন্দোলনের পথ বেছে নেবেন।
সংসদের এ অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। স্থানীয় নির্বাচন নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নিয়োগ দিয়ে বিএনপি নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছে বলে মন্তব্য করেন পরওয়ার। স্থানীয় সরকার নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নয়া দিগন্ত। এর শিরোনাম ‘স্থানীয় নির্বাচনেও ইস্যু হতে পারে জুলাই সনদ’।
পঁচিশ তারিখ জুলাই সনদ নিয়ে একটা উপসম্পাদকীয়ও প্রকাশ হয়েছে। এটি লিখেছেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ খাব্বাব তাকী। লেখার শিরোনাম— ‘জুলাই সনদ : জনসার্বভৌমত্ব বাস্তবায়নের সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ’।
তিনি লিখেন, ‘সমালোচকদের একটি অংশ বলছে— সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছু করা যায় না; এ জন্য প্রক্রিয়াটি অবৈধ। কিন্তু এ যুক্তি কি সংবিধানের প্রকৃত চেতনা ধারণ করে? নাকি এটি সংবিধানকে জনগণের ওপর বসানোর একটি ভুল প্রচেষ্টা?’
তাকী মনে করেন জুলাই সনদ সংবিধানের বাইরের কিছু না। বরং আইনি বৈধতার মূল উৎস জনগণের ইচ্ছার রূপ। উপসম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, জনগণের ইচ্ছাই সংবিধানের ভিত্তি। এ ধারণাকে সামনে রেখে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সব কিছুর ভেতর দিয়ে শেষ পর্যন্ত এসে দাঁড়াতে হয় এক জায়গায়— বাংলাদেশের আগামী কী? দুর্ঘটনা, বিশৃঙ্খলা, সঙ্কট আর অনাস্থাকে সঙ্গী করেই কি পথ চলবে দেশ, নাকি সত্যিই কোনো পরিবর্তনের দিকে মোড় নেবে?
এই প্রশ্নের উত্তরটাই আসলে ‘জুলাই সনদ’। এটি শুধু একটি দলিল নয়, বরং দিক বদলের ঘোষণা। অব্যবস্থাপনা থেকে শৃঙ্খলায়, অনাস্থা থেকে আস্থায়, আর ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতা থেকে জনগণের অধিকার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি। এই সনদকে কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব করতে হবে। না হয় ঈদ আসবে, ঈদের পরও আসবে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যাবে সেই পুরনোতেই।
লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত


