বিশেষ ধর্মসম্প্রদায়ের নিধনযজ্ঞ বা হত্যাযজ্ঞের কথা এলে জার্মানিতে বিশ্বত্রাস হিটলারের গ্যাস চেম্বারে ভরে ইহুদি গণহত্যার কথা আমরা খুব বলি। ওই ঘটনা নিন্দনীয় বলেই মনে করি। পরে সেই ইহুদিরা ফিলিস্তিনে আশ্রয় পেয়ে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল গঠন করে ক্ষান্ত থাকেনি; তারা ফিলিস্তিনের বা ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস-ঐতিহ্য কার্যত মুছে দিতে চাইছে। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর গাজা নিজেদের দখলে আনতে হেন আক্রমণ নেই যা করেনি। এর অন্তরালের কারণ আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের মদদ। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল কার্যত আমেরিকার ঘুঁটি। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা কার্যত হাত ধরাধরি করেই চলে।
কিন্তু ইতিহাসের আরেকটি ঘটনা আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। আর তা হলো, খ্রিষ্টান ও ইহুদি নাৎসিবাদীরা কীভাবে স্পেনে ৭০০ বছরের বেশি মুসলিম রাজত্বকালকে ধ্বংসযজ্ঞ বানিয়েছে। তারিক বিন জিয়াদ যে স্পেন দখল করেছিলেন সেই স্পেন কার্যত ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করে। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন আধুনিক কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নষ্ট করেছে খ্রিষ্টান ও ইহুদি নাৎসিবাদীরা। ৭১০ সালে রাজা রডারিককে পরাজিত করে তারিক বিন জিয়াদ স্পেন দখল করেন। সেই মুসলিম রাজত্ব উমাইয়া শাসক (৭১১-৭৫০), ইমারত ও কর্ডোভা খিলাফত (৭৫৬-১০৩১), তাইফা যুগ (১০৩১-১৪৯২) পর্যন্ত স্পেনে মুসলিম রাজত্ব বহাল ছিল। ১৪৯২ সালে গ্রানাডার সুলতান আবু আব্দুল্লাহ রাজা ফার্দিনান্দ ও রানী ইসাবেলার কাছে পরাজিত হন। পতনের সেই সূচনা। তারপর খ্রিষ্টান ও ইহুদি নাৎসিবাদীরা স্পেনের মুসলিম শাসক ও মুসলিম সম্প্রদায়কে একেবারে অস্তিত্ব করে দেয় আধুনিক বিশ্বত্রাস হিটলারের কায়দায়। স্পেনের রাজভাষা ছিল আরবি ও ফারসি। সেটা খতম করে দিয়েছে। সেখানকার আরবি ও ফারসি ভাষার ইতিহাস-ঐতিহ্য-সাহিত্য-সংস্কৃতি-দলিল দস্তাবেজ পুরোপুরি খতম করে দিয়েছে খ্রিষ্টান শাসকরা। স্পেনের মুসলিম শাসকদের গড়ে তোলা স্থাপত্য-স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ভি টি রাজশেখরের লেখা গবেষণা গ্রন্থ ‘Indian’s Muslim Problem’-এ খুব সুন্দর বিবরণ দেয়া রয়েছে। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থটিতে দাবি করা হয়, স্পেনীয় পরীক্ষা এখন ভারতে পুরোদমে চলছে। ভারতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালায় আরএসএস ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো। তারপর শাসক বিজেপি সেই দায় চাপায় মুসলিমদের ওপর। শুরু হয় ধরপাকড়। গ্রেফতারকৃতরা জেলের ঘানি টানছে দশকের পর দশক। খালাস পাওয়ার পর তাদের জীবন শেষ। একের পর এক সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ও প্রতিধ্বনি হচ্ছে। করপোরেট ও আরএসএস পরিচালিত বিজেপি সরকার এটি করছে নানান কৌশলে। সরকারি খরচে সনাতন সম্মেলন করে বলা হয়েছে, মুসলিমদের ভারত থেকে বিতাড়িত করা হোক। বিজেপি বা আরএসএস যখন ক্ষমতায় ছিল না, তখনো তারা সাংগঠনিকভাবে নেলি গণহত্যা, ভাগলপুর, সুরাট, আহমদাবাদ, মুম্বাইতে দাঙ্গা সংঘটিত করেছে।
১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে অযোধ্যা হলো আরএসএস-বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের প্রারম্ভিক ল্যাবরেটরি।
অটল বিহারি বাজপেয়ি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন (১৯৯৯-২০০৪) ও নরেন্দ্র মোদির গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসব্যাপী পরিকল্পিত মুসলিম গণহত্যা হয়েছিল। যার ন্যায়বিচার আজো হয়নি। গুজরাটে আটবারের এমপি এহেসান জাফরিকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত খুনিদের কোনো সাজা হয়নি। আজ সেই নরেন্দ্র মোদি পরপর তিনবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আরএসএস ও করপোরেট পরিচালিত এই মোদি সরকার আরএসএসের মদতে ভারতে মুসলিম নাম, ইতিহাস ও ঐতিহ্য আস্তে আস্তে পাল্টে দিচ্ছে অথবা বিলুপ্ত করে দিচ্ছে। এখন সেই ক্ষমতাসীন মোদি সরকার ও আরএসএস চাইছে সরকারি অর্থে পুরোপুরি মুসলিম সমাজকে ভারত থেকে তাড়িয়ে দাও। তাদের কোনো অস্তিত্বই রাখা যাবে না ভারতে। মোদির জমানায় অর্থাৎ— ২০১৪ সাল থেকে মোদি পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ভারতের বাবরি মসজিদের ধ্বংসস্থলে রামমন্দির গড়া হয়েছে। ভারতে অসংখ্য ছোট-বড় মাঝারি মাপের মসজিদ ধ্বংস করেছে ইসরাইলের বুলডোজার কালচার অনুসরণে।
একটু খুলেই বলা যাক। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২৫ সালের ১৩-১৪ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ‘সনাতন রাষ্ট্র শঙ্খনাদ মহোৎসব’ হয়েছিল। ওই সম্মেলনের আয়োজন করেছিল সনাতন সভা নামে একটি সংগঠন। এই সম্মেলনে আরএসএস এবং বিজেপির অঙ্গ সংগঠন হিসেবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো শামিল হয়। তথ্য অধিকার আইন (আরটিআই) অনুসারে আবেদন করার জবাবে আরো জানা গেছে, মোদি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও দিল্লির ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের পর্যটন দফতর এই সম্মেলনের আয়োজনের জন্য ৬৩ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক ও দিল্লির ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের পর্যটন দফতর বা মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই ভারতে মুসলিম খেদানোর ডাক দেয়া হয়। এই ডাক অনেকখানিই হুঙ্কার ছাড়ার মতো। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, শ্রীপদ নায়েক, সঞ্জয় শেঠ, দিল্লির ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের পর্যটনমন্ত্রী কপিল মিশ্র উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে সুদর্শন টিভির প্রধান সুরেশ সাভাঙ্কে বলেছেন, ভারতে ২৫ শতাংশ মুসলিম অনুপ্রবেশকারী। তারা বাংলাদেশী, আফগানি ও পাকিস্তানি। এনআরসি করে তাদেরকে তাড়াতে হবে। ভারতে মুসলিম জনসংখ্যায় লাগাম দেয়া দরকার।
বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, প্রত্যেক হিন্দু যদি একজনকে ধর্মান্তরিত করতে পারে, তাহলেই আমাদের উদ্দেশ্য সফল হবে। এখানে অনেক ব্যবসায়ী আছেন, তারা সহজেই তাদের মুসলিম কর্মীদের ধর্মান্তরিত করতে পারেন।
হিন্দু ফান্ডের সম্পাদক রাহুল দেওয়ানের বক্তব্য— আমাদের আক্রমণাত্মক কৌশল প্রয়োজন। সাংবিধানিকভাবে হিন্দুরাষ্ট্র চাই আমাদের।
কেন্দ্রের ও দিল্লির বিজেপি সরকারের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় এই ‘বিভাজন সম্মেলন’ একদিকে যেমন মুসলিমদের আতঙ্কিত করে তুলেছে, অন্যদিকে তেমনি বিতর্ক উসকে দিয়েছে। দিল্লির হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর ওই সম্মেলন শুধু দিল্লির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি জোট সরকার বা বিজেপি শাসিত ২০টি রাজ্যের মধ্যে এই বিভাজনের সম্মেলন করছে ও মুসলিম নিধনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে, যা গভীর উদ্বেগের। বিজেপি-শাসিত বা বিজেপি জোট-শাসিত আসাম, বিহার, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, হরিয়ানা— এই বিভাজনের সম্মেলন ধারাবাহিকভাব চলছে। ওইসব রাজ্যে বঙ্গভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বহুমুখী নির্যাতন চলছেই। এদের বেশির ভাগ মুসলিম। এদের অনেককেই বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী তকমা লাগিয়ে একেবারে জঙ্গি দেগে দিয়ে গ্রেফতার করাও হচ্ছে। এ ধরনের সম্মেলন বা কর্মসূচি বিজেপি-আরএসএসের উদ্যোগে ভারতের রাজধানী দিল্লি বাদ দিয়ে বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যেও আখছার চলছে।
আর এখন এনআরসি, সিএএ বা এনপিআরের মাধ্যমে নাগরিককে নাগরিকহীন করে দিচ্ছে। আসামের ডিটেনশন ক্যাম্প তার জ্বলন্ত উদাহরণ। নিজ ভূমে তারা এখন পরবাসী। আর সর্বশেষ হলো স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিউ বা এসআইআর। এটি একজন ভোটারকে ভোটারহীন করার এক জঘন্য ষড়যন্ত্র। টার্গেট বা নিশানা সেই মুসলিম সমাজ।
ইতিহাস থেকেও আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। স্পেন থেকে মুসলিম নিধন ও নির্মূল করার যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল সেখানকার খ্রিষ্টান ও ইহুদি নাৎসিবাদীরা, সেই পথই অবলম্বন করেছে ভারতের হিন্দু নাৎসিরা। স্পেন থেকে মুসলিমদের নির্মূল করার পদ্ধতি ভারতের বিজেপি সরকার ও আরএসএস অনুসরণ করেছে। তবে ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে। ভারতের অন্যতম সংবিধান স্বীকৃত ভাষা উর্দুকে বাদ দেয়া হচ্ছে। দূরদর্শনে উর্দু অনুষ্ঠান ও খবর সম্প্রচার পুরোপুরি বাতিল। উর্দু হারিয়েছে তার সাংবিধানিক মর্যাদা। মহাকবি আল্লামা ইকবালের উর্দুতে লিখিত বিখ্যাত গান ‘সারে জাঁহাসে আচ্ছা হিন্দুস্তা হামারা হামারা’কে রাষ্ট্রীয় গানের মর্যাদা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে ইতোমধ্যেই। অথচ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু ইকবালের এই গানটিকে রাষ্ট্রীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দিয়েছিলেন।
বিখ্যাত শহর ইলাহাবাদ বদলে হয়ে গেল প্রয়াগরাজ, মোগলসরাই হয়ে গেল দিনদয়াল, করিমগঞ্জ হয়ে গেল শ্রীভূমি। মোগল আমলসহ মুসলিম আমলের যাবতীয় ইতিহাস ইতোমধ্যেই বাদ দেয়া হয়েছে ইতিহাস পরিষদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচি থেকে। মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গাবাদ শহরের নাম পাল্টানো হয়েছে। সেখান থেকে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মাজার স্থানান্তর করার চেষ্টা হয়েছে। প্রবল জনবিক্ষোভে সেটি সম্ভব হয়নি। বিখ্যাত দলিত নেতা, বুদ্ধিজীবী ও সম্পাদক ভি টি রাজশেখরের কথা একেবারেই শতভাগ মিলে যাচ্ছে। ১৯৮৫ সালের ১৬-৩১ মের তার সম্পাদিত দলিত ভয়েস পত্রিকার সেই বিখ্যাত সম্পাদকীয় ‘হিন্দু নাৎসিবাদীরা স্পেনের পরীক্ষা : ভারত অনুসরণ করছে’।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ যে ৪০০ আসনের স্বপ্ন দেখেছিল তা পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তাই নরেন্দ্র মোদির বিজেপি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই বলে ভারতকে এখনো হিন্দুরাষ্ট্র বানাতে পারেনি; কিন্তু বিজেপি সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে অর্থ খরচ করে কীভাবে মুসলিম নিধন করা যায়, তার ব্লু-প্রিন্ট যথেষ্ট শক্তিশালীভাবে চলছে।
আসাম বা উত্তরপ্রদেশসহ বিজেপি-শাসিত রাজ্যে মাদরাসা শিক্ষা বাতিল করা হচ্ছে। কেন না, মাদরাসাতে ইসলামিক থিওলজি ছাড়াও আরবি ও উর্দু ভাষা পড়ানো হয়। বিশেষ করে খারিজি মাদরাসাতে আরবি, ফারসি ও উর্দু— এই তিনটি ভাষা শেখানো হয়। এমনকি খারিজি মাদরাসায় টেকনিক্যাল, শর্ট টেকনোলজি, ঘড়ি, মোবাইল টেকনোলজি, টিভি মেরামতি, রাজমিস্ত্রির টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও টেলারিংয়ের মতো কারিগরি শিক্ষা দেয়া হয়। ফলে মাদরাসা-পড়ুয়ারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সহজেই কর্মসংস্থানে শামিল হতে পারে। তাই আরএসএস-বিজেপি মাদরাসায় সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণের অজুহাত এনে মাদরাসা শিক্ষা তুলে দিতে চাইছে। আমরা অনেকেই জানি না, একজন খারিজি মাদরাসার ছাত্র সকালে মাদরাসার পড়াশোনা সেরে দিনের বেলায় জেনারেল লাইনে বা স্কুল-কলেজের ডিগ্রিও নিচ্ছে।
আবার ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফের জুরিসডিকশন বা আওতাভিত্তিক ক্ষমতা সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার বাড়াতে ওইসব এলাকায় বিএসএফের অত্যাচার ও নির্যাতন বেড়েছে আগের তুলনায় ১০ গুণ। আর শিকার হচ্ছে মুসলিম সমাজের মানুষ।
ভারতের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর বিরোধিতা তেমন জোরালো নয়। জানি না অদূর ভবিষ্যতে কী হবে? এটিই এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা কতখানি শক্তিশালী তা নিয়েই বিতর্ক থাকতেই পারে; কিন্তু ভারতে প্রতিবাদী মানুষ মুষ্টিমেয় হলেও রয়েছে। রয়েছে সাহসী মানুষ। তাই আরএসএসের উগ্র হিন্দুত্ববাদীর স্বরূপ উন্মোচন করতে গিয়ে তাদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন মুক্তমনা গোবিন্দ পানসারে, নরেন্দ্র দাভেলকর, কালবুর্গি ও সাংবাদিক গৌরি লঙ্কেশ। সাংবাদিক রাভিশ কুমার ও সিদ্দিক কাপ্পান আমাদের জাগ্রত বিবেক। তবে এটি নিশ্চিত করে বলা যায়, ‘স্পেনীয় পরীক্ষা’ এখন পুরোদমে আরএসএস, বিজেপি ও তাদের করপোরেট বন্ধুরা কার্যকর করছে। ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা স্পেনীয় মডেলের যথার্থই বাস্তব কারিগর। এটিই বাস্তবতা।
লেখক : কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক ও কবি


