একটি স্মৃতিকথা নিয়ে ভারতে তোলপাড়

একজন মুসলিম পাঠকের মন্তব্য, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মোদি সরকারের মধ্যে সঙ্ঘাত ঘটেছে। সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্যতার উপর ভিত্তি করে। এই প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজনও বিজেপি সরকারের পাশে দাঁড়াবে না। দেশে গুরুতর এবং ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে বেসামরিক সরকারের সাথে বিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এর ফলে মোদি সরকারের পতনও হতে পারে

বই অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের জন্য বিব্রতকর, এমনকি বিপজ্জনক হতে পারে। অপতথ্য বা মিথ্যা তথ্যসংবলিত বইয়ের কথা বলছি না। ওগুলো গার্বেজ। আমরা তেমন বইয়ের কথা বলছি, যেটি প্রকৃত কর্তৃত্বসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ অথবা দায়িত্ববান লেখকের কলমে রচিত, যে বর্ণনা বা ঘটনার সাথে লেখকের বাস্তব সংশ্লিøষ্টতা ছিল বা আছে এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরা হয়। এমন বই কখনো হয়ে উঠতে পারে ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষ করে তাদের জন্য যারা অসত্যের ইট গেঁথে প্রতিপত্তি ও ক্ষমতার প্রাসাদ তৈরি করেন।

আমরা কথা বলছি সম্প্রতি দিল্লির সংসদ ভবনে মহা হট্টগোল ফেলে দেয়া একটি বই প্রসঙ্গে। বইটির বিষয়বস্তু ২০২০ সালে ভারতের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য লাদাখের গালওয়ান সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মির সংঘর্ষ। সংঘর্ষে কতজন চীনা বা কত ভারতীয় সেনা নিহত হন প্রসঙ্গ তা নয়; বরং চীনা বাহিনীর আক্রমণের বিরুদ্ধে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তাদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল, প্রাথমিকভাবে সেটিই মূল প্রসঙ্গ। তার আগে বলে নিই, বইটি নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে রীতিমতো অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। একদিন নয়, পর পর কয়েক দিন।

ঘটনার সূত্রপাত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। এদিন ভারতীয় পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী হাউজে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সূত্রে সরকার, বিশেষত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেন। তিনি ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘ফোর স্টারস অব ডেসটিনি’ (Four Stars of Destiny) থেকে কিছু অংশ পাঠ করতে শুরু করেন। সেখানে ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারতের সীমান্ত সঙ্ঘাতের প্রসঙ্গ ছিল। কিন্তু তাকে কথা বলতে দেয়া হয়নি। সরকারি দল ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্যরা একযোগে হইচই করে রাহুলকে বাধা দেন। সোচ্চার হয়ে ওঠেন বিরোধী দলের সদস্যরাও। সংসদে চরম হট্টগোল শুরু হয়। পরের দিনও একই ঘটনা ঘটে। মি. গান্ধী বারবার মোদি সরকারকে ২০২০ সালের অচলাবস্থার সময় ভারতীয় ভূখণ্ড চীনের হাতে ‘তুলে দেয়ার’ অভিযোগ করেন। সরকার এই অভিযোগ বরাবর নাকচ করে দিয়েছে। দাবি করেছে— ভারত কোনো ভূখণ্ড হারায়নি।

সোমবার সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপি সদস্যরা মি. গান্ধীর বক্তব্য বাধাগ্রস্ত করেন এবং উল্টো তার বিরুদ্ধেই একটি অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃৃতি দিয়ে সংসদীয় নিয়ম লঙ্ঘন এবং সংসদকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ করেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রাহুল গান্ধী যে বই থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছেন তা সংসদে উপস্থাপন করা উচিত, কারণ বইটি প্রকাশিতই হয়নি।’

গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, তার উৎস ‘নির্ভরযোগ্য’ তাই তিনি সেখান থেকে উদ্ধৃতি দিতে পারেন। হট্টগোল এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়।

উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে স্পিকার রাহুল গান্ধীর বক্তব্য পুরোটাই কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করেন। কিন্তু ঘটনা তাতে চুকেবুকে যায়নি; বরং রাজনৈতিক বিতর্কে সারা ভারত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু’দিন পর ৪ ফেব্রুয়ারি রাহুল গান্ধী এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচ্য বইয়ের কপি দেখান। তিনি বলেন, সরকার সত্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।

ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ বইটির বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু করে। কারণ, বইটির পিডিএফ ও পাইরেটেড কপি ভারতের বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া প্রকাশনা সংস্থাকে ঝুলিয়ে রাখলেও তাতে কাজ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে জেনারেল নারাভানে বিবৃতি দিতে বাধ্য হন যে, বইটি প্রকাশ করা হয়নি। পেঙ্গুইন ইন্ডিয়াও একাধিকবার বিবৃতি দিয়ে বলেছে— তারা বইটি প্রকাশ করেনি।

রাহুল গান্ধী যা বলেছিলেন
মি. গান্ধী জেনারেল এম এম নারাভানের বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে অভিযোগ করেন, গুরুতর সংঘর্ষের সময় স্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক আদেশ দিতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অক্ষম। তিনি বলেন, সঙ্কট ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যর্থতার কথা ভারতবাসী যেন জানতে না পারে, সে জন্যই বইটি প্রকাশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

বইটি যদি প্রকাশ না পেয়ে থাকে তাহলে মি. গান্ধী কোত্থেকে উদ্ধৃতি দিলেন? উত্তর হলো— ঠিক আগের দিন পয়লা ফেব্রুয়ারি দেশের অন্যতম প্রধান সাময়িকী ‘দ্য ক্যারাভান’ আলোচিত বই নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করে। ক্যারাভানের উপদেষ্টা সম্পাদক সুশান্ত সিং ওই নিবন্ধে বইয়ের সামান্য অংশ উদ্ধৃত করেন।

জেনারেল এম এম নারাভানে (মনোজ মুকুন্দ নারাভানে) ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের সেনাপ্রধান ছিলেন। ‘ফোর স্টারস অব ডেসটিনি’ তার স্মৃতিকথা। আমরা দ্য ক্যারাভান থেকে সংশ্লিষ্ট উদ্ধৃতির অংশবিশেষ তুলে দিচ্ছি। নারাভানে লিখেছেন: “ভারতীয় সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল যোগেশ জোশি ৩১ আগস্ট ২০২০ রাত সোয়া ৮টায় একটি ফোনকল পান। তিনি যে তথ্য পান তা তাকে আতঙ্কিত করে তোলে। পদাতিক বাহিনীর সহায়তায় চারটি চীনা ট্যাংক পূর্ব লাদাখের রেচিন লার দিকে খাড়া পাহাড়ি পথ বেয়ে এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। জোশি সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানেকে এই গতিবিধির কথা জানান, যিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন। ট্যাংকগুলো কৈলাস রেঞ্জে ভারতীয় অবস্থান থেকে কয়েক শ’ মিটার দূরে ছিল, যে কৌশলগত উচ্চভূমিটি ভারতীয় বাহিনী কয়েক ঘণ্টা আগে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সাথে বিপজ্জনক প্রতিযোগিতায় দখল করেছিল।

“ভারতীয় সৈন্যরা এক ধরনের আলো জ্বালানো গুলি (ফ্লেয়ার গানের গুলি) ছোড়ে, যা ছিল সতর্কীকরণ। এতে কিছুই হয়নি। চীনারা এগিয়ে আসতে থাকে। (আমি) ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের নেতাদের, যার মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং; জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল; প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ অনেককে পাগলের মতো ফোন করতে শুরু করি। প্রত্যেকের কাছে আমার প্রশ্ন ছিল— ‘আমার প্রতি আদেশ কী?’

নারাভানে লিখেছেন : “পরিস্থিতির দ্রুত ও নাটকীয় অবনতি হচ্ছিল এবং স্পষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন ছিল। সেনাবাহিনীর একটি বিদ্যমান প্রটোকল ছিল। স্পষ্ট নির্দেশ ছিল— ‘যতক্ষণ না তিনি একেবারে উপর থেকে পরিষ্কার নির্দেশনা পান’ ততক্ষণ গুলি চালানো উচিত নয়। তার ঊর্ধ্বতনরা কোনো স্পষ্ট নির্দেশ দেননি। ঘড়ির কাঁটায় প্রতিটি মিনিট টিক টিক করে বয়ে যাচ্ছিল। রাত ৯.১০ মিনিটে জোশি আবার ফোন করেন। চীনা ট্যাংকগুলো এগিয়ে আসতে থাকে এবং এখন গিরিপথ থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরে রয়েছে। রাত ৯.২৫ মিনিটে, নারাভানে আবার রাজনাথকে ফোন করেন, ‘স্পষ্ট নির্দেশনার জন্য’ কেউ ফোন ধরেনি।”

পাকিস্তান বা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতীয় নেতাদের হম্বিতম্বি সবারই জানা। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের মতো একটি দেশের বিরুদ্ধে বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের আগ্রাসী বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড আমরা দেখেছি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কথায় কথায় কথাযুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার বিপুল পরাক্রম গত বছর মে মাসে কিভাবে চুপসে গেল, সেটিও গোটা বিশ্ব দেখেছে। কিন্তু চীনের বেলায় ৫৬ ইঞ্চির সিনাজুরি যে আগে থেকেই ফুটো বেলুন সেটি ফাঁস করে দিয়েছেন জেনারেল নারাভানে।

নারাভানের লেখা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ বিষয়ে ভারতের নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া দেখে নেব। তার আগে দ্য ক্যারাভানের নিবন্ধ প্রসঙ্গে দেশটির অন্যতম নিরাপত্তা-বিষয়ক ম্যাগাজিন দ্য ওয়্যারে গত ১১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধের বক্তব্য জেনে নিতে পারি। নিবন্ধে বলা হয়-

“বইটি প্রকাশ পেয়েছে কি পায়নি তা নিয়ে বিতর্ক আরো বড় ক্ষতিকর বাস্তবতা ধামাচাপা দেয়, সেটি হলো ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়ে বইয়ে উল্লিখিত বিস্ফোরক তথ্যের প্রকাশ। ...সরকার ও গোদি মিডিয়া-জাতীয় সঙ্কটের সময়ে রাজনৈতিক জবাবদিহি সম্পর্কে জরুরি প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে।

“স্মৃতিকথার কিছু অংশ ইঙ্গিত দেয়, চীনের সাথে অচলাবস্থার সময় রাজনৈতিক নেতৃত্ব কার্যত অবশ (প্যারালাইজড) হয়ে পড়ে। জেনারেল নারাভানে একটি উদাহরণ বর্ণনা করেছেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল নির্দেশনায়, ‘যা উপযুক্ত মনে হয় তাই করার’ অস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এর অর্থ— প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব না নেওয়া।”

দ্য ওয়্যার বলছে, “স্মৃতিকথায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সেনা প্রত্যাহারের ফলে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি হয় এবং ভারতীয় সেনারা সেখানে ঢোকার অধিকার হারান। ... এই তথ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বক্তব্যের পরিপন্থী, যেখানে তিনি বলেন, ভারত কোনো অঞ্চলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায়নি। নারাভানে চীনা সেনাদের অগ্রসরমান বাহিনীর উপর গুলি চালানোর উপর আরোপিত বিধিনিষেধের বিবরণও দিয়েছেন এবং সেনাবাহিনীর চাপের কারণে পরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কিভাবে অনুমোদন দিতে বাধ্য হন তাও বর্ণনা করেছেন।”

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ফোর স্টারস অব ডেসটিনির ছাড়পত্র দুই বছর ধরে ঝুলিয়ে রেখেছে। দ্যা ওয়্যার বলছে, বইটির প্রকাশনা কোন পর্যায়ে আছে জনস্বার্থের কাছে তা অপ্রাসঙ্গিক। সাংবাদিকতার কাজ সত্য সামনে আনা। এ ক্ষেত্রে তথ্যের উৎস হলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান, যিনি ওই ঘটনার সময় দেশের সর্বোচ্চ সেনাকর্মকর্তা ছিলেন। তার কথা ইতিহাস এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা গুরুত্ব বহন করে।

এবার চলুন, দ্য ওয়্যারের নিবন্ধের ফেসবুক সংস্করণে ভারতীয় পাঠকের প্রতিক্রিয়ার অংশবিশেষ দেখে নিই। (আমরা মন্তব্যকারীদের নাম উল্লেখ করছি না। গুগল সার্চ করলে যে কেউ দেখে নিতে পারবেন)

একজন পাঠক মন্তব্য করেন, ‘পাকিস্তানের সাথে সঙ্ঘাতসহ সব বিরোধ রহস্যে ঢাকা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত।’ এক জনের মন্তব্য, ‘সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে লাদাখি জনগণের মনে কখনো সন্দেহ ছিল না, তবে আমাদের সরকারের কূটনীতি সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই।’

একটি মন্তব্য এমন, ‘২০২০ সালে, গালওয়ানে চীনাদের সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের পর সরকার চীনা দখলদারিত্বের প্রতিবাদে অনেক চীনা পণ্য নিষিদ্ধ করে, যা স্পষ্টভাবে প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারাভানের বইয়ের দাবির সত্যতা নির্দেশ করে।’ একজন বাঙালি পাঠকের মন্তব্য, ‘জাতীয় নিরাপত্তার এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশাসনের গোপনীয়তা এবং নীরবতা ইঙ্গিত দেয় যে, লাদাখে সব কিছু ঠিকঠাক নেই... অনেক কিছু লুকানো হচ্ছে।’

একজন মুসলিম পাঠকের মন্তব্য, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মোদি সরকারের মধ্যে সঙ্ঘাত ঘটেছে। সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্যতার উপর ভিত্তি করে। এই প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজনও বিজেপি সরকারের পাশে দাঁড়াবে না। দেশে গুরুতর এবং ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে বেসামরিক সরকারের সাথে বিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এর ফলে মোদি সরকারের পতনও হতে পারে।

লেখক : সিনিয়র সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

[email protected]