২০২৬ সালের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক সঙ্ঘাতের প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগরে শুরু হয়েছে এক ধরনের ‘অদৃশ্য যুদ্ধ’ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে ব্যাপকভাবে জিপিএস জ্যামিং ও স্পুফিংয়ের ঘটনা ঘটছে। এতে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজের নেভিগেশন ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে; অনেক জাহাজের ডিজিটাল অবস্থান এমনভাবে দেখাচ্ছে যেন তারা বিমানবন্দরের রানওয়ে, মরুভূমি কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো স্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আধুনিক নৌযুদ্ধের এক নতুন কৌশল, যেখানে সরাসরি সামরিক হামলা ছাড়াই প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত ও দুর্বল করা যায়।
বিশ্ব জ্বালানি অর্থনীতির কেন্দ্র : হরমুজ প্রণালী
ভূরাজনীতিতে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সাথে যুক্ত করা এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরান, কুয়েত, ইরাক, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি রফতানির প্রধান পথ এটি।
বিশ্বে প্রতিদিন যে তেল পরিবাহিত হয় তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে শক্তিশালী নৌ উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ ছাড়াও প্রযুক্তিগত উপায়ে কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব।
ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রামে নতুন সঙ্ঘাত
২০২৬ সালের শুরুতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার তীব্র আকার ধারণ করে। এই সঙ্ঘাতের প্রধান ক্ষেত্র হলো ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, যেখানে রেডিও সিগন্যাল, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) প্রযুক্তিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীতে জিপিএস জ্যামিং ও স্পুফিংয়ের ফলে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজের নেভিগেশন ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হচ্ছে। জ্যামিংয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করে জিপিএস সঙ্কেত অকার্যকর করে দেয়া হয়, আর স্পুফিংয়ের মাধ্যমে ভুয়া সঙ্কেত পাঠিয়ে জাহাজ বা বিমানের নেভিগেশন সিস্টেমকে ভুল অবস্থান দেখানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজের অবস্থান বিকৃত করে দিয়েছে, যা সামুদ্রিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
সামরিক প্রতিযোগিতা ও সঙ্কেতযুদ্ধ
এই ইলেকট্রনিক সঙ্ঘাত শুধু বাণিজ্যিক নৌযানেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরানের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা ফজর ও নসর মার্কিন নজরদারি প্ল্যাটফর্মগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিশেষ করে মার্কিন ড্রোন এমকিউ-৯ রিপার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বিমানের নেভিগেশন ও ডাটা লিংক সক্ষমতা ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত ‘সিগন্যালস ওয়ার’ অর্থাৎ— সঙ্কেত নিয়ন্ত্রণের যুদ্ধ। ধারণা করা হচ্ছে, উন্নত ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা প্রযুক্তি এবং সম্ভবত রাশিয়া ও চীনের সহায়তায় ইরান পশ্চিমা সামরিক প্রযুক্তির আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করছে।
বেসামরিক খাতেও প্রভাব
এই অদৃশ্য সঙ্ঘাতের প্রভাব সামরিক ক্ষেত্র ছাড়িয়ে বেসামরিক জীবনেও পড়ছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে অনেক চালক অভিযোগ করেছেন, তাদের নেভিগেশন অ্যাপ হঠাৎ করে শত শত কিলোমিটার দূরের অবস্থান দেখাচ্ছে। এতে পরিবহন, ডেলিভারি সার্ভিস এবং জরুরি পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়েছে।
আধুনিক অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার বড় অংশ এখন জিপিএসের ওপর নির্ভরশীল। বিমান চলাচল, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মোবাইল নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ গ্রিড— সব ক্ষেত্রেই সঠিক সময় ও অবস্থান নির্ধারণের জন্য জিপিএস অপরিহার্য।
সঙ্কেতের ভূরাজনীতি
জিপিএস নির্ভরতার এই দুর্বলতা বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএসের বিকল্প হিসেবে রাশিয়া তাদের গ্লোনাস এবং চীন বেইদাউ নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম আন্তর্জাতিকভাবে সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ বিকল্প নেভিগেশন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে আগ্রহ দেখালেও বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। কারণ একটি নতুন স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থায় স্থানান্তর করতে বিশাল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।
আধুনিক নৌযুদ্ধে নতুন বাস্তবতা
ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এখন আধুনিক সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অতীতে নৌযুদ্ধ প্রধানত কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এখন তথ্য, ডাটা এবং সিগন্যাল যুদ্ধের কেন্দ্রে চলে এসেছে।
ডিজিটাল অবকাঠামো : নেভিগেশন, যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থা— এখন সরাসরি যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু। ইলেকট্রনিক আক্রমণের মাধ্যমে সরাসরি সংঘর্ষ ছাড়াই প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা সম্ভব। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বেসামরিক অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের সক্ষমতা
পারস্য উপসাগরে চলমান ‘অদৃশ্য যুদ্ধ’ মূলত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ইডব্লিউ) এবং জিপিএস-নির্ভর নেভিগেশন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই অঞ্চলে প্রধান খেলোয়াড় হলো— ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং প্রভাবশালী প্রযুক্তিগত সমর্থক দেশ হিসেবে রাশিয়া ও চীন।
ইরান : ইরান আঞ্চলিক ইডব্লিউ শক্তিতে উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে ফজর ও নসর সিস্টেমের মাধ্যমে। এই সিস্টেমগুলো হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক যানকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম। ইরান জিপিএস জ্যামিং ও স্পুফিং করে জাহাজের অবস্থান বিকৃত করে, যা সামুদ্রিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়াও, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ড্রোন এমকিউ-৯ রিপার এবং গোয়েন্দা বিমানগুলোর নেভিগেশন ও ডাটা লিংক ব্যাহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রযুক্তিগতভাবে ইরান রাশিয়া ও চীনের সহায়তা পেয়েছে, যার ফলে ইডব্লিউ কার্যক্রমের জটিলতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র : যুক্তরাষ্ট্রের ইডব্লিউ ক্ষমতা বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। ইএ-১৮ জি গ্রাউলার, আরসি-১৩৫ রিভেট জয়েন্ট এবং ড্রোন ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনী দূর-পরিসরে জিপিএস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের ইডব্লিউ কৌশল শুধু প্রতিরক্ষা নয়, শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করার জন্যও ব্যবহার হয়। তবে সঙ্কীর্ণ জলপথে যেমন হরমুজ প্রণালী, আধুনিক ঊড পরিচালনা জটিল এবং এক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা প্রয়োজন।
ইসরাইল : ইসরাইল আঞ্চলিক ইডব্লিউ শক্তিতে উচ্চসমৃদ্ধ, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গাইডিং সিগন্যাল ব্যাহত করতে সক্ষম। তারা সীমিত ভৌগোলিক অঞ্চলে দ্রুত সমন্বয় করতে পারছে। তবে দীর্ঘ-পরিসরের সামরিক ইডব্লিউ ক্ষমতা মার্কিন সমর্থনের উপর নির্ভরশীল।
রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের সক্ষমতা
পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের অদৃশ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ইডব্লিউ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাশিয়া, চীন ও তুরস্ক এ ক্ষেত্রে নিজেদের স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ সক্ষমতা দেখাচ্ছে।
রাশিয়া বিশ্বমানের ইডব্লিউ ক্ষমতায় শীর্ষে। তাদের টিরাদা, ক্রাসুখা-১, লির-৩ সিস্টেমগুলো ব্যবহার করে বিমান, রাডার ও স্যাটেলাইটের সঙ্কেত হস্তক্ষেপ করা সম্ভব। রাশিয়ার ইডব্লিউ কৌশল দূর-পরিসর, হাইব্রিড যুদ্ধ এবং ন্যাটো ও ইউরোপীয় লক্ষ্যবস্তুতে প্রভাব বিস্তারে কার্যকর। রাশিয়ার সিগন্যাল হস্তক্ষেপ প্রযুক্তি সরাসরি শত্রুর নজরদারি, ড্রোন ও রাডার পরিচালনাকে দুর্বল করে।
চীন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইডব্লিউ ক্ষেত্রে সমানভাবে শক্তিশালী। কেজে-২০০০, ওয়াইএলসি-২০, জেএল ১/২ প্ল্যাটফর্ম এবং বেইদাউ জিপিএস বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে চীন দূরবর্তী ইডব্লিউ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এটি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নেভিগেশন সিস্টেমকে বিঘ্নিত করতে সক্ষম। চীনের ইডব্লিউ কৌশল দক্ষিণ চীন সাগর ও ভারত-প্যাসিফিক অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধিতে সমর্থ।
তুরস্ক আঞ্চলিক ইডব্লিউ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। কোরাল এবং আসেলসান জ্যামিং ডিভাইস ব্যবহার করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের গাইডিং সিগন্যাল বিভ্রান্ত করা যায়। তুরস্কের ইডব্লিউ কৌশল আঞ্চলিক সীমান্ত, মধ্যপ্রাচ্য এবং ন্যাটো মিশনে দ্রুত সমন্বয় ও হাইব্রিড আক্রমণে সহায়ক।
রাশিয়া ও চীন বৈশ্বিক ইডব্লিউ শক্তি হিসেবে শীর্ষে, দীর্ঘ-পরিসর ও স্যাটেলাইট-নির্ভর সক্ষমতা প্রদর্শন করে। তুরস্ক আঞ্চলিকভাবে কার্যকর, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে। এই তিন দেশের ইডব্লিউ ক্ষমতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক ভারসাম্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৌশলগত প্রভাবে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা
আধুনিক যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের লড়াই নয়, প্রযুক্তি ও সঙ্কেত নিয়ন্ত্রণ এখন সামরিক ও কৌশলগত প্রভাবের মূল চাবিকাঠি। হরমুজ প্রণালীতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক নয়; এর অর্থনৈতিক প্রভাবও গভীর। জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক শিপিং ব্যয় বাড়তে পারে। বিশেষ করে এশিয়ার জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ভবিষ্যতের যুদ্ধ : অস্ত্রের পাশাপাশি অ্যালগরিদম
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধু ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নির্ধারিত হবে না। স্যাটেলাইট, ডাটা নেটওয়ার্ক, সাইবার প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক সিগন্যাল ইত্যাদি যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
পারস্য উপসাগরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, একটি অদৃশ্য সিগন্যালও শত শত জাহাজকে বিভ্রান্ত করতে পারে। ফলে সামরিক শক্তির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও এখন ভূরাজনীতির অন্যতম নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠছে।
হরমুজ প্রণালীতে জিপিএস জ্যামিং ও স্পুফিংয়ের ঘটনা প্রমাণ করছে, আধুনিক যুদ্ধ আর শুধু দৃশ্যমান অস্ত্রের লড়াই নয়; বরং তথ্য, সঙ্কেত ও প্রযুক্তির এক জটিল প্রতিযোগিতা, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি নিয়ে শুধু বড় শক্তি নয়, বাংলাদেশের মতো অপেক্ষাকৃত কম শক্তিধর দেশগুলোকেও ভাবতে হবে।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত



