বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই শিক্ষক চোরের মতো দৌড়ে পালালেন। কেউ তাদের লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করেনি। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলাও করেনি। তার পরও এই শিক্ষকরা পালানোর জন্য প্রাণপণে দৌড়ান। হেনস্তা ও অপমান করার জন্য কেউ তাড়া করেনি তাদের, তারও প্রমাণ মিলল। যখন তাদের ধরা হলো, কেউ তাদের ফুলের টোকাও দিলো না। একদল ছাত্র শুধু তাদের আটক করতে চাচ্ছিল।
একজন শিক্ষক কেন ছাত্রদের ভয়ে পালাতে চাইবেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কী এমন ঘটেছে যে শিক্ষক পালিয়ে বাঁচতে চাইছেন। এই প্রশ্ন তোলা যখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তখন এ ঘটনাকে হেনস্তা-অপমান হিসেবে ফ্রেমিং করা হয়ে গেছে। শান্ত ক্যাম্পাসে এভাবে শিক্ষকের দৌড়ে পালানো দেশের ইতিহাসে বিরল। ঘটনা দু’টির প্রথমটি ঘটেছে ১১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ছাত্রদের জটলা দেখে ভোঁ-দৌড় দেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দিন। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দিন দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের তাকে আটকানোর চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে জামাল উদ্দিনের গায়ের সোয়েটার খুলে যায়। তিনি সোয়েটার দিয়ে তাকে পেঁচিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেন। তার জন্য অপেক্ষমাণ গাড়িতে উঠে দ্রুত পালিয়ে যান। দৌড়ানোর সময় একবারও এমন মনে হয়নি, জুবায়ের তাকে আঘাত করতে চাচ্ছেন। চাইলে তরুণ তাগড়া জুবায়েরের হাত থেকে জামাল উদ্দিন রেহাই পেতেন না। গাড়িতে উঠে পালিয়ে যেতে পারতেন না। তার পরও এ ঘটনাকে ‘আক্রমণ’ বলা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে বলা যায় শিক্ষকদের বাসাবাড়ি। তাদের সবচেয়ে আপন জায়গা। ছাত্ররা সবাই শিক্ষকের অনুজ, স্নেহভাজন। শিক্ষকরা দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত, আলোকিত মানুষ। একজন শিক্ষককে বিনা কারণে কেউ হুমকি-ধমকি দেবেন, এমন হতে পারে না। মারধর করবেন, এমনটি চিন্তাও করা যায় না। এখনকার সময়টাও একেবারে অনুকূল, বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এখন বিরাজ করছে। সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে নেই। বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিদিন ট্যাগ দিয়ে ছাত্রদের ওপর নির্যাতন করা হতো। তার পর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মামলায় জড়িয়ে দেয়া হতো। ছাত্রলীগ ও তাদের মদদপুষ্টরাই এসব করত। গত দেড় বছরে এ ধরনের ঘটনা কোনো ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি। তার পরও এই নিরাপদ ক্যাম্পাসে জামাল উদ্দিনের পালিয়ে যাওয়ার হেতু হলো, তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা। ছাত্র নির্যাতনের সাথে জড়িত। জুলাইয়ে গণহত্যা চালানোর জন্য প্রকাশ্যে জনসভায় হুমকি দিয়েছেন। ১১ ডিসেম্বর তিনি ফ্যাসিবাদের দোসর শিক্ষকদের সাথে গোপনে মিটিং করতে ক্যাম্পাসে আসেন। এ কারণে তার কোনো নৈতিক মনোবল ছিল না। যে ছাত্রদের তিনি নির্যাতন ও পীড়নের পক্ষে ছিলেন, তাদের সাথে কথা বলার সাহস তার ছিল না। তাই ছাত্রদের দেখেই তিনি পালানোর তাগিদ বোধ করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জানুয়ারি আরেকজন শিক্ষকের পালানোর ঘটনাও বিস্ময়কর। আইন বিভাগের শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান দৌড়ে পালাচ্ছিলেন। তিনি শুধু পালাচ্ছেন না, সাথে চিৎকার করে কাঁদছেন। ভয়ে তার মুখ থেকে গোঙানোর শব্দ বের হচ্ছিল। এ দিকে এক ছাত্র তার পিছু ছুটছেন। শেষ পর্যন্ত রোমানকে তিনি ধরে ফেলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একই চিত্র এ ঘটনায়ও দেখা গেল। রোমানকে অত্যন্ত যত্নের সাথে শুধু আগলে রাখা হলো। তাকে কোনো ধরনের মারধর দূরে থাক, হেনস্তা হয়- এমন ভাবভঙ্গিও ছাত্ররা করেনি। তাকে আটক করে ছাত্ররা সাবধানতার সাথে নিয়ে যায়। ছাত্রদের হাতে রোমানের ধরা পড়ার আগের মুহূর্তের আরেকটি ভিডিও চিত্র পাওয়া যায় সামাজিক মাধ্যমে। তাতে দেখা যায়, এক ছাত্রী রোমানকে আটক করার চেষ্টা করছেন। অন্য দিকে এক শিক্ষক মেয়েটির হাত থেকে তাকে বাঁচিয়ে দিতে চাইছেন। মেয়েটি কোনোভাবে রোমানকে পালিয়ে যেতে দেবেন না। ওই শিক্ষক মেয়েটিকে নিবৃত্ত করতে যারপরনাই চেষ্টা করেছেন। তাকে মা ডেকেছেন, বিচার পাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তাতেও মেয়েটিকে থামানো যায়নি। এই ছাত্রী হিজাব পরা। তাকে ভদ্র শান্তশিষ্ট দেখাচ্ছিল। কোনো ধরনের উগ্রতা ছিল না তার মধ্যে। তাহলে কেন এ মেয়েটি রোমানকে আটকাতে অনমনীয়। ছাত্রছাত্রী নির্বিশেষে সবাই কেন এই শিক্ষকদের ওপর এতটা ক্ষুব্ধ, তার বিবরণ আমাদের কোনো মূল ধারার মিডিয়া ও সুশীলদের মুখে নেই।
রোমানকে আটককারী চাকসুর ছাত্রনেতারা এ ঘটনা নিয়ে পরে বিস্তারিত বলেছেন। তাতে পরিষ্কার করে জানা গেল, শিক্ষক হয়েও কেন রোমানকে চোরের মতো দৌড়ে ক্যাম্পাস থেকে পালাতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির ট্যাগ দিয়ে বি-মানবিকরণের সংস্কৃতি চালু করার কারিগরদের অন্যতম এই রোমান। তিনি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর পক্ষে এ কাজে নিযুক্ত ছিলেন। ক্যাম্পাসে বহু ছাত্রের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন তিনি। নির্যাতনের শিকার এসব ভুক্তভোগীই ক্যাম্পাসে তাকে আটক করেছেন। ওই সব ছাত্র কিন্তু তাকে পেটাননি, অপমান করেননি। তারা শুধু এই শিক্ষক নামের আওয়ামী পাণ্ডাকে বিচারের আওতায় আনতে চেয়েছেন। ছাত্রদের কাছে তার বিরুদ্ধে ক্রমাগত ছাত্র নির্যাতনের প্রমাণিত অভিযোগ আছে। কিছু ছাত্রের জীবনও তিনি ধ্বংস করে দিয়েছেন। তারাই আজ প্রতিকার পেতে তাকে ধরেছেন।
২০১৬-১৭ সালে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা একদল ছাত্রকে বিএনপি-জামায়াত ট্যাগ দিয়ে রোমানের হাতে তুলে দেয়। আইনের এই শিক্ষক নিজের এই ছাত্রদের নামে অস্ত্র-মাদকের মামলা সাজিয়ে দেন। তাদের মধ্যে একজনের আড়াই বছরসহ তিনজনের জেল হয়। সাতজনের ছাত্রত্ব বাতিল হয়। তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টি রোমানের কারণে নষ্ট হয়ে যায়। জুলাইতে ছাত্রদের দমনে ছাত্রলীগের সাথে ছিলেন তিনি। ৫ আগস্টের পরও রোমান থেমে নেই। ফ্যাসিস্ট চক্রের সাথে মিলে ক্যাম্পাসে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে যাচ্ছেন। আটকের পর তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনে এর প্রমাণ মেলে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে তিনি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ করে চলছেন। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে তিনি তাদের সাথে একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। ছাত্রদের গাঁজাসহ ক্ষতিকর মাদক সেবনে উৎসাহিত করছেন, এমন প্রমাণও তার মোবাইলে পাওয়া গেছে।
একজন মানবাধিকার হরণকারী ছাত্র নিপীড়ক ও মাদকগ্রস্ত কোনো মানদণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার কথা নয়। আওয়ামী আনুকূল্যে সেটি তিনি অনায়াসে হয়েছেন। ফ্যাসিবাদী শক্তির ক্রীড়নক হওয়ার অপরাধে ৫ আগস্টের পর তার জেলে যাওয়ার কথা, তা হয়নি। সর্বশেষ খবর হচ্ছে, ভুক্তভোগী ছাত্ররা মামলা করতে চাইলেও থানা তার বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি। এ দিকে বামপাড়ায় এসব শিক্ষককে নিয়ে কান্নার রোল পড়ে গেছে। শিক্ষক হেনস্তা, অপমানের বিরুদ্ধে একজোটে প্রতিবাদে মাঠে নেমে গেছেন তারা। আ ক ম মোজাম্মেলকে ছাত্ররা আটক করতে পারেননি, তার পরও বিবৃতি দিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। শিক্ষককে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টাকে শিক্ষক নেটওয়ার্ক এ বি জুবায়েরের ‘গুণ্ডামি’ বলছেন। তারা জুবায়েরের অঙ্গভঙ্গির দোষ ধরছেন। আরো মজার বিষয় হচ্ছে, তার এ ঘটনাকে ফ্যাসিস্ট ছাত্রলীগের সাথে তুলনা করছেন। বাস্তবে ছাত্রলীগ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের রীতিমতো অপমান-লাঞ্ছনা ও মারধর করত; কিন্তু এসব শিক্ষক সেসবের মধ্যে তখন দোষের কিছু দেখতেন না।
চট্টগ্রামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়েছিল ছাত্ররা। পুড়িয়ে মারার লক্ষ্যে এ কাজ করেছিল। তার অপরাধ, নিয়মিত ক্লাস না করায় এক ছাত্রলীগ কর্মীকে পরীক্ষা দিতে দেননি। রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিটিউটের অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করে পানিতে চুবিয়েছে ছাত্রলীগ। ক্লাসে উপস্থিতির হার কম থাকায় ভর্তির ফরম পূরণ করতে দেননি তিনি। এই ছিল তার অপরাধ। এমন কোনো দিন ছিল না, ছাত্রলীগ শিক্ষকদের মারধর-অপমান করেনি। এর মধ্যে কানধরে ওঠবস, ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার মতো ঘটনাও ছিল। এ ধরনের গুরুতর অপরাধের পরও ছাত্রলীগকে গুণ্ডা মনে হয়নি তখন। এরা ওই সব কুৎসিত ঘটনার সময় মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন। তারা যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ঘটা গুণ্ডামির প্রতিবাদ করতে পারতেন, তাহলে দেশকে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়তে হতো না। ফ্যাসিবাদী শিক্ষকদের যখন বিচারের প্রশ্ন এলো, তারা সে বিচার বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছেন। এটি হলো পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের বিচারহীনতার শাসনের প্রতি সমর্থন।
চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসান মোহাম্মদ রোমানের ঘটনায় সাদা দলের শিক্ষকরাও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিএনপিপন্থী এই শিক্ষকরা সম্ভবত রোমানের ঘটনাটি সঠিকভাবে জানেন না। তারা জানেন না, বিএনপিপন্থী ট্যাগ দিয়ে বহু ছাত্রের ওপর পীড়ন চালিয়েছেন। নির্যাতিত ছাত্রদের বিচার চাওয়ার প্রচেষ্টাকে সাদা দলের শিক্ষকরাও ‘মব’ নাম দিয়েছেন। বামদের প্রচারণায় বিএনপি ও কথিত উদারপন্থীরা নিজেদের স্বার্থের বিষয়টিও ভুলে যাচ্ছেন। বিএনপিপন্থী এসব শিক্ষককে বুঝতে হবে, ছাত্রত্ব হারিয়ে শিক্ষাজীবন ধ্বংস হয়ে যাওয়া পীড়িতরা মব করছেন না; বরং তারাই রোমানদের তৈরি মবের শিকার। তারা এখন বিচার চাচ্ছেন। তাদের জানা উচিত, রোমানের বিরুদ্ধে থানা মামলা নেয়নি। রোমানকে ছাত্ররা আটক করেছিল। তিনি ছাড়া পেয়ে গেছেন। তাকে কোনো ধরনের হেনস্তা-অপমান করেনি তারা। বিএনপিপন্থী এসব শিক্ষককে জানতে হবে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ছাত্ররা তাদের ওপর অন্যায়ের প্রতিকার চাইছেন।
আবরার ফাহাদকে হত্যার পর বুয়েটে ছাত্রলীগের নিষ্ঠুরতার বিষয়টি সামনে আসে। বুয়েটের একশ্রেণীর শিক্ষককে সাথে নিয়েই প্রতিষ্ঠানটিকে তারা মৃত্যুপুরী বানিয়েছিল। এমনটি হতে পেরেছে বামদের আনুকূল্য পাওয়ার কারণে। প্রাণ রক্ষা করার আবেদন করেও শিক্ষকদের কাছে তখন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বুয়েটে। তারা উল্টো ছাত্রলীগের সহযোগী হয়ে তাদের জেলে পুরে জীবন শেষ করে দেয়ার নিষ্ঠুর খেলায় মাতেন। একই গোষ্ঠী এখন নেমেছে আগের এই অপরাধের সাথে জড়িতদের বাঁচিয়ে দিতে। এ জন্য বরাবরের মতো তাদের সাথী মিডিয়া ও সুশীল সমাজ। বিচার পাওয়ার জন্য ভুক্তভোগীরা যখন ক্ষোভে ফুঁসছেন, এটিকে তারা ‘মব’ বলছে। একই গোষ্ঠীকে তারা আগে জঙ্গি তকমা দিয়ে বিচারযোগ্য করেছে। এই গোষ্ঠীর সম্মিলিত কর্মকাণ্ড শেয়ালের মতো। মিডিয়া তাদের জোরালো সমর্থন করে। দুটো ঘটনাতেই মিডিয়া অভিযুক্ত শিক্ষকদের অপরাধের বিষয়ে নীরব। কিন্তু তাদের শিক্ষক পরিচয় নিয়ে অত্যন্ত সরব। শিক্ষক পূতপবিত্র, তাদের কোনো দোষ হতে পারে না। শিক্ষকদের যখন চরম অপমান করেছে ছাত্রলীগ, এই উপলব্ধি তখন এই মিডিয়া ও সুশীলসমাজের ছিল না।
মিডিয়া শিক্ষক হেনস্তা ও অপমান নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছে। প্রথম আলো ও সমকাল ছাত্রদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় নেমে পড়েছে। তাদের সন্ত্রাসী গুণ্ডা হিসেবে চিত্রায়ন করে ফেলেছে। শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে সমকাল বিশাল এক সম্পাদকীয় লিখেছে। সেখানে তারা বিশ্ববিদ্যালয় বিপন্ন, শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস হওয়ার জন্য শোক করেছে। অথচ পত্রিকাটি রোমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিয়ে কোনো সংবাদ করেনি; বরং পরের দিন পত্রিকার প্রধান শিরোনাম করেছে একই বিষয় নিয়ে। তাতে নিজেরা গল্প রচনা করে সব দায় শিবিরের ওপর চাপিয়ে তাদের বিচারযোগ্য করে তুলছে। এসব নিয়ে চাকসু সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ওই সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদের পক্ষ থেকে সমকাল ও প্রথম আলোর একপেশে সংবাদ প্রকাশের নিন্দা জানানো হয়। সমকাল সংবাদ সম্মেলনের খবরটিও ঠিকভাবে দেয়নি।
লেখক : সহকারী সম্পাদক, দৈনিক নয়া দিগন্ত



