২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধের দাবানল জ্বলে উঠেছে, তা বিশ্ব রাজনীতির বিদ্যমান নিয়ম-কানুনকে একটি ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক আইনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল। তখন থেকে রাষ্ট্রগুলোর সামরিক পদক্ষেপের লাগাম টানতে এবং সশস্ত্র শক্তির ব্যবহারের বৈধতা যাচাইয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পায়। একতরফা আগ্রাসন প্রতিরোধ এবং যেকোনো রণতৎপরতা আইনি বৈধতার কঠোর শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর এ বিশ্বব্যবস্থার মূল অঙ্গীকার। তবে এ নিয়মের লঙ্ঘন যে একেবারে ঘটেনি তা নয়। আন্তর্জাতিক আইনের এই অবজ্ঞা প্রায়শই রাশিয়া কিংবা ইসরাইলের মতো রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়; যেমনটি ঘটেছে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আগ্রাসনে এবং ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অব্যাহত আক্রমণে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিশ্বজুড়ে তীব্রভাবে সমালোচিত। এ ধরনের আচরণকে সাধারণত আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রচলিত রীতিনীতির বিচ্যুতি বা ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে গণ্য করা হতো। তা সত্ত্বেও, খুব নিকট অতীত পর্যন্ত বেশির ভাগ রাষ্ট্র নিজেদের সামরিক পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর ভেতরে রেখে কোনো না কোনোভাবে বৈধ প্রমাণের চেষ্টা করে যেত।
১৯৪৫ পরবর্তী কয়েক দশকজুড়ে এটি ছিল সাধারণ ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র তার শত্রুপক্ষীয় রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার সময় আন্তর্জাতিক আইনের এ নিয়ম-নীতিগুলো মোটামুটি মেনে চলত (যদিও সিআইএর চালানো গোপন অভিযানগুলো ছিল এর ব্যতিক্রম)। আজকের যে আধুনিক আন্তর্জাতিক আইন, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল মূলত আমেরিকার হাত ধরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে নাৎসি বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং তাদের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে নেতৃত্ব দিয়েছিল, তাই আধুনিক আন্তর্জাতিক আইনের বর্তমান কাঠামো বিনির্মাণে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল। মূলত এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনের জগতে একটি নতুন ধারার প্রবর্তন ঘটে, যাকে আমরা এখন ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন’ বলে জানি।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপগুলো সেসব আন্তর্জাতিক আইনের মূলে কুঠারাঘাত করছে। নিজেদের হাতে গড়া যে আইনি কাঠামোর উপর ভিত্তি করে আধুনিক আন্তর্জাতিক আইন দাঁড়িয়ে আছে, যুক্তরাষ্ট্র আজ যেন নিজেই সেই নিয়মগুলো অস্বীকার করে এক নতুন ‘আইনহীন’ বলয় তৈরি করছে। বিশ্ব-ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর এ প্রবণতা ২০২৬ সালে ইরানের উপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হামলার মাধ্যমে শুরু হয়নি; বরং এর ঐতিহাসিক যোগসূত্র খুঁজতে আমাদের ফিরে যেতে হবে ২০০৩ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়কালে, যখন দ্বিতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের সূচনা হয়েছিল। বর্তমান নিবন্ধে ইরানের উপর আমেরিকার এই রণতৎপরতার আইনি দিকগুলো বিশ্লেষণ করব।
বর্তমান সঙ্ঘাত কেন আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে, তা বুঝতে আন্তর্জাতিক আইনের ভূমিকা ও এর সীমাবদ্ধতাগুলো প্রথমে একটু পর্যালোচনা করা দরকার। উনিশ শতকের ইউরোপে যুদ্ধকে এখনকার মতো সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে দেখা হতো না; বরং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ মীমাংসার একটি শেষ অবলম্বন হিসেবে তা প্রায়শই বিবেচিত হতো। অর্থাৎ কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান না হলে সরকারগুলো কখনো কখনো যুদ্ধকে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি বৈধ উপায় মনে করত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের নজিরবিহীন ধ্বংসলীলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পুরনো ধ্যানধারণা পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছিল। এর ফলে, রাষ্ট্রগুলো যেন যত্রতত্র শক্তি প্রয়োগ করতে না পারে, সে জন্য সামরিক পদক্ষেপের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ এবং তা নিয়ন্ত্রণের এক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। সমকালীন বিশ্বব্যবস্থায় যুদ্ধ পরিচালনার বিধি-নিষেধগুলো মূলত ১৯৪৫-এর জাতিসঙ্ঘ সনদের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এ সনদের ২(৪) ধারাটি রাষ্ট্রগুলোর উপর এক কঠোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে; যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে— কোনো দেশ অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব বা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে না। এতসব বিধিনিষেধ সত্ত্বেও জাতিসঙ্ঘ সনদ যুদ্ধকে পুরোপুরি নাকচ করে দেয়নি; বরং এমন দু’টি ব্যতিক্রমী অবস্থার কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে বল প্রয়োগকে আজও আইনসম্মত বলে গণ্য করার অবকাশ আছে।
প্রথম ব্যতিক্রমটি হলো জাতিসঙ্ঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে কোনো রাষ্ট্রের ‘নিজস্ব বা সম্মিলিত আত্মরক্ষার সহজাত অধিকার’। তবে এই আইনি সুরক্ষার অধিকারটি কেবল তখন কার্যকর হয়, যখন কোনো রাষ্ট্র সরাসরি কোনো ‘সশস্ত্র আক্রমণের’ শিকার হয়। এমন পরিস্থিতিতে, যে রাষ্ট্রটি আক্রান্ত হয়েছে, তারা নিজেদের রক্ষা করতে পাল্টা বলপ্রয়োগ বা শক্তি প্রয়োগ করতে পারে। দ্বিতীয় ব্যতিক্রমটি তখনই কার্যকর হয়, যখন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা বা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের অধীনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের অনুমতি প্রদান করে। সনদের ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদ প্রথমে খতিয়ে দেখে যে, বিশ্বশান্তির জন্য কোনো হুমকি তৈরি হয়েছে কি-না, শান্তি ভঙ্গ হয়েছে কি-না, অথবা কোনো আগ্রাসনমূলক কাজ সংঘটিত হয়েছে কি-না। এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর পরিষদ ৪১ ও ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ বা নির্দেশ জারি করতে পারে। ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদে মূলত বেসামরিক পদক্ষেপ, যেমন— অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অন্য দিকে, ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ সরাসরি সামরিক অভিযানের অনুমতি দেয়। নিরাপত্তা পরিষদ যদি মনে করে, ৪১ অনুচ্ছেদের অধীনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো পর্যাপ্ত নয় বা ব্যর্থ হয়েছে, তবে তারা সশস্ত্র শক্তি প্রয়োগের অনুমোদন দিতে পারে।
২০০৩ সালে দ্বিতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে একটি প্রস্তাব পাস করিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইরাকের ক্ষমতা থেকে সাদ্দাম হোসেনকে অপসারিত করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের একটি বৈধ আইনি অনুমোদন লাভ করা। তবে তারা এমন কোনো অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়েছিল, কারণ বিশ্বের অনেক দেশ প্রস্তাবিত সেই ইরাক আক্রমণের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযান শুরু হয়। এ অনুমোদন না থাকার কারণে যুদ্ধটির আইনগত বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন হাউজ অব লর্ডসের প্রথিতযশা বিচারক লর্ড টম বিংহাম। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রয়োজনীয় সম্মতি ছাড়া ইরাকে যে আগ্রাসন চালানো হয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক আইনের মূলে এক চরম আঘাত বা সুস্পষ্ট ব্যত্যয়। লর্ড বিংহামের এ পর্যবেক্ষণ ছিল সমকালীন আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞদের সম্মিলিত আশঙ্কার এক প্রতিধ্বনি। তাদের ভয় ছিল, এ যুদ্ধ সেই আইনি ভিত্তি নড়বড়ে করে দিচ্ছে, যা ১৯৪৫-পরবর্তী বিশ্বকে এক সঙ্ঘাতমুক্ত শৃঙ্খলায় বাঁধার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার বর্তমান রণকৌশল বা দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে হলে আমাদের ইরাক যুদ্ধের-পরবর্তী বৈশ্বিক পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে। ২০০৩ সালে ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই অনুমোদন তারা পায়নি। তবু শেষ পর্যন্ত ইরাকে আক্রমণ পরিচালিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান অভিযান এ বার্তা দিচ্ছে, আমেরিকা এখন আর আন্তর্জাতিক বৈধতা খোঁজার প্রয়োজন মনে করছে না। এটি মোটেও আশ্চর্যজনক নয়; কারণ সবাই জানে যে— ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের অনুমতি দেয়া নিরাপত্তা পরিষদের জন্য প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যেখানে ইরানকে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে গণ্য করার মতো যথেষ্ট কারণ নেই। এভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপের ফলে জাতিসঙ্ঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়টি আজ সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং মূল্যহীন হয়ে পড়েছে।
জাতিসঙ্ঘ সনদের অধীনে শক্তি প্রয়োগের আরেকটি ব্যতিক্রম হলো আত্মরক্ষার অধিকার। কিন্তু ইরানের উপর হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এ যুক্তিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেনি। ওয়াশিংটনের বক্তব্যে ইরানের কোনো সশস্ত্র আক্রমণ বা যুক্তরাষ্ট্রের উপর আসন্ন হুমকির উল্লেখ নেই, যা আত্মরক্ষার ভিত্তি হতে পারত। কোনো গ্রহণযোগ্য অজুহাত না থাকায় এ অভিযানের আইনি ভিত্তিটি চরম ধোঁয়াশাচ্ছন্ন রয়ে গেছে। বস্তুত, আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডে এ হামলাকে বৈধতা দেয়ার মতো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত দেয়নি। এ আক্রমণের সমর্থনে যে ধরনের বক্তব্য আসছে, তাতে আইনি ব্যাখ্যার চেয়ে রাজনৈতিক বিদ্বেষ বেশি প্রকট। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায়— ইরান সরকার হলো এক ‘শয়তান’ এবং এর কর্ণধাররা ‘খারাপ মানুষ’ এমন নীতিবাদী তকমা দিয়ে যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি বা ধারণা যত দৃঢ় হোক না কেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কেবল নৈতিক অসমর্থন বা নিন্দা কখনো যুদ্ধের বৈধ কারণ হিসেবে স্বীকৃত নয়।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো— এ ধরনের আচরণ অন্যান্য শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোকেও উৎসাহিত করতে পারে, যাতে তারাও দুর্বল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে একই ধরনের আচরণ বা পথ বেছে নেয়। যদি শক্তি প্রয়োগের আন্তর্জাতিক নিয়মগুলো বড় শক্তিগুলো উপেক্ষা করতে শুরু করে, তবে অন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও এমন প্রবণতা বাড়তে পারে যে, তারাও আইনি বৈধতা ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এ অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এ আশঙ্কাকে বাস্তব করে তুলছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত পাকিস্তানের উপর হামলা চালায় এবং চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান আফগানিস্তানে হামলা করে। উল্লিখিত কোনো ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছিল না। এ ছাড়া আত্মরক্ষার সুস্পষ্ট দাবিও উত্থাপিত হয়নি।
একের পর এক আইনের এ লঙ্ঘন এক ভয়াবহ পরিণতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো যদি শক্তি প্রয়োগের আন্তর্জাতিক নিয়মগুলো প্রকাশ্যে অগ্রাহ্য করে, তাহলে ১৯৪৫ সালের পর যে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তা ধীরে ধীরে কার্যকারিতা হারাতে পারে। ছোট ও দুর্বল দেশগুলোর জন্য এ পরিস্থিতি বিশেষভাবে বিপজ্জনক। কারণ, তাদের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের উপর আর পুরোপুরি নির্ভর করা সম্ভব নাও হতে পারে। এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের খামখেয়ালি কর্মকাণ্ডে বিশ্বব্যাপী যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে এক দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিতে দাঁড় করিয়েছে।
লেখক : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নিবন্ধিত কৌঁসুলি



