সাদা দিলে কাদা লাগানোর চেষ্টা!

নতুন মন্ত্রী সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সাথে তার দুর্বল বোঝাপড়ায় সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার নামে গ্রহণযোগ্যতা দেয়ায় বিপদে পড়েছেন। এটিকে বৈধতা দিলে যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি, প্রশাসন ইত্যাদি সেবার পাশাপাশি সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংক, বিদ্যুৎসহ অন্য সব খাতেও একই তত্ত্বের ধারাবাহিক প্রয়োগ ও প্রসার ঘটবে— তা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন। এখানে তার শুধু পরিবহন খাতের অনিয়ম-দুর্নীতিতে প্রলেপ দেয়ার মনোবাঞ্ছা ছিল, সেটিই ফুটে ওঠে বলে অনেকে মনে করছেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবগঠিত সরকারের সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেয়া হলে সেটি চাঁদা নয়; বরং টাকা দিতে বাধ্য করা হলে সেটি চাঁদা। নিজ দফতরে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটি বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটি ব্যয় করে। এটি অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটিকে বলতে চাই, যেটি কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয়, তা নিয়ে হয়তো বিতর্ক আছে। কিন্তু তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটি করে।’ তার এই বক্তব্যে সারা দেশে শোরগোল পড়েছে। তীব্র সমালোচনায় মেতে উঠেছেন কেউ কেউ।

এ বক্তব্য ন্যায্য কী অন্যায্য— সেই বিচার করার আগে আমরা বরং আগে দেখে নিই সমঝোতা আর চাঁদা আসলে কী অর্থে ব্যবহৃত হয়। বাংলা সমঝোতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কমপ্রোমাইজ। এর অর্থ— দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে এমন একটি চুক্তি বা রফা, যেখানে বিবদমান পক্ষগুলো পারস্পরিক স্বার্থে তাদের দাবির কিছু অংশ ছাড় দিয়ে একটি সাধারণ সমাধানে পৌঁছায়। এটি মূলত বিরোধ বা মতবিরোধ নিরসনের একটি মাধ্যম, যা সব পক্ষের পারস্পরিক সম্মতি ও আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত হয়। সমঝোতার মর্মার্থ : পারস্পরিক ছাড়— প্রতিটি পক্ষ নিজেদের জেদ বা দাবি থেকে কিছুটা সরে আসে। এটি কোনো পক্ষের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয় না; বরং স্বেচ্ছায় মেনে নেয়া একটি সুরাহা। কোনো বিবাদ বা সমস্যা সমাধান করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি কৌশল। পরস্পরবিরোধী দু’টি মতের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী পথ বের করাই সমঝোতা। প্রকৃত বাস্তবতায় আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘উইন-উইন’ (সবাই লাভবান) বা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি করাই হলো সমঝোতার মূল লক্ষ্য। সংক্ষেপে, সমঝোতা হলো ‘নিজে কিছুটা ছাড় দিয়ে অন্যকে কিছুটা জায়গা দিয়ে সমস্যার সমাধান করা।’ এতে সব পক্ষের মতপার্থক্য বা বিরোধ মিটে শান্তি স্থাপিত হয়। তাই সমঝোতা শান্তি ও সহাবস্থানে প্রয়োজনীয় একটি পদ্ধতি, যা ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর একটি দাওয়াই।

অন্যদিকে বাংলা চাঁদা শব্দটি ফারসি ‘চান্দাহ্’ থেকে এসেছে। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য, উৎসব বা জনকল্যাণমূলক কাজে অনেকের কাছ থেকে সংগৃহীত বা অনুদান হিসেবে নেয়া অর্থ। কিন্তু চাঁদা কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে আদায় করা হলে তা চাঁদাবাজিতে রূপ নেয়। তখন তা আর বৈধ থাকে না। হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ অবৈধ। দেখা যাচ্ছে— শব্দ দু’টির বৈধতার বেলায় উভয় ক্ষেত্রে পারস্পারিক সম্মতি বা বোঝাপড়া থাকা জরুরি।

সমঝোতা আর চাঁদার পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যে হৃদয়ের কথা বলতে ব্যাকুল ছিলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তা স্পষ্ট। তার মতো সাদা দিলের সজ্জন ব্যক্তি সরল মনে সহজ স্বীকারোক্তি দিয়ে এখন বেকায়দায়। মানে, ফেঁসে যাওয়ার উপক্রম। সাদা দিলের কথা উঠলে জনপ্রিয় গানের কলি ‘সাদা দিলে কাদা লাগায় গেলি রে বন্ধুয়া’র মতো শেখ রবিউল আলমের চরিত্রে কালিমা লেপনের অপচেষ্টায় লিপ্ত সুশীল নামধারী কিছু ব্যক্তি বিশেষ।

শেখ সাহেবের মতো আলাভোলা ব্যক্তি মন্ত্রী হয়ে দায়িত্ব পালন করতে আসনে বসেছেন— সেই তাকে কিনা এভাবে নাজেহাল করা? এর কোনো মানে হয়? অথচ দুর্জনেরা বেমালুম ভুলে গেছেন, নতুন যেকোনো দায়িত্ব নিয়ে প্রথম প্রথম কিছু ভুল হওয়া স্বাভাবিক। যেমন— আমাদের সংস্কৃতিতে নববধূর ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়। সংসার জীবনের খুঁটিনাটিও তখন তার অজানা। তাই তাকে শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে হয়। শুরুর দিকে বয়স্করা ছাড় দেয়াই বাঞ্ছনীয় মনে করেন। সঙ্গত কারণে প্রথম দিকের ত্রুটি আমলে নেয়া হয় না। এ দৃষ্টিতে দেখলে মন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্যের একটি রফা হতে পারত; কিন্তু না, উল্টো তীব্র-তীক্ষ্ণ সমালোচনায় ব্যতিব্যস্ত অনেকে। এ প্রবণতা সত্যি হতাশার। শুধু শুধু একজন সজ্জনকে তির্যক বাক্যবাণে জর্জরিত করা নেহাত অবিবেচনাপ্রসূত। ভারী অন্যায়। ক্ষেত্রবিশেষে বেয়াদবি। সম্মানিত ব্যক্তির ভুল ধরা আমাদের সমাজে বারণ! এটি বরদাশত করা যায় না।

গরল ব্যক্তিরা সরল কথার বাঁকা অর্থ খোঁজার যে চেষ্টা করছেন, খুঁত ধরছেন; এটি জানলে, টের পেলে, মন্ত্রী মহোদয় ঘুণাক্ষরেও ইহজনমে এমন কথা মুখেও আনতেন না। এমন প্রেক্ষাপটে একজন ব্যক্তির প্রতি দয়া-মহব্বত-রহমের লেশমাত্র দেখানো হবে না, তা হয় না। এ নিয়ে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা-ট্রান্সফারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির তড়িঘড়ি বিবৃতি দেয়া সত্যিই দৃষ্টিকটু। যেন তর সয় না। মন্ত্রীর চরিত্র হননে নাখোশ আমরা। বিষয়টি নিয়ে উঠেপড়ে লাগায় টিআইবির প্রতি আড়চোখে না তাকিয়ে উপায় আছে!

সমঝোতার কথা বলে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টায় টিআইবি উদ্বেগ জানিয়েছে। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন উল্লেখ করে একটি গুরুতর অপরাধকে সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বৈধতা দেয়ার যে অজুহাত খুঁজেছেন, তাতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। সেই সাথে এ জাতীয় দুর্নীতি-সহায়ক অপচেষ্টাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে নিজ দল শুদ্ধীকরণে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মন্ত্রীর এ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পরিবহনমন্ত্রী চাঁদাবাজির যে সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন, তা তিনিসহ মন্ত্রিপরিষদের প্রায় প্রতিটি সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিবিরোধী যে দৃঢ় অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন, তার সম্পূর্ণ বিপরীত।’ তিনি আরো বলেন, ‘মন্ত্রীর পরিবহন খাতের ক্যান্সার চাঁদাবাজির সুরক্ষাপ্রয়াসী এ মন্তব্য খুব হতাশাজনক। এর মাধ্যমে পরিবহনমন্ত্রী তার নিজ দলের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার ও সরকারপ্রধানের দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থানকে বিব্রতকরভাবে অবমূল্যায়ন করেছেন।’

শুধু টিআইবি নয়, দুর্জনেরা বলছেন— পরিবহনমন্ত্রী যেভাবে সড়ক ও পরিবহন খাতের বিদ্যমান চাঁদা-সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যাসহ পক্ষাবলম্বন ও সমর্থন করেছেন, তাতে স্পষ্টত তিনি চাঁদাবাজির মতো একটি অনৈতিক ও যোগসাজশের দুর্নীতিকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছেন। যার সরাসরি ভুক্তভোগী এ দেশের পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ, যাদের এ অবৈধতার বোঝা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বইতে হয়। তারা আরো বলেন, মালিক ও শ্রমিক কল্যাণকে যেভাবে এখানে বৈধতার অজুহাত বা ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, তা শুধু বিভ্রান্তিকর নয়; বরং এ খাতে বিরাজমান দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল ও নৈরাজ্যপূর্ণ ব্যবস্থাকে সুরক্ষাসহ চলমান রাখার অপতৎপরতার শামিল।

মন্ত্রীর বক্তব্যে যে বাহাসের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে বোঝা যচ্ছে— সমঝোতায় ফাঁক থাকলে যে বিপদ হতে পারে, সে সম্পর্কে মন্ত্রী ওয়াকিবহাল নন। সমঝোতার কমতিতে কী হয় সে সম্পর্কে একটি উদাহরণ দিই। দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকার অভিনয়ে অভিষেক ২০১৬ সালের কন্নড় চলচ্চিত্র ‘কিরিক পার্টি’র মাধ্যমে। রঙিন দুনিয়ায় পা রেখে প্রথম ছবির সহশিল্পী রীক্ষিত শেঠির সাথে শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে দিল দেয়া-নেয়ার পালা সেরে ফেলেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে বাগদান সম্পন্ন হয়। সে সময় রাশমিকার বয়স ছিল ২১, আর রীক্ষিতের ৩৪। তবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তারা বাগদান ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দেন। কারণ হিসেবে জানানো হয় ‘সমঝোতার অভাব’। সেই সময় রাশমিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রল ও হয়রানির শিকার হন। পরিস্থিতি এতটাই তীব্র ও অসহনীয় হয়েছিল যে, তাকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানাতে হয়, তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং অযাচিত আক্রমণের মুখে পড়েছেন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রাশমিকা সাতপাকে বাঁধা পড়ছেন দক্ষিণি চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় আরেক নায়ক বিজয়ের সাথে।

কিন্তু নতুন মন্ত্রী সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সাথে তার দুর্বল বোঝাপড়ায় সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার নামে গ্রহণযোগ্যতা দেয়ায় বিপদে পড়েছেন। এটিকে বৈধতা দিলে যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি, প্রশাসন ইত্যাদি সেবার পাশাপাশি সরকারি ক্রয়, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যাংক, বিদ্যুৎসহ অন্য সব খাতেও একই তত্ত্বের ধারাবাহিক প্রয়োগ ও প্রসার ঘটবে— তা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন। এখানে তার শুধু পরিবহন খাতের অনিয়ম-দুর্নীতিতে প্রলেপ দেয়ার মনোবাঞ্ছা ছিল, সেটিই ফুটে ওঠে বলে অনেকে মনে করছেন।

তিনি এ-ও ভুলে গিয়েছিলেন, ‘চাঁদা’ নয় ‘সমঝোতা’ তার এ কথার ভুল বার্তা পৌঁছতে পারে। তার অজানা থাকার কথা নয়, সড়কে চাঁদাবাজি বাংলাদেশে নতুন নয়। এ নিয়ে নানা সমালোচনা, প্রতিবাদ থাকলেও প্রতিকার নেই; বরং দিনে দিনে এটি ‘মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ হিসেবে স্থায়ী রূপ পেয়েছে। মুখ বদলালেও চাঁদাবাজি থামেনি পরিবহনে। টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের ফি, কাউন্টারের ব্যয়, পরিবহনের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের বেতন, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল, মসজিদের খরচসহ নানান খাত দেখিয়ে পরিবহন খাতে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা একটি সরকারি তদন্ত অনুসারে, কেবল ঢাকা শহরে ৫৩টি পরিবহন টার্মিনাল এবং স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি টাকা চাঁদাবাজি করা হয়, যা প্রতি মাসে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা এবং কখনো কখনো ৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। পরিবহন খাতে চাঁদা আদায়কে সমঝোতা বা অলিখিত বিধি হিসেবে বর্ণনা করার মাধ্যমে অনিয়মকে বৈধতা দেয়া হচ্ছে, অনেকের এমন মনে করাকে খুব কি অযৌক্তিক বলা যাবে। মন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সমালোচনা চলছে সামাজিক মাধ্যমেও।

আমাদের দেশে আগ বাড়িয়ে কথা বলার অভ্যাস (পড়তে হবে বদভ্যাস) আছে। নতুন পরিবহনমন্ত্রীও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় অভ্যাসের বসে মুখ ফসকে বেফাঁস কথা বলে ফেলেছেন। কিন্তু বাড়তি কথা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনে। এ নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে। গল্পটি এমন— এক ঘটক পাত্রীর বাড়িতে পাত্রসমেত গিয়ে বাড়তি কথা বলায় আখেরে বিয়েটিই ভেঙে যায়। পাত্রী দেখার আগের রাতে একসাইটেড হয়ে পাত্রের ভালো ঘুম হয়নি। বেশি মাত্রায় এসি চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তাতে তার ঠাণ্ডা লাগে। পাত্রীর বাড়িতে গিয়ে হঠাৎ কাশি চেপে রাখতে না পেরে, জোরে জোরে কাশতে থাকেন। একটু পরে স্বাভাবিকও হয়। তবে পাত্রীর মামা এত কাশির কারণ জানতে চাইলে ঘটক অতি উৎসাহে বলে বসেন, আরে কাশির কী দেখেছেন— পাত্রের তো কাশতে কাশতে গলায় রক্ত বেরোয়। ঘটকের এ কথা শুনে পাত্রীপক্ষ আতঙ্কিত হয়ে সম্বন্ধটিই ভেঙে দেয়। ঠিক তেমনিভাবে হয়তো মন্ত্রীর মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখে সমঝোতার মাধ্যমে অর্থ নিলে তা চাঁদাবাজি নয়— শুনে টিআইবিসহ সচেতন অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

[email protected]