ঈদ এলে ধনী-গরিবের বৈষম্য যেন আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঈদ ঘিরে সবারই নানা পরিকল্পনা, কেনাকাটা ও আয়োজন থাকে। কিন্তু সেটি নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত– সবার একরকম হয় না। এর অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক বৈষম্য। ঈদের সময় সরকারি কর্মচারীরা উৎসবভাতা পান অথচ অনেকসময় দেখা যায় গার্মেন্টস কর্মীদের নিজেদের প্রাপ্য বেতন আদায়ের জন্যই রাস্তায় নামতে হয়। বাজারেও ভিন্ন চিত্র বিরাজ করে। উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদা বাড়লে অনেকসময় পণ্যের সঙ্কট তৈরি হয়, আর সেই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে এসব পণ্য ক্রয় করতে গিয়ে নিম্নবিত্ত মানুষ হিমশিম খায়।
ঈদের সময় অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও ভর্তুকি প্রদান করা যেতে পারে। সে জন্য সামাজিক সংগঠনগুলোও এগিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা উচিত। যাতে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে।
আফরিদা ইসলাম
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,
ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা



