সুদানে ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় নিহত ১ : জাতিসঙ্ঘ

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান সঙ্ঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়াও উভয়পক্ষের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সেইসাথে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সঙ্কটে পড়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ত্রাণবহরে ড্রোন হামলা
ত্রাণবহরে ড্রোন হামলা |সংগৃহীত

সুদানের উত্তর করদোফান রাজ্যে একটি ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ত্রাণবহরটি এল-ওবেইদের নিকটবর্তী এলাকায় যাচ্ছিল। এল-ওবেইদ বর্তমানে সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এক বছরের বেশি সময় ধরে শহরটিকে ঘেরাও করে রেখেছে।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান সঙ্ঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়াও উভয়পক্ষের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সেইসাথে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সঙ্কটে পড়েছে।

সুদানে জাতিসঙ্ঘের মানবিক সমন্বয়কারী ডেনিস ব্রাউন জানান, এল-ওবেইদ সফর শেষে তিনি হামলার পরবর্তী দৃশ্য দেখেছেন। হামলার পর ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো জ্বলছিল। তিনি এ হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবিক কর্মী, সম্পদ ও সহায়তা সামগ্রীগুলোর সুরক্ষার আহ্বান জানান।

সুদানে যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্তকারী স্বাধীন সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানায়, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সাথে চুক্তিবদ্ধ ওই ত্রাণবহরটি হামলার শিকার হয় এবং এর জন্য তারা আরএসএফকে দায়ী করে।

স্থানীয় বেসামরিক সংগঠন ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ও হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে। সংগঠনটি জানায়, এই হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। তারা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক আরো জানায়, এ ধরনের হামলা যুদ্ধকবলিত বেসামরিক জনগণের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানোর মানবিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুদানের প্রায় দুই কোটি ১০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা থাকা এই মানুষের সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

দারফুর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ আরএসএফের হাতে যাওয়ার পর বর্তমানে করদোফান অঞ্চলেই মূলত সংঘর্ষ কেন্দ্রীভূত। এল-ওবেইদ শহরটি দারফুর ও রাজধানী খার্তুমের সংযোগকারী প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত।

সূত্র : বাসস