ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাতভর ব্যাপক হামলায় কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় ২০টি আবাসিক ভবন এবং কাতারের দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়া বৃহস্পতিবার রাতে হাইপারসনিক ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মস্কো প্রায় চার বছরের আগ্রাসন শেষ করতে পশ্চিমা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউক্রেন জানিয়েছে, হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিয়েভ। সেখানে চারজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, শুধু আবাসিক ভবনই ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত রাতে রাশিয়ার একটি ড্রোনের আঘাতে কাতার দূতাবাসের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, কাতার এমন একটি রাষ্ট্র যারা যুদ্ধবন্দী ও রাশিয়ার কারাগারে আটক বেসামরিকদের মুক্তি নিশ্চিত করতে মধ্যস্থতা করতে কাজ করেছে।
জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া ওরেশনিকসহ ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে ২৪২টি ড্রোনও নিক্ষেপ করেছে।
রুশ সামরিক ব্লগাররা জানিয়েছেন, লভিভ অঞ্চলের একটি বড় গ্যাস ডিপোতে আঘাত হানতে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইগর ক্লাইমেনকো বলেন, রাশিয়া বারবার একটি বহুতল ভবনে হামলা চালিয়েছে। তখন উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকরা সেখানে কাজ করছিলেন। তিনি এটিকে ‘জরুরি সেবার ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, রাজধানী ও আশপাশের অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিয়েভে আরো ২০টি অনাবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার হামলা এমন সময়ে হয়েছে, যখন ইউক্রেনে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে এবং এতে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
ক্লাইমেনকো বলেন, শত্রুর অমানবিক লক্ষ্য ছিল জমাটবাঁধা শীতের মধ্যে লাখো মানুষকে আলো, তাপ ও পানিবিহীন করে দেয়া।
সূত্র : এএফপি/বাসস



