পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গত দু’দিনে উগ্রবাদীদের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ২০ পুলিশ সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার একজন পুলিশ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। অস্থির সীমান্ত অঞ্চলে এটাই সাম্প্রতিক সহিংসতার সর্বশেষ ঘটনা।
এর কয়েক দিন আগে আফগান ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে গোলাগুলি ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষই সংঘাতের জন্য পরস্পরকে দায়ী করে।
একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘গত ৪৮ ঘণ্টায় খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী ঘটনায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য ও চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।’
প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারভিত্তিক ওই কর্মকর্তা জানান, আরো দুই পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছে, তারা এখনো নিখোঁজ।
তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বেশিভাগ হামলার দায় স্বীকার করেছে। ২০২১ সালে কাবুলে আফগান তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে সংগঠনটি পাকিস্তানে হামলা বাড়িয়েছে।
এদিকে অঞ্চলটিতে চারটি পৃথক অভিযানে ২৬ জন উগ্রবাদী নিহত হয়েছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাইবার পাখতুনখোয়া ও পার্শ্ববর্তী বেলুচিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে। সড়কপথে বোমা হামলা, অতর্কিত আক্রমণ ও অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী প্রায়ই লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এতে দু’দেশের মধ্যে আগেই টানাপোড়েন থাকা সম্পর্ক আরো চাপের মুখে পড়েছে।
মারাত্মক আত্মঘাতী বোমা হামলার পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সীমান্তপারের উগ্রবাদীদের আস্তানায় একাধিকবার হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। এতে কাবুলের সাথে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
সূত্র : বাসস



