ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ, পাকিস্তান ছাড়লেন জেডি ভ্যান্স

পারমাণবিক ইস্যু প্রসঙ্গে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং সে ধরনের সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা থেকেও বিরত থাকবে। তবে এ বিষয়ে ইরানের নির্দিষ্ট অবস্থান তিনি প্রকাশ করেননি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসলামাবাদে ইরানের সাথে দীর্ঘ আলোচনা শেষে আজ রোববার এয়ারফোর্স টু উড়োজাহাজে ওঠার সময় বিদায় জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ইসলামাবাদে ইরানের সাথে দীর্ঘ আলোচনা শেষে আজ রোববার এয়ারফোর্স টু উড়োজাহাজে ওঠার সময় বিদায় জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। |সংগৃহীত

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটি ত্যাগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় আপাতত স্থবির হয়ে পড়েছে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ইসলামাবাদ থেকে ‘এয়ার ফোর্স টু’ বিমানে করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দেন ভ্যান্স। উড্ডয়নের আগে বিমানের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে বিদায় জানান তিনি।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স নিশ্চিত করেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল দেশে ফিরছে। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের ‘অসাধারণ আতিথেয়তা’র প্রশংসা করেন।

ভ্যান্স বলেন, “আলোচনায় যে ঘাটতিগুলো রয়ে গেছে, তার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা যাবে না। তারা আন্তরিকভাবে আমাদের ও ইরানের মধ্যে দূরত্ব কমাতে কাজ করেছে। আমরা প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে—এটাই ইতিবাচক দিক।”

তবে তিনি স্বীকার করেন, “খারাপ খবর হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের জন্য বেশি হতাশাজনক। আমরা আমাদের ‘রেড লাইন’ ও সীমাবদ্ধতা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, কিন্তু তারা তা মেনে নেয়নি।”

পারমাণবিক ইস্যু প্রসঙ্গে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং সে ধরনের সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা থেকেও বিরত থাকবে। তবে এ বিষয়ে ইরানের নির্দিষ্ট অবস্থান তিনি প্রকাশ করেননি।

তিনি আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা—ইরান শুধু এখন নয়, ভবিষ্যতেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কিন্তু আমরা এখনো সেই প্রতিশ্রুতি পাইনি, যদিও ভবিষ্যতে তা পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।”

ভ্যান্সের ভাষ্য, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র নমনীয়তা দেখিয়েছে এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে আন্তরিক চেষ্টা করেছে। “প্রেসিডেন্ট আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন—সৎ উদ্দেশ্যে আলোচনা করে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে। আমরা সেটাই করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনো অগ্রগতি হয়নি”।

বৈঠকের ব্যর্থতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি ইরানের প্রতিনিধিদল। তবে দেশটির সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ-এর বরাতে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালী, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণেই আলোচনা ভেস্তে গেছে।

ইরানি প্রতিনিধি দলের একটি সূত্র ফার্স নিউজকে জানায়, “হরমুজ প্রণালি ও ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষী শর্তই আলোচনার ব্যর্থতার মূল কারণ। যুদ্ধে তারা যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমে তা আদায় করতে চেয়েছে।”