ভারতের গুজরাট বিধানসভায় সদ্য পাস হওয়া ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল এবং উত্তরাখণ্ডে ইতোমধ্যে কার্যকর হওয়া ইউসিসি আইনকে সাংবিধানিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। ল’ বোর্ড এই পদক্ষেপগুলোকে আইনগতভাবে অযোগ্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কঠোর সমালোচনা করেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের এই অবস্থান তুলে ধরে।
বোর্ড আরো জানায়, এই আইনটি ভারতের সংবিধানের ২৫-২৮ অনুচ্ছেদের অধীনে গ্যারান্টিযুক্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।
ল’ বোর্ডের অভিযোগ, এই ইউসিসি’র মাধ্যমে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলমানদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নিয়ম জোর করে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, যা অগ্রহণযোগ্য।
সংগঠনটি দাবি করেছে যে, ‘দেওয়ানি বিধি’ একটি নির্দেশমূলক নীতি, যা সরাসরি কার্যকর করার জন্য মৌলিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করা যায় না।
বোর্ড অভিযোগ করেছে, গুজরাট সরকার কোনো স্বচ্ছতা ছাড়াই এই বিল পাস করেছে এবং সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহের জন্য গঠিত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করেনি।
যদিও এটিকে ‘ইউনিফর্ম’ বা অভিন্ন বলা হচ্ছে, কিন্তু গুজরাট বিলটিতে তফশিলি উপজাতিদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, যা বোর্ডের মতে একে বাস্তব ইউসিসি করে তোলে না। তফসিলি উপজাতিরা চলবেন তাদের নিজস্ব আইন, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় নীতি মেনে। ইউসিসির আওতায় তারা আসবেন না।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড গুজরাটের ইউসিসি বিলটিকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের ক্ষেত্রেও তারা আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনি লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে। যদিও এই রাজ্যে বিল পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে আগেই এবং বহু মুসলিম পরিবার এই আইনের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন। তবে ল’ বোর্ড আইনি লড়াই করবে- এমন সিদ্ধান্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।
ইতোপূর্বে তালাক মামলায় ও কর্নাটকের হিজাব মামলায় ল’ বোর্ড আদালতে আইনি লড়াইয়ে শামিল হয়েছিল। হিজাব ও তালাক নিয়ে শরীয়াহ নির্দেশ কী রয়েছে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। এবার এই ইউসিসি’র মাধ্যমে সম্পূর্ণ শরীয়াহ আইনকে অকার্যকর করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ভারতের কট্টর গেরুয়াপন্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রচলন। সেই পথেই অগ্রসর হচ্ছে তারা। সংসদে বিল আনলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হইচই পড়ে যেতে পারে- এই কথা মাথায় রেখে প্রথমে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো দিয়ে এই বিধি কার্যকর করা শুরু হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে প্রথম সাহস দেখাল উত্তরাখণ্ড সরকার। এই রাজ্যে বিল পাস হয়ে আইন তৈরি হয়ে গেল। তার বিষময় ফল ভোগ করতে হচ্ছে এই রাজ্যের মুসলিমদের।
শরীয়াহ আইন অনুযায়ী বাবার সম্পত্তিতে কন্যার অধিকার বদল করে দেয়া হয়েছে। ১৮ বছরের নিচে মুসলিম কন্যার বিয়ে দিলে সাজার ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনই তালাক দিতে হবে কোর্টের মাধ্যমে। হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের মতো বছরের পর বছর ঝুলে থাকতে হতে পারে মুসলিম দম্পতিদেরও।



