ভারতে মুসলিম শিক্ষার্থীরা ফের সাম্প্রদায়িক আচরণের শিকার। এবার পবিত্র রমজান মাসেই দেশটির অন্ধ্রপ্রদেশে কুর্মুলের সরকারি নার্সিং কলেজের কাশ্মিরি শিক্ষার্থীদের নামাজ, হিজাব পরিধান ও সাহরি-ইফতারিতে বাধা দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়; তাদেরকে বরখাস্তের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
রোববার (১ মার্চ) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কলেজ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের রমজানে নামাজ পড়তে দিতে অস্বীকার, হিজাব পরার ওপর বিধিনিষেধ, বরখাস্তের হুমকি এবং মৌখিক গালিগালাজ, এমনকি তাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলা-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে টার্গেট করেছে।
জম্মু ও কাশ্মির স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএসএ) জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বৃত্তি প্রকল্পের (পিএমএসএসএস) অধীনে বিএসসি নার্সিং পড়তে আসা জম্মু ও কাশ্মিরের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে তাদের কাশ্মিরি পরিচয় এবং ধর্মের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েশনটি অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে শিক্ষার্থীরা ‘পরিকল্পিত বৈষম্য, অপমান এবং হয়রানির’ অভিযোগ করেছে, যা ভয়, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার পরিবেশ তৈরি করেছে এবং তাদের শিক্ষাগত কর্মক্ষমতা এবং সামগ্রিক সুস্থতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে যে, নিয়মিত ফি-দিয়ে বোর্ডিংয়ে থাকা সত্ত্বেও, কর্তৃপক্ষ তাদের জিজ্ঞাসা করেছে, ‘রোজা এবং ধর্মীয় অনুশীলনে এতটা আগ্রহী হয়ে তারা কেন এই কলেজটি বেছে নিলো।’ মন্তব্যগুলোকে ছাত্রীরা বৈষম্যমূলক এবং অনুপযুক্ত বলে বর্ণনা করেছেন।
তারা আরো দাবি করেছেন, যে রমজানের সময় তাদের সাধারণ সাহরি ও ইফতারের ব্যবস্থার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এমনকি, সেহরি ও ইফতারের জন্য বাইরে থেকে খাবার আনতেও তাদের বাধা দেয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আরো অভিযোগ- কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের আলাদা করে মৌখিক নির্যাতন করা হয়। তাদেরকে ‘বোকা’, ‘অকেজো’, এমনকি ‘সন্ত্রাসী’ও বলা হয়। পাশাপাশি তাদের সতর্ক করা হয়েছিল যে, যদি তারা উদ্বেগ প্রকাশ করতে থাকে তবে তাদের ‘সাসপেন্ড’ করা হতে পারে।


