এফ-৩৫ এর পর এবার এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

যুদ্ধবিমানটি কোন দেশের বা এর পাইলটের পরিণতি কী হয়েছে, সে সম্পর্কে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য বা ধ্বংসাবশেষের প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

সৈয়দ মূসা রেজা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজ দ্বীপের কাছে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। রোববার (২২ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ এবং মেহর নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের জয়েন্ট এয়ার ডিফেন্স কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানটি দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল। ভূপাতিত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে যুদ্ধবিমানটি থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে ইরান।

তবে যুদ্ধবিমানটি কোন দেশের বা এর পাইলটের পরিণতি কী হয়েছে, সে সম্পর্কে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য বা ধ্বংসাবশেষের প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

ইরানের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশটির দক্ষিণ উপকূলে আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী শত্রুপক্ষের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত নিশানায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এই অভিযানে যে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তার মধ্যে চতুর্থ প্রজন্মের শক্তিশালী এফ-১৫ ইগল যুদ্ধবিমানের একেকটির দাম বর্তমানে প্রায় ৯০ থেকে ৯৭ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, পঞ্চম প্রজন্মের রাডার-ফাঁকি দিতে সক্ষম অত্যাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫ লাইটনিং-টু যুদ্ধবিমানকেও আঘাত হেনেছিল ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা; উল্লেখ্য যে, এর আগে এই বিমান বিশ্বের কোথাও এভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি। একেকটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের দাম ইঞ্জিনসহ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

তাসনিম নিউজের তথ্য মতে, হরমুজ দ্বীপের কাছাকাছি দক্ষিণ উপকূলে অনুপ্রবেশকারী শত্রুপক্ষের এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিকে শনাক্ত করার পর ইরানের সেনাবাহিনী ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সফলভাবে আঘাত করে। এই দুই ঘটনা প্রমাণ করে যে, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই যুদ্ধবিমানগুলো এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলও তার মিত্রদের আধুনিক বিমানগুলো মোকাবিলায় ইরান এখন অতর্কিত হামলার কৌশল বেছে নিয়েছে। এক্ষেত্রে ইসরাইলি গোয়েন্দা সরঞ্জাম যেন অবস্থান বুঝতে না পারে, সেজন্য ইরানি বাহিনী তাদের রাডার ব্যবস্থা অধিকাংশ সময় বন্ধ রাখে। কোনো লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আসার পরই মুহূর্তের মধ্যে রাডার সক্রিয় করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়।

বিশেষ করে ইরানের ‘মাজিদ’-এর মতো ভ্রাম্যমাণ বা মোবাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ট্রাকের ওপর বসানো থাকায় এগুলো দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। এই ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলের কারণে রাডার-ফাঁকি দেয়ার প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ইরানি প্রতিরক্ষা বলয়ে নিয়মিত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ইরানের এই নতুন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য বিশ্ব সামরিক মহলে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে, অত্যন্ত দামি ও উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমানও ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে ক্রমশ অসহায় হয়ে পড়ছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি।