বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ইরানে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিমান হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
একইসাথে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় লিখেছেন, সাম্প্রতিক দিনে তেহরানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ও গবেষণাকেন্দ্র পাস্তুর ইনস্টিটিউট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আপাতত সেখানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে এমন ২০টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, এই হামলার পরও পাস্তুর ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে টিকা ও সিরাম উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি প্রকাশ করেছেন, ওই ছবিতে ভবনের বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়।
১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত পাস্তুর ইনস্টিটিউট ইরানের অন্যতম পুরনো জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
টেড্রোস বলেন, এ কেন্দ্রটি ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে’।
টেড্রোস বলেন, ইরানের বাইরে ইরাক, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ায় সঙ্ঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এতে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
টেড্রোস বলেন, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদন করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও ট্রমা চিকিৎসা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি রোগ পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, ব্যাপক হতাহতের ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য রাসায়নিক বা জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল ও পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতিও নিশ্চিত করা হবে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবায় কমপক্ষে ১১৬টি হামলার ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে। এতে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি তেলের ডিপোতে আগুন, সাদা ফসফরাসসহ বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহার পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা শ্বাসকষ্ট ও রাসায়নিক দগ্ধতার মতো গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
সামরিক লক্ষ্য ছাড়িয়ে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহগুলোতে মূলত সামরিক, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করলেও এখন তারা তাদের লক্ষ্যবস্তু স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোর দিকে সম্প্রসারিত করছে।
সূত্র: বাসস



