ছায়ার আড়াল থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রে : কে এই আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি

ইরানের রাজনীতির আকাশ তখনো ধোঁয়ায় ঢেকে। ঠিক সেই সময় সামনে আসে নতুন নাম। পুরোনো এক ছায়াময় চরিত্র। প্রশ্ন এখন একটাই। কে এই মানুষ। সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি আসলে কে।

সৈয়দ মূসা রেজা
আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি
আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি |ছবি : তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি

তেহরানের ঘরের ভেতর। অলিগলিতে। ধর্মীয় মহলের আড্ডায়। রাজনীতির নীরব করিডরে। অনেক দিন ধরেই একটা নাম ভেসে বেড়াত। খুব জোরে নয়। নিচু স্বরে। ফিসফাসে। নামটা সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। এত দিন তিনি ছিলেন ছায়ার মানুষ। প্রকাশ্যে খুব কম। কিন্তু প্রভাবের গল্প ঘুরে বেড়াত সর্বত্র।

হঠাৎ করেই সেই নাম উঠে এসেছে একেবারে আলোয়। ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে ঘোষণা করেছে দেশের নতুন রাহবার। অর্থাৎ সর্বোচ্চ নেতা। ঘটনাটা ঘটে এক অস্থির সময়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় শাহাদতবরণ করেন তৎকালীন রাহবার। যিনি ছিলেন সাইয়্যেদ মোজতবার বাবা। আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলি খামেনি। সেই হামলায় আরো অনেকে শহীদ হন।

ইরানের রাজনীতির আকাশ তখনো ধোঁয়ায় ঢেকে। ঠিক সেই সময় সামনে আসে নতুন নাম। পুরোনো এক ছায়াময় চরিত্র। প্রশ্ন এখন একটাই। কে এই মানুষ। সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি আসলে কে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির একটি বিশদ প্রতিবেদনে তার জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন হুজ্জাতুলইসলাম ওয়ালমুসলিমিন মোকাদ্দাম শহিদানি এবং হুজ্জাতুলইসলাম ওয়ালমুসলিমিন আলি কারামজাদেহ। দু’জনেই উচ্চপর্যায়ের হাওজা বা ধর্মীয় শিক্ষক এবং তার ছাত্রদের অন্যতম। তাদের লেখাতেই ফুটে ওঠে এক জটিল এবং বহুস্তরীয় ব্যক্তিত্বের গল্প।

আয়াতুল্লাহ হাজ্জ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং শহীদ আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলি খামেনির দ্বিতীয় ছেলে। জন্ম ১৯৬৯ সালে। ইরানের ঐতিহাসিক শহর মাশহাদে। ছোটবেলা থেকেই তার শিক্ষার পথ ছিল ধর্মীয় বিদ্যার দিকে। প্রাথমিক হাওজা বা ধর্মীয় শিক্ষা শুরু করেন তেহরানের বিখ্যাত আয়াতুল্লাহ মোজতাহেদি তেহরানি মাদরাসায়।

ইরান তখন অন্য এক সময় পার করছে। আট বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। ইরান-ইরাক সঙ্ঘাত। ইরানে যাকে বলা হয় পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ। সেই সময় কেবল পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। যোগ দিয়েছিলেন জিহাদের ফ্রন্টে। যুদ্ধের ময়দানের অভিজ্ঞতাও তার জীবনের অংশ হয়ে যায়।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আবার পড়াশোনার পথ। ধর্মীয় শিক্ষার উচ্চতর ধাপ শেষ করতে তিনি যান কোম শহরে। ইরানের ধর্মীয় শিক্ষার প্রধান কেন্দ্রগুলোর অন্যতম। সেখানে তিনি ছিলেন কয়েক বছর। পরে ১৯৭২ সালে ফিরে আসেন তেহরানে। পাঁচ বছর সেখানেই চলতে থাকে তার পড়াশোনা।

১৯৭৭ সালে তার জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। বিয়ে করেন শহীদ জাহরা হাদ্দাদ আদেলকে। একই বছর আবার চলে যান কোমে। উদ্দেশ্য একটাই। ধর্মীয় শিক্ষার উচ্চস্তর সম্পূর্ণ করা এবং আধ্যাত্মিক সাধনার পথে আরো গভীরে প্রবেশ করা।

কোমে তার শিক্ষকদের তালিকাও কম বিস্তৃত নয়। উন্নত স্তরের পাঠ নিয়েছেন আহমাদি মিয়ানেজি। রেজা ওস্তাদি। এবং কোমের আরো কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমের কাছে। শুধু আনুষ্ঠানিক ক্লাস নয়। ফিকহ এবং উসুলের বিশেষ পাঠ নিয়েছেন নিজের বাবা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনির কাছেও।

এছাড়া তার শিক্ষকদের তালিকায় ছিলেন শায়খ জাভাদ তাবরিজি। শায়খ হোসেইন ওয়াহিদ খোরাসানি। সাইয়্যেদ মুসা শাব্বিরি জানজানি। আগা মোজতবা তেহরানি। শায়খ মোহাম্মদ মোমিন কোমি। টানা সতেরো বছরেরও বেশি সময় তিনি নিয়মিত এই উচ্চতর পাঠে অংশ নেন।

শুধু ক্লাসে বসে থাকা ছাত্র ছিলেন না তিনি। আরবি ভাষায় বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা করতেন। বিভিন্ন তাত্ত্বিক প্রশ্ন তুলে ধরতেন। শিক্ষকদের সাথে আলোচনা সমালোচনাও করতেন। এই বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা কোমের প্রবীণ আলেমদের নজর কেড়ে নেন।

তার ছাত্রজীবনের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল তীক্ষ্ণ মেধা। সাথে ছিল অবিশ্বাস্য পরিশ্রম। এই দুইয়ের সাথে যোগ হয় বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা এবং চিন্তার স্বাধীনতা। ফলস্বরূপ ইরানের ধর্মীয় জ্ঞানব্যবস্থায় তিনি বেশ কিছু নতুন ধারণা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ফিকহ। উসুল। এবং রিজাল বা হাদিস বর্ণনাকারীদের ইতিহাস নিয়ে তার কাজ উল্লেখযোগ্য।

ধর্মীয় বিধানের প্রকৃতি কী। বিধানের স্তর কীভাবে নির্ধারিত হয়। কোন মানদণ্ডে বিধান তৈরি হয়। একই বিষয়ে একাধিক বিধানের প্রশ্ন কিভাবে দেখা হবে। হাদিস জ্ঞানের প্রেরণ পদ্ধতি কী। এসব মৌলিক বিষয়ে তার গবেষণা নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। এসব ধারণা মিলিয়ে তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন এক বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক ধারা।

তার চিন্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল ফিকহ এবং উসুলের বড় বড় ধারাগুলো। যেমন শায়খ আযম আনসারি। আখুন্দ খোরাসানি। মোহাক্কিক নাঈনি। আগা জিয়া ইরাকি। মরহুম ইসফাহানি। মরহুম বোরুজেরদি। এবং ইমাম খোমেনি। এসব ধারার ওপর তার গভীর দখল তার গবেষণাকে আরো শক্ত ভিত দেয়।

শুধু পড়াশোনা নয়। শিক্ষকতাও শুরু করেন খুব তাড়াতাড়ি। তেহরানের আয়াতুল্লাহ মোজতাহেদি স্কুলে তিনি প্রাথমিক হাওজা কোর্স পড়ানো শুরু করেন। ১৯৭৪ সালে শুরু করেন মাআলেম বই পড়ানো।

পরে তার বাবা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনিকে ইরানের ধর্মীয় শিক্ষায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বিশেষ করে শহীদ সাদরের বইগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। সেই পরামর্শের পর তিনি মাআলেম পড়ানো বন্ধ করেন। শুরু করেন শহীদ সাদরের হালকাত সিরিজ পড়ানো।

১৯৭৬ সালে আবার কোমে গেলে সেই ক্লাস চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেন তার এক সহপাঠীকে। আর ১৯৭৭ সালে কোমে ইমাম খোমেনির বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে রসায়েল এবং মাকাসিব পড়ানো শুরু করেন। পরে তিনি আরো উন্নত পাঠ শুরু করেন। নামাজ সংক্রান্ত ফিকহ বিষয়। তাসবিহাত। সিজদা। রুকু ইত্যাদি নিয়ে বিশেষ ক্লাস নিতেন। ছাত্রদের সাথে ছোট ছোট দলে এই ক্লাস চলত। ২০০৪ সালে আবার বড় আকারে ক্লাস শুরু করেন। ২০০৫ এবং ২০০৬ সালে কোমের একটি মাদরাসায় উন্নত স্তরের মাকাসিব পড়ান। ২০০৭ সালে তার ক্লাস চলে যায় কোমের ঐতিহাসিক ফয়জিয়া মাদরাসায়।

২০০৮ সালে কোমে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনির অফিসে শুরু হয় তার ব্যক্তিগত খারেজ ক্লাস। অর্থাৎ হাওজা বা ধর্মীয় শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরের পাঠ। ২০০৯ সালে ছাত্রদের অনুরোধে সাধারণ ফিকহের খারেজ ক্লাসও শুরু করেন।এক বছর পর। ২০১০ সালে শুরু হয় উসুলের খারেজ ক্লাস। শুরু থেকে ইস্তিসহাব অধ্যায় পর্যন্ত এই পাঠ চলে।

একটি বিষয় তার শিক্ষাদানের ধরনে আলাদা করে চোখে পড়ত। ক্লাসের আগে তিনি নিজের আলোচনার বিষয় লিখে রাখতেন। পাঠ শেষে নিজের হাতে সেগুলো সম্পাদনা করতেন। তার কিছু গবেষণাপত্র ইতোমধ্যেই প্রকাশের জন্য প্রস্তুত।

ছাত্ররা তার বক্তৃতার লিখিত সংস্করণও তৈরি করেছিল বহু আগে। প্রকাশ করার জন্য। কিন্তু তিনি অনুমতি দেননি। তাই সেগুলো প্রকাশ্যে আসেনি। শুধু ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্রে কিছু প্রবীণ আলেমের কাছে সীমিতভাবে পৌঁছেছে।

তার ক্লাসে আরেকটি অভিনব দিক ছিল। ফিকহ এবং উসুলের মাঝখানে কয়েক মিনিট ছাত্রদের সাথে আন্তরিক আলাপ করতেন। আবার ফিকহ ক্লাসের শুরুতে কয়েক মিনিট কোরআনের তাফসির করতেন। সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর আলোচনা। ছাত্রদের উন্নতির ব্যাপারেও তিনি ছিলেন খুবই যত্নবান। অনেক সময় ক্লাস শেষে, সামনাসামনি বা দূর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রদের প্রশ্ন শুনতেন। ধৈর্য নিয়ে উত্তর দিতেন।

আরেকটি নতুন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন তিনি। কিছু বিষয় ছাত্রদের দিয়েই উপস্থাপন করাতেন। এতে সমালোচনামূলক চিন্তা এবং ইজতিহাদের চর্চা বাড়ত। এই সব কারণেই তার ক্লাস ধীরে ধীরে কোমের অন্যতম জনপ্রিয় খারেজ কোর্সে পরিণত হয়। করোনা মহামারির আগে সেখানে চার শতাধিক ছাত্র নিয়মিত উপস্থিত থাকত।

করোনার সময় ক্লাস চলে যায় অনলাইনে। পরে তিনি তেহরানে বসবাস শুরু করলে সেইভাবেই চলতে থাকে। ১৪০২ শিক্ষাবর্ষে তার ক্লাসে নাম লেখায় তেরো শতাধিক ছাত্র। প্রথম ক্লাসে উপস্থিত ছিল সাত শতাধিক মানুষ। কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে অদ্ভুত ঘটনা।

হঠাৎ করেই তিনি ঘোষণা করেন ক্লাস বন্ধ। ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চান।

সবাই বিস্মিত। কারণটা কেউ বুঝতে পারেনি। পরে কোমের এক হাজার ছাত্র ও শিক্ষক বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা অর্থাৎ খামেনির কাছে চিঠি লেখেন। ক্লাস আবার শুরু করার অনুরোধ করেন। কোমের অনেক বড় আলেমও মৌখিকভাবে একই অনুরোধ জানান। কিন্তু এক ব্যক্তিগত বৈঠকে তিনি বলেন। ক্লাস বন্ধের কারণ আধ্যাত্মিক। প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি আরো বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে যখন অনেক ভালো শিক্ষকের ক্লাস কমে গেছে বা বন্ধ হয়েছে। তখন তার ক্লাসে এত মানুষের উপস্থিতি ঠিক নয়। তাই তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন। এই বিষয়ে আর চাপ না দিতে।

একটি ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। সেই হাজার জনের চিঠির পর তার বাবা আয়াতুল্লাহিল উজমা আলি খামেনি বিষয়টি তার সাথে আলোচনা করেন। প্রয়োজনে পরামর্শ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছেলের দৃঢ় সিদ্ধান্ত দেখে বিষয়টি তার ওপরই ছেড়ে দেন। ছাত্রদের তিনি বলেন অন্য শিক্ষকদের কাছে যেতে। ভালো শিক্ষক বেছে নেয়ার তিনটি মানদণ্ডও দেন। বিদ্যা। বিপ্লবী মানসিকতা। এবং রুহের পবিত্রতা।

বন্ধুরা তাকে ইসলামের ফিকহ বা শরিয়তি বিধানের বিস্তৃত অন্যতম সংকলন উরওয়া গ্রন্থের ওপর টীকা লেখার পরামর্শ দেন। শুরুতে রাজি হননি। পরে ধীরে ধীরে সেই কাজ শুরু করেন। এখন তার গবেষণার বড় অংশই এই কাজ এবং নিজের ফিকহ উসুল কোর্স পুনর্লিখনে ব্যস্ত।

কোম হাওজার ফিকহ শিক্ষা শক্তিশালী করার জন্য তিনি কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কেন্দ্রও প্রতিষ্ঠা করেন। একইসাথে বিভিন্ন বিপ্লবী ফিকহ প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন করেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়। সমাজের দরিদ্র মানুষের সেবা নিয়েও কাজ হয়। ফলে একদল জনমুখী বিপ্লবী তরুণ আলেম তৈরি হয়েছে।

তার ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক হলো বিনয়। নিজের তিনি সামনে আনতে চান না। বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ইমাম খোমেনির চিন্তার ধারাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। কোম এবং মাশহাদের বহু বড় মারজা এবং আলেমের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়েও দীর্ঘদিন তিনি নজর রেখেছেন। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সাথে তার নিয়মিত বৈঠক হয়েছে।

দেশ পরিচালনার নানা প্রশ্ন নিয়েও তিনি গবেষণা করেছেন। যেমন অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ। সস্তা দ্রুত আধুনিক আবাসন নির্মাণ। কৃষি ও পশুপালন ব্যবস্থার পরিবর্তন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এবং জ্ঞানভিত্তিক বড় প্রকল্প।

পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রেও তার যোগাযোগ বিস্তৃত। বিভিন্ন সামরিক কমান্ডার এবং প্রতিরোধ অক্ষের বীর নেতাদের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ নেতা সাইয়্যেদ হাসান নাসরাল্লাহ এবং শহীদ জেনারেল হাজ্জ কাসেম সোলাইমানির সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়।

এই সব কারণেই তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের গভীর শত্রুতা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। বহুবার তাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। শারীরিকভাবে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই তা ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষায় বলা হয়েছে ইমাম মাহদির অনুগ্রহে তিনি এখনো রক্ষা পেয়েছেন।

আর এভাবেই ছায়ার আড়াল থেকে উঠে আসে এক মানুষের দীর্ঘ গল্প। মাশহাদের এক তরুণ ছাত্র। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। কোমের মাদরাসা। শত শত ছাত্রের শিক্ষকতা। আর ইরানের রাজনীতি এবং ধর্মীয় জগতের কেন্দ্রে পৌঁছানোর এক দীর্ঘ পথ। গল্পের শুরুতে যে নামটি ছিল ফিসফাসে। শেষেও সেই নামই রয়ে যায়। কিন্তু এবার আর ফিসফাস নয়। স্পষ্ট আলোয়।