মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী, আর পারস্য উপসাগর হয়ে উঠেছে যেন এক বিশাল অগ্নিকুণ্ড। গত এক দিনে ইরান তার সামরিক শক্তির পূর্ণ মহড়া দিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ গালফ রাষ্ট্রগুলোতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একইসাথে ইসরাইলের সুনির্দিষ্ট স্থানগুলোতেও পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেবল সামরিক সংঘাত নয়, বরং পুরো অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থের বিরুদ্ধে ইরানের ‘অল-আউট’ বা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য কেবল যুদ্ধক্ষেত্র নয়; বরং মার্কিন সেনাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত প্রতিটি হোটেল, অফিস ও বাণিজ্যিক স্থাপনাও এখন তাদের নিখুঁত নিশানায়। রিয়াদের প্রাণকেন্দ্র লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক মিসাইল থেকে শুরু করে কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ মুবারক আল-কবীর বন্দরে ক্রুজ মিসাইলের বিধ্বংসী আঘাত– ইরানের এই রণকৌশল গালফ দেশগুলোর অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে আরব আমিরাতে ১১ জনের প্রাণহানি এবং ১৭১ জন আহতের ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরান এখন আর কোনো রাখঢাক না রেখে সরাসরি ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করছে।

আলজাজিরা ও তাসনিম নিউজের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইরানের রেভেল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, মার্কিন সেনাদের ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহারকারী যেকোনো স্থাপনা ধূলিসাৎ করে দেয়া হবে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়ে এবং কাস্পিয়ান সাগর অঞ্চল পর্যন্ত যুদ্ধের বিস্তার ঘটিয়ে ইরান বিশ্বনেতাদের এই বার্তাই দিচ্ছে যে– হয় মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন থামবে, নয়তো পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে। এই মরণপণ লড়াই এখন আর কেবল সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা প্রতিটি উপসাগরীয় দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এক প্রচণ্ড আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৌদিতে ৬ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা : সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদের কিছু এলাকা লক্ষ্য করে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করলেও বাকি চারটি জনহীন এলাকা ও পারস্য উপসাগরের পানিতে পড়েছে। এর মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে রিয়াদ অভিমুখে আসা আরো দু’টি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি বাহিনী।
কুয়েতের বন্দরে আঘাত : কুয়েতের অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুবিয়ান দ্বীপে অবস্থিত ‘মুবারক আল-কবীর’ বন্দরে প্রতিকূল ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল আঘাত হেনেছে। এতে বন্দরের ব্যাপক যান্ত্রিক ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ভোরে কুয়েতের ‘শুয়াইখ বন্দরেও’ পৃথক একটি ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আরব আমিরাতে হতাহতের সংখ্যায় উদ্বেগ : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তাপ এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে আছড়ে পড়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৯টি ড্রোন সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস করেছে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, গত এক মাসের যুদ্ধে ইরানি হামলায় আমিরাতে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আমিরাতি সশস্ত্র বাহিনীর দু’জন সদস্য এবং সামরিক বাহিনীর সাথে কর্মরত একজন বেসামরিক ঠিকাদার রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের আরো আটজন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। হামলায় আমিরাতি এবং বিদেশী নাগরিকসহ মোট ১৭১ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আমিরাত মোট ৩৭৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ মিসাইল এবং এক হাজার ৮৩৫টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত : যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৫৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৬২টি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে বাহরাইনের সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা তাদের সেনাদের ‘অপারেশনাল দক্ষতার’ প্রশংসা করেছে এবং জনসাধারণকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান বা সন্দেহজনক বস্তু থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
মার্কিন সেনাদের অবস্থানরত হোটেলে হামলার হুমকি : ইরানের সামরিক বাহিনী এক কঠোর বার্তায় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব হোটেলে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে, সেগুলোকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে। সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুলফজল শেকারচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘যখন একটি হোটেলে মার্কিন বাহিনী অবস্থান নেয়, তখন আমাদের দৃষ্টিতে সেই পুরো হোটেলটিই মার্কিন সম্পত্তিতে পরিণত হয়।’
এ ছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন সেনারা জিসিসি দেশগুলোর সাধারণ মানুষকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করতে হোটেল ও অফিসে আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের হোটেল কর্তৃপক্ষকে মার্কিন সেনাদের বুকিং না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইস্পাহানে বিক্ষোভ ও ইসরাইল-জর্দানে ক্ষয়ক্ষতি : ইরানের ইস্পাহান শহরে বিমান হামলার মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। তারা এই যুদ্ধকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে। এ দিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় বাংকারে যাওয়ার দৌড়ঝাঁপে ইসরাইলে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। জর্দান জানিয়েছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে দু’টি ভূপাতিত করেছে।
হামলার সময়সীমা বাড়ালেন ট্রাম্প : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তাদের জ্বালানি কেন্দ্র ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার জন্য দেয়া সময়সীমা ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। ইরান ট্রাম্পের ১৫ দফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর এই নতুন আলটিমেটাম দেয়া হলো। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আলোচনা ভালোভাবেই চলছে, যদিও ইরান সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এ দিকে ট্রাম্পের এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা হলে তারা পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।
‘ড্রোন বোট’ ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের : পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে তারা প্রথমবারের মতো চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ বা ইউএসভি মোতায়েন করেছে। ‘ব্ল্যাক-সি’ নামক কোম্পানির তৈরি এই ‘গার্ক’ ড্রোন বোটগুলো মূলত নজরদারি এবং আত্মঘাতী হামলার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের বিরুদ্ধে এ ধরনের নৌ-ড্রোন সফলভাবে ব্যবহৃত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করল। এখন পর্যন্ত এই ড্রোনগুলো কেবল টহল দেয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড।
তেহরান ও কোমে বিমান হামলা : ইরানের রাজধানী তেহরান ও পবিত্র শহর কোমে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার কোমে কয়েকটি আবাসিক বাড়িতে হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। তেহরানেও রাতভর শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী নেতৃত্বের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এ ছাড়া উরমিয়া শহরে চারটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং অনেক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরানে এক হাজার ৯৩৭ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা ও ঝুঁকি : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের জন্য স্থল সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন। ইরানের ৯০ শতাংশ তেল এই দ্বীপ দিয়ে রফতানি হয়। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই দ্বীপ দখল করা সহজ হলেও সেখানে মার্কিন সেনারা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে পড়বে। ইউক্রেন যুদ্ধের মতো এখানেও ইরানি বাহিনী ড্রোন ও মিসাইল দিয়ে মার্কিন সেনাদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে পারে। সাবেক মার্কিন কমান্ডার জোসেফ ভোটেল জানিয়েছেন, এই দ্বীপ দখলে বিশেষ কোনো কৌশলগত সুবিধা না-ও পাওয়া যেতে পারে, বরং এতে যুদ্ধ আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনী ‘ভেঙে পড়ার মুখে’ : ইসরাইলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এবং সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির সতর্ক করেছেন যে, আইডিএফ বর্তমানে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে। লাপিদ বলেন, সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল ছাড়াই সেনাবাহিনীকে বহুমুখী যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে সেনাসংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। রিজার্ভ সেনারা বারবার ডিউটি করতে গিয়ে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। এই সঙ্কট মেটাতে লাপিদ কট্টরপন্থী ‘হারিদি’ সম্প্রদায়ের পুরুষদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেয়ার দাবি তুলেছেন।
হরমুজে জাহাজ চলাচলে বাধা : ইরানের রেভেল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি কনটেইনার জাহাজকে সতর্কবার্তা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবিকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে আইআরজিসি বলেছে যে, প্রণালীটি উন্মুক্ত নয়। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থক বা মিত্র দেশগুলোর কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। যেকোনো করিডোর দিয়ে শত্রু ভাবাপন্ন বন্দরের উদ্দেশে পণ্য পরিবহন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধে অংশ নেবে না ব্রিটেন ও ফ্রান্স : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফ্রান্সের সশস্ত্রবাহিনী বিষয়কমন্ত্রী ক্যাথরিন ভট্রেঁ পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে তারা এই যুদ্ধে অংশ নেবেন না। স্টারমার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে তার মতপার্থক্য থাকলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল। অন্য দিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, তাদের অবস্থান কেবলই রক্ষণাত্মক এবং তারা কূটনৈতিক পথে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করছে। ফ্রান্সের মতে, হরমুজ প্রণালীর অবরোধ নিরসনে সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই একমাত্র সমাধান।
ইরান ও লেবাননে বাস্তুচ্যুত ৪০ লাখ : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরান সরকার এখনো প্রকৃত সংখ্যার তথ্য প্রকাশ করেনি।
ভয়াবহ এই যুদ্ধের কারণে ইরানের বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছেন। জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এটি ইরানের মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশেরও বেশি।
যুদ্ধ ২৮ দিন গড়িয়েছে। প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে শুরু করায় বড় ধরনের শরণার্থী সঙ্কটের আশঙ্কায় রয়েছে ত্রাণ সংস্থা ও ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো। বেসামরিক লোকজন সহিংসতা থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন।
অন্য দিকে শুধু ইরান নয়, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে লেবাননেও। দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার যে নির্দেশ দিয়েছে, তার পরিধি এখন আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, দেশটিতে নিবন্ধিত বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখন ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৮। এর মধ্যে এক লাখ ৩২ হাজার ৭৪২ জন বিভিন্ন গণ-আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।



