ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রথম কেবলা ও তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের কাছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ে বাধা দিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। ফলে প্রায় ৬০ বছরের মধ্যে এই প্রথম আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজ হয়নি।
আল-আকসা মসজিদের আশপাশের সড়ক ও ফুটপাতে নামাজ পড়তে গেলেও গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে মুসল্লিদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় দখলদার বাহিনী।
১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম ঈদুল ফিতরের দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা হয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ মসজিদ চত্বরটি বন্ধ রাখায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিরা বন্ধ করে দেয়া ওই স্থাপনার যতটা সম্ভব কাছে জড়ো হন।
ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আল-আকসার খতিব ও জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ইকরিমা সাবরি একটি ধর্মীয় নির্দেশনা জারি করেন। তিনি মুসলিমদের মসজিদের নিকটতম স্থানে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান।
আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ইসরাইলি পুলিশ জেরুজালেমের ওল্ড সিটির প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড দেওয়ায় শত শত মুসল্লি বাইরে নামাজ পড়তে বাধ্য হন। মুসল্লিদের একটি অংশ আল-আকসা মসজিদের দিকে যেতে চাইলে স্টান গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পবিত্র আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এরইমধ্যে শুক্রবার মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো হলো।
এদিকে আল-আকসা বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে আরব লীগ, ওআইসি এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন। এক যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং মুসলিমদের অনুভূতির ওপর আঘাত বলে অভিহিত করা হয়েছে।
গাজায় ধ্বংসস্তূপে শোক আর আনন্দ
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। চলমান বড় পরিসরের যুদ্ধের ছায়ায় সেটি ঢাকা পড়েছে। গাজায় ইসরায়েলি হামলা আগের চেয়ে বিক্ষিপ্ত হলেও থামেনি। এর মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরগুলোতে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করছেন লাখো মানুষ।
গাজায় এবারের ঈদ এক চরম বৈপরীত্যের রূপ নিয়েছে। শোক আর ক্ষণস্থায়ী আনন্দ, ক্ষুধা আর উদ্যাপন এবং বিলাপের সঙ্গে মিলেমিশে আছে প্রাত্যহিক জীবনের লড়াই। উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে দেইর আল-বালাহতে আশ্রয় নেওয়া দুই সন্তানের জননী সাদিকা ওমর (৩২) বলেন, ‘ঈদের আনন্দ এবার অপূর্ণ। আমাদের কেউ ঘর হারিয়েছে, কেউ হারিয়েছে পরিবারের সদস্যকে। আমার স্বামী দূরে আছেন, সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকায় তিনি গাজায় ফিরতে পারছেন না। তবু আমরা যতটা সম্ভব ধর্মীয় শিক্ষা অনুসরণ করার চেষ্টা করছি।’
গাজায় এই নামমাত্র উদ্যাপনের আড়ালে রয়েছে হারানোর গল্প। মায়েরা সাম্প্রতিক হামলায় নিহত সন্তানদের জন্য শোক করছেন। আবার কেউ কেউ কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নীরবে ঈদ পালন করছেন, যাঁদের সম্বল এখন কেবলই স্মৃতি।
সূত্র : আল জাজিরা



