হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়া শুরু

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক ও নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। তবে কতদিন এটি চলবে— সে ব্যাপারে কোনো তথ্য দেয়নি আইআরজিসি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান বৈঠকের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে এ মহড়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল।

এক প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক ও নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। তবে কতদিন এটি চলবে— সে ব্যাপারে কোনো তথ্য দেয়নি আইআরজিসি। আরো বলা হয়েছে, যতদিন মহড়া চলবে— ততদিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।

ইরানের হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলোর মধ্যে একটি। জলপথে প্রতিবছর যে পরিমাণ তেল ও তরল গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়, তার এক চতুর্থাংশ তেল এবং এক পঞ্চমাংশ তরল গ্যাসের পরিবহনের রুট এই হরমুজ প্রাণালী।

আইআরজিসির প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর এই মহড়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুসারে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পাল্টা জবাব দেয়ার সক্ষমতা যাচাই করতেই এই মহড়া শুরু হয়েছে।

পূর্ব পারস্য উপসাগরের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত আবু মুসা দ্বীপ এবং তার চারপাশের জলসীমায় আয়োজন করা হয়েছে এই মহড়ার। সম্প্রতি এই দ্বীপটিকে সামরিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। আইআরজিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেছেন, দ্বীপটিতে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সর্বোচ্চ ১ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।