উপসাগরীয় অঞ্চলে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের কৌশল বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষক ফিলিপস ও’ব্রায়েন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ শুরুর সময় যে দ্রুত ফলাফলের আশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা ভেস্তে গিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে।
স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজ-এর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও’ব্রায়েন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে ধারণা করেছিল সামরিক চাপের মুখে ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই হিসাব ভেঙে পড়েছে।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধের সূচনালগ্নে নীতিনির্ধারকরা প্রায়ই ধরে নেন যে তারা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন এবং দ্রুত বিজয় অর্জন সম্ভব হবে। তবে ইতিহাস বলছে, এ ধরনের ধারণা অনেক ক্ষেত্রেই ভুল প্রমাণিত হয় এবং যুদ্ধ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দীর্ঘায়িত হয়।
ও’ব্রায়েনের মতে, চলমান এই সংঘাত ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক পরিকল্পনার চেয়ে বেশি সময় ধরে চলছে এবং কৌশলগত অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ভেবেছিলেন সীমিত সময়ের বোমা হামলার মাধ্যমে ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘটিয়ে দ্রুত বিজয় ঘোষণা করা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, তিন সপ্তাহ অতিক্রম করার পরও যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্পষ্ট কৌশলগত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বরং ওয়াশিংটন এখন সংঘাত আরো বাড়ানো হবে কিনা, সে বিষয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করছে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে, যা নীতিগত দ্বিধার প্রতিফলন বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করছে, যাতে তারা এই সংঘাতে আরো সক্রিয় ভূমিকা নেয়। তবে এ ধরনের চাপ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং সংঘাতকে আরো বিস্তৃত করার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ও’ব্রায়েন সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই এর অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র : আল জাজিরা।



