যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে গতকাল মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানান, ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আট বছর বয়সী এক শিশুসহ আরো কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন।
ইরাকও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্ত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং ইরানপন্থী গোষ্ঠী উভয়কেই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।
ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া হুমকির সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং তেহরান সাময়িকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে বলে সম্মত হয়।
দুই স্থানীয় কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, গতকাল মঙ্গলবার কুয়েত সীমান্তের কাছে দক্ষিণ ইরাকে এক হামলায় কমপক্ষে তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বসরা প্রদেশের কাউন্সিলের সদস্য থায়ের আল-সালহি বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে খোর আল-জুবায়রের শহরে একটি বাড়িতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই বাড়িতে পাঁচজন বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, এক নারী ও এক শিশু। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি লাশ পাওয়া গেছে।’
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, খোর আল-জুবাইরের ওই বাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। তিনি জানান, হামলাটি কুয়েত থেকে চালানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
এএফপির একজন আলোকচিত্রী বলেন, এর কয়েক ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীরা বসরায় কুয়েতি দূতাবাসে হামলা চালানোর চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এএফপিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে বাগদাদে একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের বাড়িতে আঘাত হানলে আগুন লাগে এবং এতে আট বছর বয়সী এক শিশুসহ দু’জন নিহত হন।
সূত্র জানায়, ইরাকের রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলীয় আমিরিয়া জেলায় এক নারীসহ আরো তিন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এর আগে, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান যে, আমিরিয়া এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি বাড়িতে আঘাত হানে।
মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরাকি কুর্দিস্তানে ‘ইরান থেকে আসা’ একটি ড্রোন তাদের বাড়িতে বিধ্বস্ত হলে এক দম্পতি নিহত হন।
স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির সন্ত্রাস দমন পরিষেবা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ঘটনাটি গত সোমবার ঘটেছে, ‘যখন ইরান থেকে আসা একটি বোমাবাহী ড্রোন ইরবিল প্রদেশের দারা শাকরান উপজেলায় একজন বেসামরিক নাগরিকের বাড়িতে বিধ্বস্ত হয়’।
ইরবিলের গভর্নর ওমেদ খোশনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বলেছেন যে, বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং একটি যুদ্ধাপরাধের’ সমতুল্য।
সূত্র: বাসস



