ইরানে বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করলেন খামেনি

জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

ইরানজুড়ে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। এহেন অবস্থায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিরর সর্বোচ্চ নেতা। একইসাথে বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশী শত্রুদের ইন্ধন রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানে বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করলেন খামেনি
ইরানে বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করলেন খামেনি |আল জাজিরা

ইরানজুড়ে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। এহেন অবস্থায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একইসাথে এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশী শত্রুদের ইন্ধন রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এমন সতর্কতা বাণী উচ্চারণ করেন ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা।

খামেনি বলেন, ‘দেশব্যাপী যে বিক্ষোভ চলছে, সেটি বিদেশী শত্রুদের ইন্ধনে হচ্ছে। এর পেছনে বিশেষভাবে কাজ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।’ এ সময় তিনি এই অস্থিরতার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ারও হুমকি প্রদান করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে। সেজন্য থারা জনসাধারণের সম্পত্তিতে আক্রমণ করছে। তাদের মনে রাখা উচিৎ যে তেহরান বিদেশী এজেন্টদের বিন্দু পরিমাণও সহ্য করবে না।’ একইসাথে ট্রাম্পের হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে তেহরানকে। এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। একইসাথে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সবাইকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন পক্ষকেও ‘প্রকৃত অভিযোগ’ আমলে নেয়ার উপর তাগিদ দিয়েছেন। তবে সরকার পক্ষের অন্য কর্মকর্তারা বলেছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে কোনো নমনীয়তা দেখাবে না। কারণ, এর পেছনে বিদেশী শত্রুদের ইন্ধন রয়েছে।

আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের তীব্র দরপতনে ক্ষুব্ধ হয়েছে জনগণ। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে তা তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। আজ শুক্রবারও সেই ব্ল্যাকআউট বজায় রাখা হয়েছিল। ফলে সবার মোবাইল-ফোন কার্যত বন্ধ রয়েছিল। একইসাথে বিমান অ্যায়ারলাইন্সগুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো বাতিল করতে হয়েছে।

তবে বিক্ষোভকারীরা নানা উপায়ে কর্মসূচির ভিডিও ধারণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে আসছে। একইসাথে বিক্ষোভকারীদের সরকার বিরোধী নানা স্লোগান দিতেও দেখা যাচ্ছে।

বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় পক্ষ একরকম নীরবতা পালন করেছিল। তবে শুক্রবার নীরবতা ভেঙে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি এজেন্টরা বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন লাগিয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে তারা এর বেশি কিছু আর বলেনি।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, তেহরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র আর তা হতে দেবে না। তখন এরজন্য তাদেরকে চড়ামূল্য পরিশোধ করতে হবে।

সম্প্রতি ইরানের স্বঘোষিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির সাথে ট্রাম্পের একটি সাক্ষাতের সম্ভাবনা আলোচিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন। একইসাথে ইঙ্গিত দেন যে তেহরানের সরকার ভেঙে পড়লেও ওয়াশিংটন তার উত্তরসূরীকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত নয়।

বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের ডাক দেন ইরানের শেষ শাহের পুত্র পাহলভি। এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সিনিয়র ফেলো হলি ডাগ্রেস বার্তাসংস্থা এপিকে বলেন, পাহলভির ডাকে বিক্ষোভ কর্মসূচি ভিন্নদিকে মোড় নিয়েছে। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানিদের পোস্ট থেকে বুঝা যাচ্ছে যে তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের জন্য পাহলভির আহ্বানকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে। এ কারণেই সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। যেন বিশ্ববাসী বিক্ষোভের চিত্র দেখতে না পারে।

তিনি আরো বলেন, তবে ইরান সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে রঙ দিয়েছেন। তারা এর পক্ষে বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যাকে দায়ী করেছেন।

রাষ্ট্রীয় ভাষণে ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত করে খামেনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা অন্যদেশকে খুশি করতে গিয়ে নিজেরই ক্ষতি করছে।

সূত্র : আল জাজিরা