ইরাকের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে মুক্তি দিয়েছে। অপহরণের এক সপ্তাহ পর তাকে মুক্তি দেয়া হয়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি ও যুক্তরাষ্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ আঞ্চলিক সঙ্ঘাতে ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তার মুক্তির ঘোষণা আসে।
গোষ্ঠীটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবু মুজাহিদ আল-আসাফ এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় অবস্থানের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা অভিযুক্ত আমেরিকান শেলি কিটলসনকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শর্ত হলো তাকে অবিলম্বে এই দেশ ত্যাগ করতে হবে।’
তিনি বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। ‘আগামী দিনগুলোতে এর পুনরাবৃত্তি হবে না। কারণ, আমরা ইসলামবিরোধী জায়নিস্ট-আমেরিকান শত্রুর চাপানো যুদ্ধে আছি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক বিষয় বিবেচনায় রাখা হয় না।’
পরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, কিটলসন মুক্ত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই মার্কিন নাগরিক এখন মুক্ত, এতে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। তাকে নিরাপদে ইরাক ত্যাগে সহায়তা করতে কাজ করছি।’
এর আগে এক জ্যেষ্ঠ ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, অপহরণের সাথে জড়িত বলে ধারণা করা এক ইরান সমর্থক গোষ্ঠীর সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কর্তৃপক্ষ।
রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত কাতাইব হিজবুল্লাহই কিটলসনকে অপহরণ করেছিল।
রোমে বসবাসকারী শেলি কিটলসন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিস্তৃত প্রতিবেদন করে আসছেন। তিনি আল-মনিটরসহ বিভিন্ন প্রকাশনার সাথে কাজ করেছেন।
তার অপহরণের ঘটনায় এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল।
একসময় বাগদাদ অপহরণ ও অপহরণের চেষ্টার জন্য কুখ্যাত ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির সাথে এ ধরনের ঘটনা কমেছে।
ইসরাইলি-রুশ অ্যাকাডেমিক এলিজাবেথ তসুরকভ ২০২৩ সালে বাগদাদে অপহৃত হন। তাকে দুই বছর আটকে রাখার পর গত বছর মুক্তি দেয়া হয়।
সূত্র: বাসস



