ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়াগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান, তবে কোনোটি লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই বিকল হয়ে পড়ে। অপরটি প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করা হয়। তবে সেটি সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করতে পেরেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অ্যাংলো-মার্কিন এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে কবে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ দূতাবাস কিংবা যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, এর আগে ইরান দাবি করেছিল তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সর্বোচ্চ ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত মাসে বলেছিলেন, তেহরান স্বেচ্ছায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারে সীমিত রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর সেই দাবি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
ইসরাইলের আলমা রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুর তথ্য অনুযায়ী ইরানের বেশির ভাগ মিসাইল স্বল্প ও মধ্যপাল্লার। যেগুলো যথাক্রমে ১ হাজার কিলোমিটার থেকে ৩ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যেতে পারে। তবে কিছু প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইরানের মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো বর্তমানে ‘অ্যাডভান্সড স্টেজে’ আছে। অর্থাৎ এগুলোর দূরত্ব বেড়েছে।
দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপে অবস্থিত। একটি একটি কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বোমারু, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং গাইডেড মিসাইল বিধ্বংসী রাখে।
সূত্র: ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল



