ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে। হিব্রু ভাষার কিছু গণমাধ্যমে কয়েক দিন ধরেই দাবি করছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি নিহত অথবা গুরুতর আহত হয়েছেন। ঠিক এমনই সময় একটি অদ্ভুত ভিডিও প্রকাশ পাওয়া নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে হিব্রু মিডিয়ায় নেতানিয়াহুর একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তাকে কথা বলতে দেখা গেছে। কিন্তু ভিডিওটি স্বাভাবিক মনে হয়নি। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এটি সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, ভিডিওটি এমন এক সময় প্রকাশ করা হয়েছে যখন কয়েক দিন ধরে ইসরাইলের ভেতরেই নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা আহত হওয়ার গুজব ক্রমেই ডালপালা বিস্তার করছিল। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন ভিডিওটি পরিস্থিতি পরিষ্কার করার বদলে উল্টো সন্দেহকেই বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ ভিডিওটির ভাষা এবং ভিজ্যুয়াল অঙ্গভঙ্গি অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।
সাইবার বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করা কয়েকটি বিশেষায়িত ওয়েবসাইটও ভিডিওটি বাস্তব কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাইবারবান নিউজ এজেন্সি নামের একটি সাইবার বিশ্লেষণমুখী সাইট দাবি করেছে, ভিডিওটি সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বানানো হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভিডিওর ফ্রেমে মুখের নড়াচড়া এবং আলোছায়ার আচরণ স্বাভাবিক ফুটেজের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই বিতর্ক সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর একটি সম্ভাব্য এআই ভিডিও সামনে আসায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন আসল ঘটনা কী?
এখন পর্যন্ত ইসরাইল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভিডিও নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেনি। পশ্চিমা বড় গণমাধ্যম যেমন নিউ ইয়র্ক টাইমস বা ফিনান্সিয়াল টাইমসেও নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা আহত হওয়ার কোনো নিশ্চিত খবর প্রকাশ হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো গুজব এবং তথ্যযুদ্ধের মধ্যেই আটকে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে আধুনিক যুদ্ধে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ট্যাংক নয় তথ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধও বড় ভূমিকা রাখছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো ভিডিও বা ভুয়া বার্তা এখন সেই তথ্যযুদ্ধের বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহুকে ঘিরে এই ভিডিও বিতর্ক সেই নতুন যুদ্ধক্ষেত্রেরই আরেকটি উদাহরণ বলে মনে করছেন অনেকে।



