‘বিজয়’ ঘোষণা করে যুদ্ধবিরতি মেনে নিল ইরান

মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই যুদ্ধবিরতিকে তারা ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে দেখছে। পরিষদ জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, এটি যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের দিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি |সংগৃহীত

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে ইরান। এই চুক্তি নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সম্মতিতে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ এক বিবৃতিতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই যুদ্ধবিরতিকে তারা ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে দেখছে। পরিষদ জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, এটি যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের দিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।

পুরো প্রক্রিয়াটি সফল হয়েছে পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতায়। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অস্থায়ী বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে। ইরানের বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।

চুক্তি অনুসারে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে ইসলামাবাদে। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে এই বৈঠক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা সেখানে মুখোমুখি বসে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় খুঁজবেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এই চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরলেও সতর্ক করে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পূর্ণ আস্থা নেই। তবে দুই সপ্তাহের এই সময়কালকে কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের অনুরোধে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য সেই হামলা স্থগিত করেন। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। এই পদক্ষেপ বিশ্বের তেল সরবরাহে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি, আল জাজিরা, রয়টার্স