উপসাগরীয় তেল স্থাপনায় ইরানের হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাদের অবকাঠামোতে পুনরায় হামলা হলে ইরান আর কোনো সংযম দেখাবে না।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে তেহরানের হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা এই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের তিন সপ্তাহ পার হতে চলেছে।

এদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁন-নোয়েল বারোর সাথে বৈঠককালে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা শুরুর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা বৈঠকের পর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ কেন্দ্রে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সাথে তারা ইউরোপের দিকে নিয়ন্ত্রহীন অভিবাসন ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জিতে যাচ্ছি।’

তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও দাবি করেন যে, এই যুদ্ধ ধারণার চেয়েও দ্রুত শেষ হবে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখন ইরান কে চালাচ্ছে, তা আমি নিশ্চিত নই।’

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘নতুন আয়াতুল্লাহ মোজতবা এখনো সামনে আসেননি।’

উল্লেখ্য, যুদ্ধের প্রথম দিন ইসরাইলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা দায়িত্ব নেন।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও ইরানের পাল্টা হামলায় জ্বালানি বাজার টালমাটাল হয়ে পড়েছে। কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের তেল-গ্যাস শোধনাগারে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে আগেই তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছিল। ব্রেন্ট তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারে পৌঁছে, পরে আবার ১১০ ডলারে নেমে আসে। ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।

কাতারের রাস লাফান প্রাকৃতিক গ্যাস কমপ্লেক্সে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে, বুধবার ইসরাইল ইরানের ‘সাউথ পার্স’ গ্যাস ক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছিল।

এছাড়া সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরের সামরেফ শোধনাগার এবং কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ ও মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে ড্রোন হামলা হয়েছে।

সৌদি সরকার জানিয়েছে, তারা এই হামলার জবাব দেয়ার অধিকার রাখে। বৃহস্পতিবার ইসরাইলের হাইফা বন্দরের একটি তেল শোধনাগারেও হামলা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের অভ্যন্তরে সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরাইলের হামলার বিষয়ে তিনি আগে থেকে জানতেন না। তবে তিনি নেতানিয়াহুকে নতুন করে গ্যাস ফিল্ডে হামলা না করতে বলেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলের সাথে তাদের কাজের সমন্বয় আছে, তবে মাঝেমধ্যে ওয়াশিংটনের মতের বাইরে গিয়েও নেতানিয়াহু কিছু পদক্ষেপ নেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাদের অবকাঠামোতে পুনরায় হামলা হলে ইরান আর কোনো সংযম দেখাবে না।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানসহ শক্তিশালী দেশগুলো হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বললেও তারা কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানায়নি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এই সঙ্ঘাতকে ‘বেপরোয়া উত্তেজনা’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: বাসস