ইরান যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর জোটে বড় ফাটল

দ্রুত সামরিক বিজয়ের স্বপ্ন দেখা ট্রাম্প এবং দীর্ঘ ৪০ বছরের শত্রু দমনের লক্ষ্য নেওয়া নেতানিয়াহুর মধ্যে এখন রণকৌশল নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে

সৈয়দ মূসা রেজা

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সময় ওয়াশিংটন ও ইসরাইল এক সুরে কুণ্ঠাহীনভাবে ক্ষমতা পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু তিন সপ্তাহ পার না হতেই দুই মিত্রের লক্ষ্য এখন ভিন্ন পথে মোড় নিয়েছে। ইসরাইল যখন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে,তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কথা ভেবে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছেন।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দ্রুত সামরিক বিজয়ের স্বপ্ন দেখা ট্রাম্প ও দীর্ঘ ৪০ বছরের শত্রু দমনের লক্ষ্য নেয়া নেতানিয়াহুর মধ্যে এখন রণকৌশল নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।

জন হাডসন, ওয়ারেন পি স্ট্রোবেল এবং স্টিভ হেন্ড্রিক্স, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে। সে সময় তাদের বার্তা ছিল অভিন্ন—ইরানের বর্তমান শাসনের অবসান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,এটাই তাদের একমাত্র সুযোগ নিজেদের সরকারকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার। অন্যদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আহ্বান জানিয়েছিলেন, তেল আবিবের ভাষায়, এই রক্তপিপাসু শাসনের জোয়াল ভেঙে ফেলার। কিন্তু যুদ্ধের বয়স তিন সপ্তাহ পার হতেই সেই অভিন্ন লক্ষ্যগুলো এখন দুই দিকে বেঁকে যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নীতি নির্ধারকদের মতে, ট্রাম্প চেয়েছিলেন খুব সামান্য অর্থনৈতিক ক্ষতি স্বীকার করে একটি দ্রুত সামরিক বিজয়। কিন্তু নেতানিয়াহুর লক্ষ্য অনেক বড়; তিনি গত ৪০ বছর ধরে যাকে ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখেছেন, সেই ইরান সরকারকে সমূলে উৎপাটন করতে চাইছেন।

গ্যাসক্ষেত্রে হামলা ও ট্রাম্পের পাল্টা অবস্থান
গত বুধবার (১৭ মার্চ) ইরানের বিশাল দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলের হামলা দুই মিত্রের মধ্যকার উত্তেজনাকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে,ইসরাইল অত্যন্ত সহিংসভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন যে, আমেরিকা এই হামলা সম্পর্কে কিছুই জানত না। কাতার এই গ্যাসক্ষেত্রের অন্যতম অংশীদার এবং সেখানে আমেরিকার বড় সামরিক ঘাঁটি থাকায় ট্রাম্প নিজেকে এই অপারেশন থেকে দূরে রাখতে চাইছেন। তবে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, ইসরাইল এই হামলা চালানোর আগে ওয়াশিংটনকে অবহিত করেছিল। এই ঘটনা জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং কাতার ও সৌদি আরবে ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলার পথ তৈরি করেছে।এমন আশঙ্কা ট্রাম্পকে বিচলিত করে তুলেছে।

নেতানিয়াহুর মৃত্যু গুঞ্জন ও গ্যালওয়ের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন
যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে যে,ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন। এই রহস্যময় বার্তাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ বিরোধীদলীয় নেতা এবং কট্টর যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিক জর্জ গ্যালওয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিস্ফোরক পোস্ট দেন। গ্যালওয়ে প্রশ্ন তোলেন,যদি সত্যিই নেতানিয়াহু নিহত হয়ে থাকেন, তবে বর্তমানে আমেরিকার নেতৃত্ব দিচ্ছে কে? তার এই শ্লেষাত্মক মন্তব্য মূলত ওয়াশিংটনের ওপর ইসরাইলি লবির প্রবল প্রভাব এবং ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির ওপর নেতানিয়াহুর নিয়ন্ত্রণকেই ইঙ্গিত করেছে। গ্যালওয়ের এই পোস্ট মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দুই দেশের অসম সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও হোয়াইট হাউসের বিভক্তি
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক মন্তব্যে স্বীকার করেছেন যে, ইসরাইলের একগুয়ে জেদই আমেরিকাকে যুদ্ধে নামতে বাধ্য করেছে। এতে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং তারা একজন বিদেশী নেতার প্ররোচনায় আমেরিকার যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এরই মধ্যে ট্রাম্পের শীর্ষ কাউন্টার টেররিজম কর্মকর্তা জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন,ইসরাইল ও তাদের শক্তিশালী লবির চাপে পড়ে আমেরিকা আবারো মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি অর্থহীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।

ইসরাইলি রণকৌশল বনাম মার্কিন পরিকল্পনা
ইসরাইল এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার বিমান হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, এর মধ্যে ৪০ শতাংশ হামলা সরাসরি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেইসব স্থাপনার ওপর চালানো হয়েছে যা মূলত কথিত গণঅভ্যুত্থান দমনে ব্যবহৃত হয়। যুদ্ধের শুরুতেই সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার পাশাপাশি তারা আলী লারিজানি এবং বাসিজ প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানির মতো প্রভাবশালী নেতাদের খতম করেছে। ইসরাইল চায় এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে যাতে আকাশপথের তীব্র হামলার মুখে সাধারণ মানুষ রাজপথে নামার সাহস পায় এবং নিরাপত্তা বাহিনী তা রুখতে ব্যর্থ হয়। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, এতো কিছুর পরও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনও ‘ক্র্যাকিং’ বা ভেঙে পড়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ভেতর থেকে পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে, ইরানি জনগণের এখন সরকারের প্রতি সমর্থন জোরালো হয়েছে। তাদের মধ্যে শাহাদতের চেতনা অনেকগুণে বেড়েছে।

অপারেশন এপিক ফিউরি ও শাসন পরিবর্তনের বিতর্ক
হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করছে যে যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে কোনো ধোঁয়াশা নেই। একজন কর্মকর্তার মতে, ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চারটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে: ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ধ্বংস করা,তাদের নৌবাহিনীকে ডুবিয়ে দেয়া, আঞ্চলিক মিত্রদের নিষ্ক্রিয় করা এবং তারা যেন কখনোই পরমাণু অস্ত্র না পায় তা নিশ্চিত করা। কিন্তু ইসরাইলি কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা মনে করেন, আকাশ থেকে বোমা ফেলে শাসন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থান বা বিশাল গণবিদ্রোহ। ইসরাইল এখন সেই ক্ষেত্রটিই তৈরি করার চেষ্টা করছে, যদিও তারা জনসমক্ষে বলছে যে ট্রাম্পের সাথে তাদের সমন্বয় ‘অতুলনীয়’।

পোড়ামাটি নীতি ও পরিবেশগত বিপর্যয়
যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে যখন ইসরাইলি হামলায় ইরানের তেল খনিগুলো থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া আর অ্যাসিড বৃষ্টির মেঘ তৈরি হতে শুরু করে, তখন থেকেই দুই দেশের জোটে ফাটল স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে যে অর্থনৈতিক ধস নামতে শুরু করেছে, ট্রাম্প তা নিতে পারছেন না। এক উর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, ইসরাইল এখন ইরানে ‘পোড়ামাটি নীতি’ বা স্কর্চড-আর্থ ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে, যা আমেরিকার কাম্য নয়। ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি অবকাঠামো অক্ষত রেখে লক্ষ্য অর্জন করতে, কিন্তু নেতানিয়াহু চাচ্ছেন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে।

মার্কো রুবিও ও তুলসী গ্যাবার্ডের ভিন্ন সুর
মার্কো রুবিও মার্চ মাসের শুরুতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সাথে ব্রিফিং করার সময় বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ইসরাইলের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ না করলেও আমেরিকার অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। ওই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত এক কর্মকর্তার মতে, রুবিও বলেছিলেন যে আমেরিকা সরাসরি শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা করছে না, তবে তিনি ইসরাইলের পরিকল্পনার ব্যাপ্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসী গ্যাবার্ড সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরাইল সরকারের যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো ভিন্ন।

ইসরাইলি জনমত ও গণবিদ্রোহের স্বপ্ন
ইসরাইলের ভেতরে এই যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থন তুঙ্গে। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৯৩ শতাংশ ইহুদি ইসরাইলি এই যুদ্ধকে সমর্থন করছে এবং তারা চায় বর্তমান ইরানের শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি পতন না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ চলুক। এই রাজনৈতিক সমর্থন নেতানিয়াহুকে আমেরিকার চাপের মুখেও অনড় থাকতে সাহায্য করছে। ইসরাইলি সামরিক পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, ইরানের ওপর ১৬ হাজার যৌথ হামলা চালানোর পর দেশটির অভ্যন্তরীণ বিরোধীরা হয়তো রাজপথে নামার সাহস পাবে। যদিও জানুয়ারিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার কথা দেশটির মানুষ ভুলে যায়নি, তাই কথিত বিদ্রোহ কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে ইসরাইলিদের মধ্যেও সন্দেহ আছে।

আইআরজিসি’র ভেতরে ফাটলের গালগপ্প ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি
সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু। যুদ্ধের শুরুতেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বোমা হামলায় বিপুল সংখ্যক শিশু নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। পশ্চিমা একপেশে গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বাসিজ বাহিনীর মধ্যে এখন কিছুটা অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয়েছে। খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি, যিনি তার বাবার সাথে হামলায় আহত হয়েছিলেন, তাকেও আর জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। এসব ঘটনাকে ইসরাইল তাদের সফলতার চিহ্ন হিসেবে দেখাতে চাইছে। কিন্তু আমেরিকা একে দেখছে দীর্ঘমেয়াদী সঙ্কটের শুরু হিসেবে।

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও স্থল সেনা পাঠানোর জটিল সমীকরণ
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্য এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনসমক্ষে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-কে সফল বলে দাবি করলেও, এই যুদ্ধের প্রকৃত শেষ কোথায় কিংবা কবে এর সমাপ্তি ঘটবে—তা নিয়ে তিনি একেক সময় একেক বিভ্রান্তিকর বার্তা দিচ্ছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, এত বিপুল পরিমাণ বিমান হামলার পরেও ইরানের বর্তমান শাসনকাঠামো এখনও বেশ অটল।

তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে থাকায় এবং পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে, ইরান আগের চেয়ে আরও কট্টরপন্থী অবস্থানে চলে যাওয়ায় ট্রাম্পের ওপর এখন পদাতিক সৈন্য বা 'গ্রাউন্ড ট্রুপস' পাঠানোর মতো রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ বাড়ছে। তবে বৃহস্পতিবারের (১৯ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখনই তিনি কোথাও কোনো পদাতিক সৈন্য পাঠাচ্ছেন না। যুদ্ধের এই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে নেতানিয়াহু পরিস্থিতির দাবি মেনে ট্রাম্পের প্রতি বাহ্যিক আনুগত্য দেখাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তিনি তার নিজস্ব ‘অ্যাজেন্ডা’ বা লক্ষ্য বাস্তবায়ন থেকে এক চুলও সরছেন না। দুই যুদ্ধবাজনেতার এই সমন্বয়হীনতা এবং তলে তলে বাড়তে থাকা ফাটল এখন ওয়াশিংটন ও তেল আবিব—উভয় পক্ষেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, তাসনিম নিউজ।