ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার নৌসেনা (মেরিন) ও নাবিক মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, ইরানে সরাসরি স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে এই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উভচর হামলাকারী জাহাজ ইউএসএস বক্সার-এর মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট যুদ্ধজাহাজগুলো ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর ফলে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরো জোরদার হবে।
তবে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। তবে যদি পাঠাতামও, তা সাংবাদিকদের জানাতাম না।”
সূত্রগুলো জানায়, নতুন করে পাঠানো সেনাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনো নির্ধারিত হয়নি। একজন কর্মকর্তা জানান, এই বাহিনী নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। নতুন বাহিনী যুক্ত হলে সেখানে মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সংখ্যা বেড়ে দুটিতে দাঁড়াবে। সাধারণত প্রতিটি ইউনিটে প্রায় আড়াই হাজার সদস্য থাকে, যারা সমুদ্র থেকে বিমান হামলা বা স্থল অভিযানে দক্ষ।
এর আগে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগন ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সামরিক বিকল্প প্রস্তুত করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইরানের উপকূলে বাহিনী মোতায়েন এবং খারগ দ্বীপ-এ সেনা পাঠানোর পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
সূত্রগুলো আগে জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রয়টার্সের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই বিকল্পগুলোর মধ্যে ইরানের উপকূলে মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের কথা রয়েছে; যাতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। এ ছাড়া ইরানের খারগ দ্বীপেও সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসনে। পারস্য উপসাগরের এই দ্বীপ থেকে ইরানের মোট রপ্তানি তেলের ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয়।
ইরানে সেনা পাঠানো ট্রাম্পের জন্য সীমিত সময়ের জন্য হলেও বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন জনগণের সমর্থন খুবই কম। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার আগে নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কোনো সংঘাতে জড়াবেন না।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বিশ্বাস করেন, ট্রাম্প ইরানে বড় পরিসরে স্থলযুদ্ধের নির্দেশ দেবেন। তবে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ তা সমর্থন করেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান শুরু করা হলে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় অংশ এ ধরনের যুদ্ধে সমর্থন দিচ্ছে না।
সূত্র: রয়টার্স।



