দোহায় গুরুত্বপূর্ণ এলাকা খালি করার পর বিস্ফোরণের শব্দ

কাতারের রাজধানী দোহায় গুরুত্বপূর্ণ এলাকা খালি করার পর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয় হয় এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। জনগণকে সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

কাতারের রাজধানী দোহায় আজ শনিবার সকালে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই শহরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা খালি করে দেয়।

কাতারের রাজধানী দোহার কেন্দ্রস্থলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ইন্টারসেপ্টর) সক্রিয় হতে এবং ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ভূপাতিত হতে দেখা গেছে। ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক বিমান অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

উপসাগরীয় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী ‘কাতারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।’

এর আগে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে লোকজনকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়। এটি একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ, যা বিপদ না কাটা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। মন্ত্রণালয় জনগণকে শুধু সরকারি সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলতে অনুরোধ করেছে।

দোহার কেন্দ্রীয় মুশইরেব এলাকায় কিছু বাসিন্দা মোবাইলে সতর্কবার্তা পেয়েছেন, যাতে বলা হয়েছে, ‘এলাকা এখনই খালি করুন... অস্থায়ী সতর্কতার জন্য নিকটতম নিরাপদ স্থানে চলে যান।’

এএফপির এক সাংবাদিক জানান, মুশেইরেবের কয়েক ডজন বাসিন্দা এবং কিছু হোটেল অতিথিকে আশ্রয়ের জন্য ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মুশেইরেব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে এবং কিছু এলাকা ঘিরে রেখেছে। এই এলাকায় রয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল-এর স্থানীয় কার্যালয় এবং মার্কিন পেমেন্ট কোম্পানি আমেরিকান এক্সপ্রেসের একটি স্থানীয় শাখা।

দোহার উত্তরে লুসাইলে, মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফ্টের কাতার সদর দপ্তরের প্রবেশ পথেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী গত বুধবার জানিয়েছে, তারা ব্যাংকসহ এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলা চালাবে।

অন্যদিকে একটি ইরানি বার্তাসংস্থা প্রযুক্তি জায়ান্টদের সম্ভাব্য ‘ভবিষ্যতের লক্ষ্যবস্তু’ হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে।

দোহার পশ্চিমে আল-ঘারাফা এলাকায়, মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে, কিছু বাসিন্দাও সরিয়ে নেয়ার বার্তা পেয়েছে।

গত ৫ মার্চ তারিখে দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে ইরানের তৎপরতা বৃদ্ধির পর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই দোহায় মার্কিন মিশনের আশপাশের ভবনগুলো খালি করে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সূত্রপাতকারী ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির পাল্টা হামলার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে তেল সমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে, যেখানে তেহরান মার্কিন সম্পদের পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে।

সূত্র : বাসস