মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের সমীকরণ যেন নতুন করে বদলে যাচ্ছে। একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের হার হঠাৎ বেড়ে গেছে বলে দাবি করছে তেহরান। অন্যদিকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও একের পর এক শত্রুপক্ষের চালকহীন আকাশ যান বা ড্রোন নামিয়ে দিচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এমনই দাবি করেছে ইরানের সামরিক মহল।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বিমান ও মহাকাশ শাখার কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় বলেছেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার হার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
তার ভাষায়, ‘আকাশ যেন বিশাল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য নিজের দু’হাত খুলে দিয়েছে, আর আগ্রাসীদের শাস্তি দেয়ার পর্ব চলছেই।’
এই বার্তাকে তেহরানের সামরিক পর্যবেক্ষকেরা ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু বাড়ছেই না, তার নির্ভুলভাবে আঘাত হানার ক্ষমতাও বেড়েছে।
একই সময়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড ও নিয়মিত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষার লড়াইতেও তারা এগিয়ে আছে।
তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির প্রতিরক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিপ্লবী গার্ডের নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফারস প্রদেশের ফিরুজাবাদ এলাকায় একটি সশস্ত্র এমকিউ-৯ ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। একই সময়ে তাবরিজের আকাশেও আরেকটি উড়োজাহাজকে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জনসংযোগ দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টাতেই শত্রুপক্ষের পাঁচটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
আর সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের মোট ১১১টি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সংখ্যাটা যদি সত্যি হয়, তা হলে বোঝা যায় আকাশ প্রতিরক্ষার লড়াইও এখন যুদ্ধের বড় এক অংশ হয়ে উঠেছে।
তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, একদিকে লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুল আঘাত করার ক্ষমতা বাড়ছে, অন্যদিকে শত্রুপক্ষের নজরদারি ড্রোনও একের পর এক আকাশ থেকে নামানো হচ্ছে। ফলে আকাশের লড়াইটাই এখন এই সংঘাতের কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে। আর ঠিক সেই আকাশেই নাকি ইরানের ‘বড় বড় ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য দরজা খুলে গেছে’- এমনই ভাষায় নিজের বার্তায় লিখেছেন কমান্ডার মুসাভি।



