ইসরাইলের ডিমোনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভবন ধসে আহত ২০

ইসরাইলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানায়, শনিবার (২১ মার্চ) ভোরে একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে শহরের একটি ভবনে আঘাত হানে, যার ফলে ভবনটি ধসে পড়ে। ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা শহরের অন্তত ১২টি পৃথক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের খোঁজ করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ডিমোনা-তে ইরানের টানা পঞ্চম দফা রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে একটি ভবন ধসে পড়েছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ।

ইসরাইলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানায়, শনিবার (২১ মার্চ) ভোরে একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে শহরের একটি ভবনে আঘাত হানে, যার ফলে ভবনটি ধসে পড়ে। ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা শহরের অন্তত ১২টি পৃথক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের খোঁজ করেন।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ডিমোনাজুড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ নিউজ জানিয়েছে, একটি ক্লাস্টার মিউনিশন ক্ষেপণাস্ত্র এবং পৃথক একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওই এলাকায় আঘাত হানে। তবে ভবন ধসটি সরাসরি আঘাতে নাকি প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো থেকে হয়েছে—তা এখনও নিশ্চিত নয়।

উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি এখনও চলমান বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

দক্ষিণ ইসরাইলে ধারাবাহিক হামলা
ডিমোনায় এই হামলা ইরানের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের অংশ, যা নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলের এই শহরকে একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু করেছে। সামরিক সূত্রের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ডিমোনা ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক সংকেত বাজানো ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয়ে থাকতে পারে। মধ্যরাতের পর থেকে এটি ইসরাইলে ইরানের পঞ্চম হামলা।

সর্বশেষ হামলার পর ডিমোনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত বা ধ্বংসাবশেষ পতনের খবর পেয়ে চিকিৎসক ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। তবে আঘাতটি সরাসরি নাকি প্রতিরোধের পর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের কারণে—তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, দক্ষিণে হামলার পাশাপাশি উত্তর ইসরাইলেও উত্তেজনা ছড়ায়। লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ রকেট নিক্ষেপ করলে পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলের নাহারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে সাইরেন বেজে ওঠে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিমোনা
ডিমোনা শহরটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরটির কাছে অবস্থিত শিমন পেরেস নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার, যা ইসরাইলের অনানুষ্ঠানিক পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। যদিও ইসরাইল এ বিষয়ে ‘নিউক্লিয়ার অ্যামবিগুইটি’ নীতি অনুসরণ করে—অর্থাৎ পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করে না।

নেগেভ অঞ্চলে অবস্থিত এই স্থাপনাটি দেশটির সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোর একটি, যা বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সুরক্ষিত।

চলতি মাসের শুরুতে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি তাদের বিরুদ্ধে শাসন পরিবর্তনের পদক্ষেপ নেয়, তবে ডিমোনার এই পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে ফ্রান্সের সহায়তায় এই গবেষণা কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। শুরুতে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে এটি একটি বস্ত্র কারখানা হিসেবে উপস্থাপন করেছিল দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল।

সূত্র: আল জাজিরা, টার্কি টুডে।