ইরান কী পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবে?

যুক্তরাষ্ট্র-ইহুদিবাদী ইসরাইল জোট ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানলেও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি বা নিন্দা জানানো হয়নি।

সৈয়দ মূসা রেজা

নিউক্লিয়ার নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি বা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি এখন ইরানের নীতিনির্ধারণী মহলে গুরুত্ব সহকারে আলোচনায় উঠে এসেছে। দেশটির সংসদ মজলিসে শূরাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে আরো বলা হয়েছে, ইরানের ভেতরে এমন একটি ধারণা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে যে এনপিটি চুক্তিতে থেকে যাওয়ার আর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এনপিটি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার দায়িত্ব ছিল ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সেই ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেয়া, কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে গেছে বলে অভিযোগ তেহরানের। বিশেষ করে সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রোসি পরোক্ষভাবে ইরানের স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের হামলাকে উৎসাহ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইহুদিবাদী ইসরাইল জোট ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানলেও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি বা নিন্দা জানানো হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন, এনপিটিতে থেকে যাওয়ার মানে হচ্ছে নিজেদের ওপর দুশমনদের নজরদারি এবং চাপ বজায় রাখার সুযোগ করে দেয়া। তবে ইরান বলছে, এনপিটি ছাড়ার অর্থ পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে এগোনো নয়; বরং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা তৎপরতা বন্ধ করাই এর উদ্দেশ্য।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি