ইরানের খার্গ দ্বীপে সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসন ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, আর এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে শুধু পারস্য উপসাগর নয়, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও—এমনই সতর্কবার্তা এসেছে ইরানের সামরিক মহল থেকে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি দেশটির এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি খার্গ দ্বীপে সামরিক অভিযান চালানোর হটকারী হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে তার জবাব হবে এমন, যা গত ২১ দিনের যুদ্ধে দেখা সব ধরনের “চমক”কে ছাড়িয়ে যাবে। এই বক্তব্য শুধু পাল্টা হামলার ইঙ্গিত নয়, বরং গোটা অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য নড়েবড়ে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তুলে ধরেছে।
সূত্রটি স্পষ্ট করে জানায়, ইরানপন্থী প্রতিরোধ জোটের হাতে থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীতেও অস্থিরতা সৃষ্টি করা—যার মধ্যে বাব আল-মান্দাব প্রণালী ও লোহিত সাগর উল্লেখযোগ্য। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে সংঘাত যদি বাড়ে, তবে তা কেবল একটি দ্বীপ বা একটি দেশের সীমায় আটকে থাকবে না; বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এখন এক জটিল দ্বিধার মধ্যে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একদিকে তারা বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর প্রথমবারের মতো ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে, অন্যদিকে আবার সেই ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো খার্গ দ্বীপে হামলার কথাও বলছে। এই দুই নীতির মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। কারণ,খার্গ দ্বীপে হামলা মানে ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্রে আঘাত হানা। এই ধরনের হটকারী হামলা সাময়িকভাবে হলেও উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
সামরিক সূত্রের ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে ইরান শুধু প্রতিরোধেই থেমে থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চলের তেল স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে দ্বিধাকরবেনা। এমনপদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিলই করে তুলবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হয়ে উঠবে।
পাশাপাশি আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও এ খবরে তুলে ধরা হয়েছে,যদি খার্গ দ্বীপে হামলা হয়, তাহলে দ্বীপ কব্জায় রাখার মতো কার্যকর উপায় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে না। এ পর্যায় মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
সব মিলিয়ে খার্গ দ্বীপকে ঘিরে এই উত্তেজনা কেবল একটি সামরিক হুমকি নয়; এটি এমন এক সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিত, যা একসঙ্গে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র : তাসনিম নিউজ।



