ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সব ধরনের সামরিক হামলা আগামী পাঁচ দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ- হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে গত শনিবার তিনি ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন।
ইরানের এসব অবকাঠামোতে হামলা চালানোর নিজের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প তার পোস্টে বড় অক্ষরে লেখেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধানের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
‘এই গভীর, বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনার মেজাজ ও সুর বিবেচনা করে আমি প্রতিরক্ষা বিভাগকে আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এই আলোচনা সপ্তাহজুড়ে চলবে। তবে এটি (হামলা না করার সিদ্ধান্ত) চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে। এই বিষয়টির দিকে মনোযোগ দেয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ!’
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে প্রণালীটি তারা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কখনো কখনো ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
তবে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালালে তারা নৌপথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। অবকাঠামোগুলো মেরামত না করা পর্যন্ত তা বন্ধই থাকবে। তা ছাড়া পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে নৌ-মাইন মোতায়েনেরও হুমকি দিয়েছিল ইরান।
সূত্র : বিবিসি, আলজাজিরা



