যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা ‘নাগালের মধ্যে’: ইরান

আরাঘচি বলেন, “একটি ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন চুক্তির সুযোগ” তৈরি হয়েছে, তবে তা নির্ভর করছে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে কি না তার ওপর। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষিতে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি |সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাত এড়াতে একটি সমঝোতা এখনো “নাগালের মধ্যে” রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে নতুন দফা আলোচনার প্রাক্কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আরাঘচি বলেন, “একটি ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন চুক্তির সুযোগ” তৈরি হয়েছে, তবে তা নির্ভর করছে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে কি না তার ওপর। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষিতে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান “কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির সুফল ভোগ করার অধিকার ইরানের জনগণের রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তৃতীয় দফায় নির্ধারিত পরোক্ষ বৈঠক হবে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রয়েছে ওমান, যারা আশা প্রকাশ করেছে—চুক্তি চূড়ান্ত করতে পক্ষগুলো “আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।”

ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরাঘচি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

জেনেভায় সর্বশেষ বৈঠকের পর ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তেহরানের কাছে “অর্থবহ চুক্তি” করার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন সময় রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের প্রেক্ষাপটে তিনি সামরিক বিকল্পের কথাও পুনরায় উল্লেখ করেন।

আলোচনার দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক তৎপরতাও বেড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ন্যাটো ঘাঁটিতে নোঙর করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড ক্রপস (আইআরজিসি) দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে। বাহিনীটি দাবি করেছে, তারা ওই এলাকায় “একটি শক্তিশালী দুর্গ” গড়ে তুলেছে।

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানে জনমনে এখন ভীতি ও আশার মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির কারণে যুদ্ধের আশঙ্কা, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশা।

তিনি আরো বলেন, ডিসেম্বর মাসে অর্থনৈতিক সঙ্কটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। রাজধানীসহ বিভিন্ন বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে, তাদের পদক্ষেপের ফলে ইরানে মার্কিন ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যা তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কট ডেকে আনে। এর প্রেক্ষাপটে ডিসেম্বরের বিক্ষোভের আগে ইরানের অন্যতম বৃহৎ একটি ব্যাংকের পতন ঘটে।

কূটনৈতিক অগ্রগতি হবে, নাকি উত্তেজনা আরো বাড়বে—এখন তা নির্ভর করছে জেনেভার আলোচনার ফলাফলের ওপর। আল জাজিরা

সূত্র: আল জাজিরা