লেবাননে জাতিসঙ্ঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী (ইউনিফিল) জানিয়েছে, রোববার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি ইসরাইলি ট্যাংক শান্তিরক্ষী বাহিনীর যানবাহনে ধাক্কা দিয়েছে। এখানে গত মাস থেকে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
ইউনিফিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দু’বার ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সৈন্যরা একটি মারকাভা ট্যাংক দিয়ে ইউনিফিলের যানবাহনে ধাক্কা দিয়েছে। এর একটি ঘটনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বায়াদা এলাকায় একটি সড়ক আইডিএফ সদস্যরা বন্ধ করে দেয়, যা ইউনিফিলের অবস্থানে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘গত এক সপ্তাহে ইসরাইলি সৈন্যরা ওই এলাকায় “সতর্কতামূলক গুলি” চালিয়েছে, যা স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য ইউনিফিলের যানবাহনে আঘাত হেনেছে এবং ক্ষতি করেছে। এক ঘটনায় একটি গুলি এক শান্তিরক্ষীর মাত্র এক মিটার দূরে পড়ে, যখন তিনি গাড়ি থেকে নামছিলেন তখন এই গুলির ঘটনা ঘটে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই সড়কে শান্তিরক্ষীদের চলাচল বারবার বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে এবং অন্য এলাকাগুলোতেও তাদের চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইল সীমান্তের কাছে ইউনিফিলের টহল কার্যক্রম চলছিল। গত মাসে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট হামলা চালানোর পর থেকেই এই সংঘাত শুরু হয়।
গত মাসে দক্ষিণ লেবাননে তিনজন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত হয়।
এ সংঘাতে আরো বেশ কয়েকজন শান্তিরক্ষী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি মাসে ইসরাইলি সেনারা নাকুরায় ইউনিফিলের সদর দফতরসহ আরো পাঁচটি স্থানে নিরাপত্তা ক্যামেরা ধ্বংস করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া শনিবার সদর দফতরের প্রবেশপথের জানালায় রং ছিটিয়ে বাইরে দেখার সক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া হয়েছে।
ইউনিফিল বলেছে, এসব কর্মকাণ্ড শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বাধীনভাবে চলাচলের আন্তর্জাতিক নিয়মের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
দশকের পর দশক ধরে জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষীরা লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে আসছে। তবে এই মিশনের মেয়াদ চলতি বছরের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র : বাসস



