সস্তা ইরানি ড্রোনে দিশেহারা উপসাগরের জেট বাহিনী

বিশ্লেষক এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ড্রোন ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে জেট বিমান। এগুলো কার্যকর বটে, কিন্তু দিনরাত এমন টহল আর প্রতিরক্ষা চালাতে গিয়ে বিপুল খরচ, অতিরিক্ত পরিশ্রমে ক্লান্ত পাইলট, আর দ্রুত ক্ষয় হতে থাকা বিমান—সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

সৈয়দ মূসা রেজা

মশা মারতে কামান দাগার কথা আমরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছি। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধ এসে সেই প্রবাদকে যেন নতুন করে লজ্জায় ফেলেছে। কারণ এখানে মশা সত্যিই মশা নয়, আর কামানও শুধু কামান নয়। ইরানের শাহেদ-১৩৬ ধরনের চালকহীন আকাশযান, আকারে ছোট, গতি কম, নিচু দিয়ে উড়ে, কিন্তু আঘাতে ভয়ংকর। আর সেই তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে আকাশে তুলতে হচ্ছে বহু গুণ বেশি দামের জঙ্গি বিমান।

মূল কথা হলো, ড্রোন যুদ্ধের এই সমীকরণে যে পক্ষ আক্রমণ করছে, তার খরচ কম; কিন্তু যে পক্ষ ঠেকাচ্ছে, তার ঘাড়েই পড়ছে বড়সড় আর্থিক, কারিগরি ও মানবিক চাপ। এই হিসাব বেশিদিন টেকসই নয়।

ফিনান্সিয়াল টাইমসের এই প্রতিবেদনের লেখক জেকব জুডা যিনি লন্ডনভিত্তিক সাংবাদিক। তার মতে, উপসাগর জুড়ে এ মাসে উন্নত জঙ্গি বিমানগুলোকে নামানো হয়েছে এমন এক শত্রুর পিছু নিতে, যার বিরুদ্ধে তারা আদতে তৈরি হয়নি—ইরান থেকে ছোড়া ধীরগতির, নিচু দিয়ে চলা হামলাকারী ড্রোনের ঢেউয়ের পর ঢেউ।

বিশ্লেষক এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ড্রোন ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে জেট বিমান। এগুলো কার্যকর বটে, কিন্তু দিনরাত এমন টহল আর প্রতিরক্ষা চালাতে গিয়ে বিপুল খরচ, অতিরিক্ত পরিশ্রমে ক্লান্ত পাইলট, আর দ্রুত ক্ষয় হতে থাকা বিমান—সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

সমস্যার কেন্দ্রে আছে যুদ্ধের সেই বিখ্যাত খরচের অনুপাত। ইরানের বহুল ব্যবহৃত শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের দাম প্রায় ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে একটি এফ-১৬ জঙ্গিবিমানকে শুধু আকাশে সচল রাখতেই ঘণ্টায় ২৫ হাজার ডলারের বেশি খরচ পড়ে। অর্থাৎ যে অস্ত্রকে ঠেকাতে উঠছে বিমান, অনেক ক্ষেত্রেই সেই বিমানের এক ঘণ্টার আকাশে উড়াউড়ির খরচই একটি ড্রোনের দামের সমান, কখনও তার চেয়েও বেশি। এর সাথে যদি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র যোগ হয়, তাহলে হিসাব আরো ভয়াবহ হয়ে যায়। এআইএম-৯এক্স সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার, আর এআইএম-১২০ অ্যামরামের দাম ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। তখন বোঝা যায়, এখানে সত্যিই মশা মারতে কামান নয়, অনেক সময় যেন সোনার কামান দাগতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন ব্যবস্থাও আছে, যাতে সাধারণ রকেটরে রূপবদল করে ড্রোন ধ্বংসের মতো লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বানানো যায়। তবে একেকটির দাম ২০ হাজার ডলারের বেশি। ২০১৮ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবের কাছে এ ধরনের প্রায় ২৭ হাজার কিট বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করা হলেও, সেগুলো আদৌ সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অর্থাৎ তুলনামূলক সস্তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথাও আলোচনায় আছে, কিন্তু মাঠে বাস্তব সক্ষমতা কতটা, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আর তেলসমৃদ্ধ, অর্থে ভরপুর, উপসাগরীয় সামরিক ব্যবস্থার জন্যও ড্রোনযুদ্ধের এই অর্থনীতি মোটেও আরামদায়ক নয়।

সস্তা হুমকি ঠেকাতে এত দামি ব্যবস্থা ব্যবহার করা যে খারাপ অনুপাত তৈরি করছে, তা বিশ্লেষকেরাও সরাসরি বলেছেন। প্রতিবেদনে স্যামুয়েল বেনডেটের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে আত্মরক্ষাকারী পক্ষের উচিত কম খরচের সম্পদ বেশি ব্যবহার করা। জঙ্গিবিমানকে আদর্শ ব্যাকআপ হিসেবে রাখা ভালো, মূল ভরসা হিসেবে নয়। কথাটা সহজ বাংলায় বললে দাঁড়ায়, ডাকাত যদি ইট ছোড়ে, তাকে ঠেকাতে প্রতিবার হিরে ছোড়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। যুদ্ধ অবশ্যই খরচের খেলা, কিন্তু সেই খরচ যদি প্রতিপক্ষের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তাহলে দীর্ঘ লড়াইয়ে টেকা কঠিন।

এই কারণেই উপসাগরীয় জেটগুলো ড্রোন নামাতে অনেক সময় নিজেদের অনবোর্ড কামান ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। কামানের গোলা ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক সস্তা। কিন্তু এরও বড় ঝুঁকি আছে। লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছে যেতে হয়, ফলে ভুলের সুযোগ বাড়ে। জনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর এমন অস্ত্র ব্যবহার করলে বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কাও বাড়ে। তার ওপর প্রতিটি বিমানে গোলাবারুদের মজুত সীমিত। এফ-১৬ তার কামান থেকে মোটে প্রায় পাঁচ সেকেন্ড গুলি ছুড়লেই ম্যাগাজিন ফাঁকা হয়ে যায়। মানে আকাশে গিয়ে যদি প্রথম বা দ্বিতীয় চেষ্টায় কাজ না হয়, তাহলে দামী বিমানটি খুব দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর ইরান ৩ হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়েছে, যার বেশির ভাগের লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় অঞ্চল। অধিকাংশ ড্রোন ঠেকানো গেলেও সব নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত বলছে, তারা ১৬০০–এর বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে, যেখানে তাদের সহায়তা করছে ফরাসি ও ব্রিটিশ জঙ্গিবিমানও। তবু কিছু ড্রোন সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে, কখনও আশ্চর্য রকম নির্ভুলভাবে। অর্থাৎ প্রতিরক্ষা বলয় খুব শক্ত হলেও, শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। যুদ্ধের এই জায়গাটাই সবচেয়ে অস্বস্তিকর— কোটি কোটি ডলার খরচ করেও নিশ্চিত হতে পারছে না যে পরের ছোট্ট ড্রোনটি নিরাপত্তা ফাঁক গলে ঢুকে পড়বে না।

শুধু টাকা নয়, আরেকটি বড় চিন্তার জায়গা হচ্ছে সামরিক বাহিনীর ক্লান্তি। স্টিমসন সেন্টারের কেলি গ্রিয়েকো বলেছেন, এই মাত্রার তৎপরতা ধরে রাখা বিমানবাহিনীর জন্য ভীষণ ক্লান্তিকর। বিমানকে আপনি অনেক চাপ দিতে পারেন, কিন্তু একসময় তা বেশি বেশি হারে বিকল হবে,আরো বড়সড় রক্ষণাবেক্ষণ চাইবে। পাইলটদের ক্ষেত্রেও একই কথা। রাতদিন একই ধরনের শিকারি টহল, বারবার উড্ডয়ন, শত্রু দেখলেই ধাওয়া—এ এক ধরনের ক্ষয়যুদ্ধ। এতে শুধু যন্ত্রের নয়, মানুষেরও ক্ষয় হয়। ড্রোন ছোট, ধীর, আর নিচু দিয়ে ওড়ে—তাই সেগুলো নামানো সব সময় সিনেমার মতো চকচকে কাজ নয়। বরং অনেক সময় তা বিরক্তিকর, জটিল, এবং ভুল হলে বিব্রতকর।

সবচেয়ে উন্নত জঙ্গিবিমানের জন্যও এই লড়াই সহজ নয়। শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের গতি এফ-৩৫–এর গড় ক্রুজিং গতির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। শুনতে সুবিধার কথা মনে হলেও বাস্তবে তা উল্টো বিপদ। দ্রুতগতির জেট পাইলট যদি অভিজ্ঞ না হন, তাহলে তিনি খুব সহজেই লক্ষ্যবস্তু পার হয়ে সামনে চলে যেতে পারেন। মানে শিকার এতটাই ধীর যে শিকারিই তাকে ধাওয়া করতে গিয়ে পেরিয়ে যায়। যুদ্ধের বিদ্রূপটা এখানেই—যে বিমান আকাশের রাজা, সেই বিমানই কখনও কখনও এক নিচু দিয়ে চলা ‘উড়ন্ত মশা’ ধরতে হিমশিম খায়।

প্রতিবেদন বলছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনায় বড় ভুল ছিল হুমকির অগ্রাধিকার নির্ধারণে। তারা মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিকে গুরুত্ব দিয়েছে, কিন্তু ছোট ও সস্তা ড্রোনের হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। অথচ ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্রের মতো নয়। এগুলো আকারে ছোট, গতিতে ধীর, অনেক নিচু দিয়ে উড়ে। রাডারকে আলাদা করে ক্যালিব্রেট করতে হয়, যাতে পাখি, ভবন আর ড্রোনের মধ্যে পার্থক্য ধরা যায়। শুধু তাই নয়, সংবেদনশীল সেন্সরের নেটওয়ার্ক দিয়ে শাহেদের ঘাস কাটার মেশিনের মতো গুনগুনে ইঞ্জিনের শব্দও শোনার চেষ্টা করা হচ্ছে। অর্থাৎ এই যুদ্ধ শুধু চোখের নয়, কানেও লড়া হচ্ছে।

উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো আরেকটি কারণে জঙ্গিবিমানের ওপর বেশি নির্ভর করছে: তারা স্থলভিত্তিক অবরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাঁচিয়ে রাখতে চায়। বিশেষ করে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, যার একবার ব্যবহারেই প্রায় ৪০ লাখ ডলার খরচ হয়। তাই সব অন্য ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে তবেই সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ জেট দিয়ে ড্রোন নামানো ব্যয়বহুল হলেও, কিছু ক্ষেত্রে সেটিকেই তুলনামূলক কম ক্ষতির পথ বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধের অর্থনীতি কতটা কঠিন হলেই এমন সিদ্ধান্ত ‘যৌক্তিক’ মনে হয়, সেটাই এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে কড়া শিক্ষা।

এই জায়গায় উপসাগরীয় দেশগুলো পরামর্শ নিচ্ছে ইউক্রেনের কাছ থেকে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ইউক্রেন সস্তা ও কার্যকর ড্রোন প্রতিরোধে এক ধরনের বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ফ্লাই গ্রুপের কর্মকর্তা আনাতোলি খ্রাপচিনস্কি বলেছেন, হামলাকারী ড্রোন ঠেকানোর সত্যিকারের অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর উপায়ের একটি হলো বিশেষায়িত প্রতিরোধী ড্রোন ব্যবহার করা। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের এমন উন্নত ১০ হাজার প্রতিরোধী ড্রোন মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। ইউক্রেন উপসাগরীয় অঞ্চলে পরামর্শক দলও পাঠিয়েছে। বার্তাটা পরিষ্কার, জঙ্গিবিমান প্রতিরক্ষার অংশ হতে পারে, কিন্তু ভিত্তি হতে পারে না। কারণ শত্রু যদি শত শত সস্তা ড্রোন ছোড়ে, আর আপনি তা লাখ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্রে নামান, তাহলে সেই মডেল বা আদল বেশিদিন টিকবে না।

উপসাগরীয় বাহিনী ইউক্রেনের মতো হেলিকপ্টারও ব্যবহার করছে। হেলিকপ্টার অনেক সময় ড্রোনের কাছাকাছি গতি ও উচ্চতায় কাজ করতে পারে, তাই স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বা অনবোর্ড কামান দিয়ে ড্রোন নামানো তুলনামূলক সুবিধাজনক হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামলাকারী হেলিকপ্টারগুলো এ কাজে দক্ষতার প্রমাণও দিয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, এ অঞ্চলে হেলিকপ্টারের সংখ্যা জঙ্গিবিমানের চেয়ে কম, আর প্রতিটি হেলিকপ্টারও কম এলাকা কভার করতে পারে। ড্রোনবিরোধী বিমানবিধ্বংসী কামান, যা ইউক্রেনে অনেক ব্যবহৃত হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তারও সরবরাহ সীমিত।

ইসরাইলও ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় জঙ্গিবিমান, আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, আর হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে। কিন্তু তারা এমন একটি লেজারভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে, যা প্রতি অবরোধে প্রায় ‘শূন্যের কাছাকাছি’ খরচের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও আলাদা ধরনের ড্রোনবিরোধী প্রতিরক্ষা, বিশেষ করে লেজারভিত্তিক ব্যবস্থা কেনার কথা ভাবছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের যুদ্ধপ্রস্তুতি এখন এক নতুন নীতিতে যাচ্ছে, যতটা সম্ভব সস্তায় যত বেশি আক্রমণ ঠেকানো যায়। কারণ আকাশে কে বেশি আধুনিক, সেটাই আর একমাত্র প্রশ্ন নয়; বরং কে বেশি দিন অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবে, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

তবু প্রতিবেদনে আরেকটি সতর্কতা আছে। সিএসআইএসের টম কারাকো মনে করেন, শুধু খরচের অমিলের দিকে তাকিয়ে থাকলে ভুল হবে। যুদ্ধ সব সময়ই ব্যয়বহুল। তাই মূল বিষয় কেবল খরচ নয়, বরং ‘সহনীয় খরচের অনুপাত’। তার মতে, তেহরানের ড্রোনের মজুত কমিয়ে দেওয়া এবং উৎক্ষেপণক্ষমতা ভেঙে দেওয়া—এটাই শেষ পর্যন্ত বেশি ভাগ্য নির্ধারক হবে। কারণ প্রতিরক্ষা দিয়ে অনির্দিষ্টকাল শুধু বল ঠেকিয়ে যাওয়া যায় না। কখন উৎক্ষেপণ থামানো যাবে, সেটাই আসল। তার কথায়, আপনি অনন্তকাল বসে থেকে শুধু ক্যাচ ধরতে পারেন না।

সব মিলিয়ে আসল শিক্ষা খুব সহজ, আধুনিক যুদ্ধে সব সময় বড় অস্ত্রই বড় শক্তি নয়। কখনও ছোট, সস্তা, ধীর, নিচু দিয়ে উড়া একটি ড্রোন পুরো প্রতিরক্ষা দর্শন পাল্টে দিতে পারে। যে যুদ্ধ একসময় জেট, ক্ষেপণাস্ত্র আর রাডারের ছিল, সেখানে এখন সস্তা ড্রোন কৌশলগত হিসাবের খাতা ওলটপালট করে দিচ্ছে। তাই উপসাগরের আকাশে আজ যে দৃশ্য—দামী জঙ্গিবিমান ছুটছে সস্তা শাহেদের পিছু—তা শুধু সামরিক ঘটনা নয়, এটি অর্থনীতিরও গল্প, ক্লান্তিরও গল্প, আর প্রযুক্তির অহংকার ভেঙে যাওয়ারও গল্প। মশা ছোট হতে পারে, কিন্তু তাকে মারতে যদি বারবার কামানই দাগতে হয়, তাহলে একসময় কামানের পকেট ফাঁকা হয়ে যায়।

সূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস