নির্বাচনের পর পুনর্নিয়োগ পেলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি

ঐতিহাসিক জয়ের ১০ দিন পর জাপানের নিম্নকক্ষ সানায়ে তাকাইচিকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে; তিনি প্রতিরক্ষা জোরদার, ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ কৌশল হালনাগাদ ও অর্থনীতি চাঙ্গা করার অঙ্গীকার করেছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সানায়ে তাকাইচি
সানায়ে তাকাইচি |সংগৃহীত

ঐতিহাসিক জয়ের ১০ দিন পর বুধবার জাপানের নিম্নকক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সানায়ে তাকাইচিকে আবারো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি গত অক্টোবরে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। ৮ ফেব্রুয়ারির আগাম নিম্নকক্ষ নির্বাচনে তার দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।

তিনি জাপানের ভূখণ্ড ও পানিসীমা রক্ষায় প্রতিরক্ষা জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন। এতে বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্ক আরো টানাপোড়েনে পড়তে পারে। পাশাপাশি স্থবির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার কথাও বলেছেন।

শনিবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই বলেন, জাপানের কিছু শক্তি ‘কঠোর সামরিক ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত’ করার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, শুক্রবারের নীতিবক্তৃতায় তাকাইচি জাপানের ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ কৌশলগত কাঠামো হালনাগাদের অঙ্গীকার করবেন।

সোমবার প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বলেন, ‘এফওআইপি প্রথম প্রস্তাবের সময়ের তুলনায় জাপানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা পরিবেশ এখন অনেক বেশি কঠিন।’

বাস্তবে এর অর্থ হতে পারে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ২০২৪ সালে যুক্ত হওয়া ব্রিটেনসহ ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপের (সিপিটিপিপি) মাধ্যমে মুক্ত বাণিজ্য জোরদার করা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকাইচি সরকার একটি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের আইন পাস ও গুপ্তচর-বিরোধী আইন প্রণয়নে সুনির্দিষ্ট আলোচনা শুরুর পরিকল্পনা করেছে।

এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি শ্রমিক সঙ্কট ও জনসংখ্যা হ্রাসে ভুগলেও তাকাইচি অভিবাসন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে খাদ্যে ভোগ কর দু’বছরের জন্য স্থগিত রাখার নির্বাচনী অঙ্গীকারও শুক্রবার পুনর্ব্যক্ত করবেন তিনি।

এই প্রতিশ্রুতিতে জাপানের বিপুল ঋণ নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। গত মাসে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়।

জাপানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মিশন প্রধান রাহুল আনন্দ বুধবার বলেন, ২০২৫ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে ঋণের সুদ পরিশোধ দ্বিগুণ হবে।

তিনি বলেন, ‘খাদ্যে ভোগকর প্রত্যাহার করলে রাজস্ব ভিত্তি দুর্বল হবে। কারণ অর্থনীতিতে বিকৃতি সৃষ্টি না করে, রাজস্ব বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো ভোগকর।’

উদ্বেগ কমাতে তাকাইচি শুক্রবার ‘দায়িত্বশীল ও সক্রিয়’ রাজস্ব নীতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবেন। সরকারি ঋণ কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করবেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বৃদ্ধ জনসংখ্যার বাড়তে থাকা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় কীভাবে জোগান দেয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনায় একটি সর্বদলীয় ‘জাতীয় কাউন্সিল’ গঠনের ঘোষণাও দেবেন তিনি।

তবে তাকাইচির প্রথম কাজ হবে ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন নেয়া। নির্বাচনজনিত কারণে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়েছিল।

সূত্র : বাসস