ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট সরকার ও ভ্যাটিকানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির প্রেক্ষাপটে পোপ চতুর্দশ লিওকে দেশটিতে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ঐতিহাসিক আমন্ত্রণের তথ্য জানিয়েছে।
ভিয়েতনামের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির চেয়ারম্যান ত্রান থান মান শনিবার পোপের কাছে এই ‘অফিসিয়াল আমন্ত্রণপত্র’ হস্তান্তর করেন। কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ও ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লামের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়।
ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ‘ভিয়েতনাম নিউজ অ্যাজেন্সি’ জানিয়েছে, পোপ চতুর্দশ লিও এই আমন্ত্রণের জন্য ‘আন্তরিক ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পোপ আরো বলেন, তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো গভীর করতে আশাবাদী।
১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে হ্যানয় ও ভ্যাটিকানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। তবে সম্পর্ক পুনর্স্থাপনের লক্ষ্যে ২০০৯ সাল থেকে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছে।
দু’পক্ষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ২০২৩ সালে একটি বড় অগ্রগতি হয়। সে সময় ভিয়েতনামে একজন ‘আবাসিক পোপ প্রতিনিধি’ (রেসিডেন্ট প্যাপাল রিপ্রেজেন্টেটিভ) নিয়োগের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।
চতুর্দশ লিওর পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসকেও ভিয়েতনাম সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
পোপের সাথে বৈঠকের সময় ত্রান থান মান বলেন, দু’দেশ তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে উন্নয়নের একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ করে যাবে। জনগণের কল্যাণ এবং বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধির স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বার্তাসংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
ভিয়েতনামে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী রয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ছয় শতাংশ।
ঐতিহাসিকভাবেই ভিয়েতনামের সরকার এই ক্যাথলিকদের সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করে আসছিল। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দেশটির বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগও করে আসছে।
সূত্র : বাসস



