ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১

ভূমিকম্পের পর পর ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। যদিও এটি পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বা্র্তাসংস্থা এপি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের মানাদোতে ভূমিকম্পের পর একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের মানাদোতে ভূমিকম্পের পর একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি |রয়টার্স

৭ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে দেশটিতে এ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

ভূমিকম্পে একজন নিহত ও অসংখ্য ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।।

ভূমিকম্পের পর পর ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। যদিও এটি পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বা্র্তাসংস্থা এপি।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তেরনাত শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে ও প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। । এখানে দুই লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে।

দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূকম্পন সংস্থা (বিএমকেজি) জানায়, পাঁচটি স্থানে সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সুলাওয়েসির উত্তর মিনাহাসায় সর্বোচ্চ ০.৭৫ মিটার উচ্চতার ঢেউ দেখা যায়। এ ছাড়া প্রায় ৫০টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫.৮।

প্রাথমিকভাবে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে বিপজ্জনক সুনামির আশঙ্কা জানানো হলেও পরে সতর্কতা তুলে নেয়া হয়। ফিলিপাইনের ভূকম্পন সংস্থা এবং মালয়েশিয়ার আবহাওয়া বিভাগও জানায়, তাদের দেশে তাৎক্ষণিক সুনামি ঝুঁকি নেই, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উত্তর সুলাওয়েসির মানাডো শহরে একটি ভবনের অংশ ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত ওই ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, গত ৫০ বছরে এই অঞ্চলের ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ৭ বা তার বেশি মাত্রার আরো কয়েকটি ভূমিকম্প ঘটেছে, তবে সেগুলোর অধিকাংশেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

প্রাথমিক তথ্যে অবশ্য বলা হয়েছিল ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলেছিল মালাক্কা সাগরে ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়েছে। তবে পরবর্তীতে তথ্যে পরিবর্তন আনা হয়।

প্রাথমিক কম্পন ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল এবং বিটুং ও টারনেট শহরে তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র পড়ে যায়।

দুর্যোগ সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকার এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স, এপি।